📌 ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নির্বাচন স্থগিত করে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছেন। ফাতাহ হামাসকে পিএলওর রাজনৈতিক কর্মসূচি মেনে নিতে বলছে, কিন্তু হামাস দ্বিরাষ্ট্র সমাধান ও ইসরায়েল স্বীকৃতির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে
ফিলিস্তিনি ঐক্যের পথে হামাস ও ফাতাহের মধ্যে তর্কের নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ১০ অক্টোবর নির্বাচন স্থগিত করে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের সাথে জড়িত হচ্ছে ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যের শর্তাবলি, যা ফিলিস্তিনি পুনর্মিলনের জন্য জরুরি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৮ নভেম্বরর নির্বাচন স্থগিত করে আব্বাস ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন পিছিয়ে দিয়েছেন এবং নিজের নির্বাচনের মেয়াদও একই তারিখে বাড়িয়ে দিয়েছেন।
- 📌 ফাতাহ হামাসকে পিএলওর রাজনৈতিক কর্মসূচি মেনে নিতে বলছে, যার মধ্যে ইসরায়েল স্বীকৃতি ও দ্বিরাষ্ট্র সমাধান অন্তর্ভুক্ত।
- 📌 হামাস দ্বিরাষ্ট্র সমাধান ও ইসরায়েল স্বীকৃতির বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে, তবে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে।
- 📌 ফাতাহের দাবি: হামাস যদি তাদের শর্ত মেনে নেয়, তাহলে ফিলিস্তিনি পুনর্মিলন সম্ভব।
- 📌 ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি থেকে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব অর্জনে কোনো বাধ্যতামূলক গ্যারান্টি ছিল না।
📰 বিস্তারিত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ১০ অক্টোবর একটি অধ্যাদেশ জারি করে নির্বাচন স্থগিত করে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের সাথে জড়িত হচ্ছে ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যের শর্তাবলি। ফাতাহের প্রতিনিধিদল, যার নেতৃত্বে ছিলেন জিবরিল রাজুব এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শ্তাইয়েহ, ১৪ অক্টোবর কায়রোতে অনুষ্ঠিত আলোচনায় হামাসকে পিএলওর রাজনৈতিক কর্মসূচি ও চুক্তিগুলো মেনে নিতে বলেছে। তাদের দাবি ছিল হামাসকে ইসরায়েল স্বীকৃতি দিতে হবে এবং দ্বিরাষ্ট্র সমাধান নীতি মেনে নিতে হবে।
ফাতাহের শর্তাবলিতে আরও অন্তর্ভুক্ত ছিল একটি একক বৈধ সশস্ত্র কর্তৃপক্ষ গঠন, পশ্চিম তীর ও গাজা শাসন করার জন্য আব্বাস কর্তৃক নিযুক্ত একটি টেকনোক্র্যাট সরকার এবং ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার একচ্ছত্র দায়িত্ব পিএলওর ওপর ন্যস্ত করা। ফাতাহ হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোকে পিএলও এবং ফিলিস্তিনি জাতীয় কাউন্সিলে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনার আগেই এই প্রতিশ্রুতিগুলোতে স্বাক্ষর করতে বলেছিল।
হামাস নীতিগতভাবে এই শর্তাবলি গ্রহণ করেছে, তবে তারা দ্বিরাষ্ট্র–সংক্রান্ত ধারা এবং ইসরায়েলকে স্বীকৃতির বিষয়ে তীব্র আপত্তি প্রকাশ করেছে। ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নির্বাচনের পর পর্যন্ত পরবর্তী অধিবেশন স্থগিত রেখে কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়েছে। ফাতাহের দাবি, হামাস যদি তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি মেনে নেয়, তাহলে ফিলিস্তিনি পুনর্মিলন সম্ভব। তবে এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যে, কেন ফাতাহ এমন একটি প্রস্তাব দিচ্ছে, যা দীর্ঘ ৩৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে আলোচনার পরও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে?
ফিলিস্তিনি ঐক্যের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে বিভাজন ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে এবং গাজা ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আগেই একটি আন্দোলনকে তার মৌলিক রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সমর্পণ করতে বাধ্য করার মাধ্যমে কোনো ঐক্য অর্জিত হতে পারে না।
১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তিতে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিমন পেরেজ, পিএলওর পক্ষ থেকে মাহমুদ আব্বাস এবং ইসরায়েলের সাথে আলোচনার সময় ইয়াসির আরাফাতের উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে এই চুক্তি ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব অর্জনে কোনো বাধ্যতামূলক গ্যারান্টি দিতে পারেনি।
"অসলো চুক্তির দায়ভার পিএলওর কর্মসূচি কোনো পবিত্র বা অপরিবর্তনীয় বিষয় নয়। গত অর্ধশতকে ফিলিস্তিনি জনগণের কোনো গণতান্ত্রিক অনুমোদন ছাড়াই এটি বারবার পরিবর্তিত হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কায়রো, ফিলিস্তিন, ইসরায়েল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাহমুদ আব্বাস, জিবরিল রাজুব, মোহাম্মদ শ্তাইয়েহ, ইসরায়েলিরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ নভেম্বর, ১০ অক্টোবর, ১৪ অক্টোবর, ২৭ অক্টোবর, ১৩ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!