📌 ১৬ বছর আগে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পরও পদোন্নতি পায়নি হাজারো শিক্ষক। আইনি জটিলতা মেটে গেলেও পদোন্নতির কার্যক্রম এখনও ধীরগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রস্তুতির কাজ চলছে।
১৬ বছর আগে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগদানের পরও পদোন্নতি পায়নি হাজারো সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক। দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা মেটে গেলেও পদোন্নতির কার্যক্রম এখনও ধীরগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। রংপুর বিভাগের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক বলেছেন, তিনি ১৩ বছর পদোন্নতির অপেক্ষায় ছিলেন। গত জুনে আদালতের রায়ের পর পদোন্নতির কাজ শুরু হলেও নথিপত্রের কারণে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় লেগেছে। এখনও পর্যন্ত পদোন্নতির চিঠি পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৬ বছর আগে যোগদান করলেও** সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি পায়নি ১৩ বছর পর্যন্ত
- 📌 **৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ** শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দরকার
- 📌 **আদালতের রায়ের পরও** পাঁচ মাসের বেশি সময় লেগেছে নথি যাচাইয়ে
- 📌 **জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রস্তুতির কাজ** এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, পদোন্নতির সময়সীমা অজানা
- 📌 **২০১৩ সালের জাতীয়করণের সময়** ৫০% চাকরিকাল বিবেচনা করা হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
গত জুনে আপিল বিভাগের আদালতের রায়ের পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) পদোন্নতির কার্যক্রম শুরু করেছিল। তবে আদালতের রায়ের অনুলিপি পেতে প্রায় পাঁচ মাস লেগেছে। এখন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী জানিয়েছেন, আদালতের রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর থমকে থাকা প্রশাসনিক কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। তবে জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রস্তুতির কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
মহাপরিচালক জানান, দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের চাকরির নথি, সার্ভিস বুক, বদলির তথ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করতে হচ্ছে। কোনো যোগ্য শিক্ষক যেন ভুল তথ্যের কারণে বাদ না পড়েন, সে জন্য মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। জ্যেষ্ঠতার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ধাপে ধাপে পদোন্নতির আদেশ দেওয়া হবে। তবে তালিকা প্রস্তুত ও যাচাইয়ের কাজ শেষ করে কবে নাগাদ পদোন্নতির আদেশ দেওয়া সম্ভব হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। তখন প্রণীত বিধিমালার ৯(১) বিধি অনুযায়ী, জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের আগের চাকরির ৫০ শতাংশ সময়কে কার্যকর চাকরিকাল হিসেবে গণনা করে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের বিধান রাখা হয়। তবে আদালতের রায় অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগ পাওয়া সরকারি শিক্ষকেরা জ্যেষ্ঠতার তালিকায় অগ্রাধিকার পাবেন। অন্যদিকে ২০১৩ সালের পরে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের সঙ্গে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের আগের চাকরির ৫০ শতাংশ কার্যকর চাকরিকাল বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ঢাকার একজন সহকারী শিক্ষক (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন, ‘১৩ বছর আমাদের মামলা আর আইনি জটিলতার পেছনে শেষ হয়েছে। জুনে রায় হওয়ার পরও নথির কারণে পাঁচ মাস পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এখন ডিপিইর কাছে আমাদের একটাই দাবি—আর যেন কোনো নতুন আমলাতান্ত্রিক অজুহাতে সময় নষ্ট করা না হয়। দ্রুত জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রকাশ করে পদোন্নতি দেওয়া হোক।’
অবসর ঘনিয়ে আসা শিক্ষকদের অবস্থা আরও চিন্তাজনক। একজন শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার চাকরির মেয়াদ আর মাত্র দেড় বছর আছে। জেলা থেকে তথ্য যাচাই আর ফাইল চালাচালিতে যদি আবার বেশি সময় চলে যায়, তবে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পদোন্নতি আর দেখা হবে না।’
"আমাদের একটাই দাবি—আর যেন কোনো নতুন আমলাতান্ত্রিক অজুহাতে সময় নষ্ট করা না হয়। দ্রুত জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রকাশ করে পদোন্নতি দেওয়া হোক।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর বিভাগ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, সহকারী শিক্ষক (২ জন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ বছর (অপেক্ষা), ১৩ বছর (পদোন্নতি বন্ধ), ৩৬ হাজার ২৩৫টি (শূন্য পদ), ২৬ হাজার ১৯৩টি (জাতীয়করণ করা বিদ্যালয়), ৫০% (চাকরিকাল বিবেচনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!