📌 রংপুরে নিজ বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করে খুনিরা। পুলিশ কমিশনার জানান, মাদক প্রতিবাদই ছিল হত্যার একমাত্র কারণ। ঘটনার পর খুনিরা বাথরুমে গোসল করে ইয়াবা সেবন করে পালিয়ে যায়
রংপুর জেলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় নৃশংসতার নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। নিজ বাসার ছাদে ইয়াবা সেবন করতে আসা দুই ব্যক্তিকে প্রতিবাদ করায় তাদের হত্যা করা হয় বলে দাবি করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদ এ তথ্য জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে নিজ বাসার ছাদে ইয়াবা সেবন প্রতিবাদ করার কারণে
- 📌 হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রংপুরের মাছুয়াপাড়া এলাকায়
- 📌 খুনিরা ছিলেন মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ নামে দুই মামাতো ভাই
- 📌 হত্যার পদ্ধতি ছিল গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করা এবং রশি দিয়ে গলা পেঁচানো
- 📌 হত্যাকাণ্ডের পর খুনিরা বাথরুমে গোসল করে ইয়াবা সেবন করে পালিয়ে যায়
📰 বিস্তারিত
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদ জানান, গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও সম্মানিত ব্যক্তি। তার পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ নামে দুই মামাতো ভাই গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে ইয়াবা সেবন করতে শুরু করে। ছাদ থেকে শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী সেখানে যান। তিনি খালি গায়ে ছিলেন এবং কাঁধে গামছা ছিল। তাদের পরিচয় জানতে চাইলে আসামিরা তাকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (ভোলা) উপরে আসার চেষ্টা করলে তাকে সিঁড়ির মধ্যে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) মায়ের চিৎকার শুনে উপরে আসলে তাকে প্রায় ৫ মিনিট ধরে গলা ও মুখে রশি পেঁচিয়ে ধরে রাখা হয়। এত জোরে টান দেওয়ায় তার চোয়াল ভেঙে যায় এবং চোখ বের হয়ে আসে।
সবাইকে হত্যার পর নিচে নামলে ছোট ছেলে প্রিয়ম (১২) তাদের চিনতে পারে বলে সিদ্ধার্থ সিদ্ধান্ত নেয় তাকে হত্যা করতে হবে। তারা প্রিয়মের গলায় কাপড় পেঁচিয়ে এবং বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। লাশ পাওয়া যায় বিছানার নিচ থেকে।
হত্যার পর খুনিরা সকাল হলে বাথরুমে গোসল করে এবং ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর খায়। সেখানে বসে তারা আরও একটি ইয়াবা সেবন করে, যার আলামত হিসেবে পুলিশ ইয়াবা উদ্ধার করেছে। জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা দেখে তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় এবং লুট করা মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।
"খুনিরা ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে চালাতে ইচ্ছাকৃতভাবে বাসার জিনিসপত্র এলোমেলো করে রেখেছিল। দুইটি ফোন ডিটারজেন্ট দিয়ে পানিতে ভিজিয়ে রেখেছিল যেন কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট না থাকে।"
পুলিশ কমিশনার জানান, খুনি সিদ্ধার্থ পি কে পাল জুয়েলার্সে আট বছর স্বর্ণের কাজ করেছে। সে আসল-নকল স্বর্ণ চিনতে পারে এবং আগুন দিয়ে পরীক্ষা করেছিল। খুনিরা স্বর্ণালংকারসহ লুট করা মালামাল একটি মন্দিরের পেছনের পরিত্যক্ত বাড়ির জায়গায় লুকিয়ে রেখেছিল, যা পুলিশ উদ্ধার করেছে। মুগ্ধ দাস সিটি বাজারের রামনাথের মাছের দোকানে কাজ করে এবং সিদ্ধার্থ মুগ্ধের মামাতো ভাই।
পুলিশ আরও জানায়, সীমান্ত নামে একজনের নাম এসেছে, তবে সে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল না। খুশি ওরফে প্রশান্ত নামে ইয়াবা ব্যবসায়ী মুগ্ধের বাসার সামনে থেকে প্রতি পিস ৩০০ টাকায় ইয়াবা সরবরাহ করত।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুরের মাছুয়াপাড়া এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গণপতি চক্রবর্তী, প্রীতিলতা চক্রবর্তী, প্রার্থী চক্রবর্তী, প্রিয়ম চক্রবর্তী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ জন হত্যা, ২৫ বছর বয়সী মেয়ে, ১২ বছর বয়সী ছেলে, ৫ মিনিট ধরে হত্যা চেষ্টা, ৩০০ টাকা প্রতি ইয়াবা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!