📌 বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রকাশ করেছে যে নিউমোনিয়া রোগীদের ৮৭.৮% রোগীতে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু পাওয়া গেছে। বৈজ্ঞানিক সেমিনারে শ্রমিকদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের রোগের উচ্চ হার ও গবেষণার মূল ফলাফল উপস্থাপন করা হয়
বাংলাদেশে নিউমোনিয়া রোগীদের মধ্যে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু দ্বারা সংক্রমণের হার ৮৭.৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এ তথ্য বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশ্ব ফুসফুস দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নিউমোনিয়া রোগীদের ৮৭.৮ শতাংশের শরীরে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু পাওয়া গেছে
- 📌 লালমনিরহাটের পাথর কাটার কারখানা শ্রমিকদের ৮৯ শতাংশের দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ
- 📌 রংপুরের চালকল শ্রমিকদের ৫২.৩ শতাংশের অন্তত একটি শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ
- 📌 গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ১০০০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ২২.৪ শতাংশের শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ
- 📌 ধূমপান, উচ্চ বয়স ও প্রচলিত রান্নার ধোঁয়া শ্বাসতন্ত্রের রোগের প্রধান কারণ
- 📌 সেমিনারে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ২১টি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব ফুসফুস দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগ আজ বুধবার একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার আয়োজন করে। সেমিনারের মূল থিম ছিল ‘এ লাইফটাইম অফ লাং হেলথ’। অনুষ্ঠানটি বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত বিভাগের ২১টি গবেষণার মূল ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, শ্রমিকদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের রোগের হার বিশেষভাবে উচ্চ। লালমনিরহাটের পাথর কাটার কারখানা শ্রমিকদের মধ্যে ৮৯ শতাংশের দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ লক্ষ্য করা গেছে। রংপুরের চালকল শ্রমিকদের মধ্যে এই হার ৫২.৩ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ধুলার সংস্পর্শে না থাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গের হার মাত্র ১৭.৬ শতাংশ। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক হাজার প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ২২.৪ শতাংশের শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ ছিল। গবেষণায় দেখা যায়, মানুষের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের রোগগুলো বেশি বয়স, ধূমপান ও প্রচলিত দূষণকারী রান্নার কারণে হয়েছে।
সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউর ভিসি অধ্যাপক ডা: এফ এম সিদ্দিকী। তিনি রেসপিরেটরি মেডিসিনে পড়াশোনার পরিবেশ আরো উন্নত করা, রোগীর চিকিৎসায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিশ্চিত করা এবং গবেষণা বাড়ানোর তাগিদ দেন। তিনি বিভাগের প্রয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।
"কারখানা থেকে রান্নাঘর, রান্নাঘর থেকে হাসপাতালের ওয়ার্ড—সব স্থানে মানুষের ফুসফুস সুরক্ষায় দেশীয় গবেষণার তথ্যই পথ দেখাচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ), ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা: এফ এম সিদ্দিকী (বিএমইউ ভিসি), ডা: মো: মাহমুদুর রহমান চৌধুরী (ফেজ-বি রেসিডেন্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৭.৮ শতাংশ (নিউমোনিয়া রোগীদের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু), ২১টি গবেষণা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!