📌 হ্যালোউইন ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মৃত আত্মা ও অতিপ্রাকৃত বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে ৭টি ঐতিহ্যবাহী ভৌতিক উৎসব পালিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হ্যালোউইন থেকে শুরু করে চীন ও জাপানের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান পর্যন্ত এই উৎসবগুলোর রীতিনীতি কীভাবে পালিত হয়, তা জানুন
হ্যালোউইন বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ভূতকেন্দ্রিক উৎসবগুলোর একটি। তবে মৃত আত্মা, পূর্বপুরুষের স্মৃতি ও অতিপ্রাকৃত বিশ্বাসকে ঘিরে এই উৎসব ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে নানা ঐতিহ্যবাহী ভৌতিক উৎসব। কোথাও ভূতের সাজে মেতে ওঠে মানুষ, কোথাও মৃত স্বজনদের জন্য বিশেষ বেদি সাজানো হয়। চলুন জানি বিশ্বের ৭টি ভৌতিক উৎসবের রীতিনীতি ও ঐতিহ্য:
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **হ্যালোউইন (৩১ অক্টোবর)**: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশে পালিত এই উৎসবের উৎপত্তি প্রাচীন কেল্টিক উৎসব ‘সামহাইন’ থেকে। বিশ্বাস করা হয়, এ রাতে জীবিত ও মৃতদের জগতের সীমা ক্ষীণ হয়ে যায়। বর্তমানে আয়োজিত হয় ভূতুড়ে সাজসজ্জা, কস্টিউম পার্টি ও শিশুদের ‘ট্রিক অর ট্রিট’ কার্যক্রম।
- 📌 **অল সেইন্টস ডে (১ নভেম্বর) ও অল সোলস ডে (২ নভেম্বর)**: ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে এই দিনগুলোতে পরিবারগুলো মৃত স্বজনদের স্মরণ করে। কবরের কাছে মোমবাতি জ্বালানো ও প্রার্থনা করা হয় তাদের আত্মার শান্তির জন্য।
- 📌 **হাংরি ঘোস্ট ফেস্টিভ্যাল (চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া)**: চন্দ্রপঞ্জিকার সপ্তম মাসে (আগস্ট-সেপ্টেম্বর) পালিত এই উৎসবে মৃতদের আত্মা ও অতৃপ্ত আত্মাদের শান্তি কামনা করে খাবার, ধূপ ও কাগজের টাকা পোড়ানো হয়।
- 📌 **ওবোন (জাপান)**: জুলাই-আগস্ট মাসে পালিত এই উৎসবে বিশ্বাস করা হয় পূর্বপুরুষদের আত্মা পরিবারে ফিরে আসে। তাদের স্বাগত জানাতে বাড়িতে আয়োজন করা হয় এবং ‘তোরো নাগাসি’ নামে নদীতে লণ্ঠন ভাসানো হয়।
- 📌 **ভূত চতুর্দশী (বাংলাদেশ ও ভারত)**: দীপাবলি বা কালীপূজার আগের দিনে পালিত এই উৎসবে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয় এবং ১৪ ধরনের শাক খাওয়া হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে ১৪ পুরুষের আত্মা মর্ত্যে ফিরে আসেন।
- 📌 **দিয়ে দে লস মুয়ের্তোস (মেক্সিকো)**: ১ ও ২ নভেম্বর পালিত এই উৎসবে মৃতদের স্মরণে বেদি সাজানো হয়। বেদিতে রাখা হয় মৃত প্রিয়জনদের ছবি, পছন্দের খাবার ও মাথার খুলির আদলে তৈরি মিষ্টি। বিশ্বাস করা হয়, এ সময় মৃত আত্মারা পরিবারে ফিরে আসে।
- 📌 **ফেত গেদে (হাইতি)**: নভেম্বরের শুরুতে পালিত এই উৎসবে মৃতদের স্মরণে শোভাযাত্রা, নাচ ও গান হয়। মুখে সাদা পাউডার মাখানো ও কালো/বেগুনি পোশাক পরা হয়। ভুডু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই উৎসব ব্যারন সেমেদি দেবতাকে সম্মান করে।
📰 বিস্তারিত
হ্যালোউইন ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মৃত্যুর পরের জগত ও অতিপ্রাকৃত বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে নানা রকম ভৌতিক উৎসব পালিত হয়। এই উৎসবগুলোতে মৃত আত্মাদের শান্তি কামনা, পূর্বপুরুষদের স্মরণ বা অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের মাধ্যমে মানুষের ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হ্যালোউইন ছাড়াও ইউরোপের ‘অল সেইন্টস ডে’ ও ‘অল সোলস ডে’ উৎসবগুলোতে পরিবারগুলো মৃত স্বজনদের স্মরণ করে। এদিকে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ‘হাংরি ঘোস্ট ফেস্টিভ্যাল’-এ মৃতদের আত্মাকে শান্ত করার জন্য খাবার ও ধূপ উৎসর্গ করা হয়। জাপানের ‘ওবোন’ উৎসবে পূর্বপুরুষদের আত্মাকে স্বাগত জানানো হয় এবং তাদের বিদায় জানানোর প্রতীক হিসেবে নদীতে লণ্ঠন ভাসানো হয়।
বাংলাদেশ ও ভারতের ‘ভূত চতুর্দশী’ উৎসবে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয় এবং ১৪ ধরনের শাক খাওয়া হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে ১৪ পুরুষের আত্মা মর্ত্যে ফিরে আসেন। মেক্সিকোর ‘দিয়ে দে লস মুয়ের্তোস’ উৎসবে মৃতদের স্মরণে বিশেষ বেদি সাজানো হয়, যেখানে মৃত প্রিয়জনদের ছবি, পছন্দের খাবার ও মিষ্টি রাখা হয়। হাইতির ‘ফেত গেদে’ উৎসবে মৃতদের স্মরণে শোভাযাত্রা, নাচ ও গান হয় এবং মুখে সাদা পাউডার মাখানো হয়।
"বছরের এই সময়ে হিম হিম আবহাওয়া আর দীর্ঘ রাতগুলো এসব ভাবনাকে আরও বেশি গভীর করে তোলে। তাই তো হ্যালোউইন ছাড়াও বিভিন্ন দেশে যুগ যুগ ধরে নানা ভৌতিক উৎসব পালিত হয়ে আসছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, জাপান, বাংলাদেশ, ভারত, মেক্সিকো, হাইতি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কেল্টিকদের, বাঙালি, মানুষ, মৃত স্বজনদের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭টি উৎসব; ৩১ অক্টোবর; ১ নভেম্বর; ২ নভেম্বর; ১৪টি প্রদীপ; ১৪ ধরনের শাক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!