📌 জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ কিশোর ইমনের মা কুলসুম বেগম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতা হুমকি দিয়ে বলেছিলেন ‘লাশ পেয়েছেন কাঁদতে পারবেন না’। মামলায় আসামি রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলাম কারাগারে বন্দী।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বাড্ডায় গুলিতে শহীদ কিশোর ইমনের (১৪) মা কুলসুম বেগম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দিয়েছেন। বুধবার দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি ছেলের মৃত্যু ও লাশ পাওয়ার পর পাওয়া হুমকির কথা তুলে ধরেন। এই মামলায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৪ বছর বয়সী ইমন জুলাই ২০২৪-এর ২০ তারিখ বাড্ডার তেঁতুলতলা মোড়ে আন্দোলনে যোগ দিলে গুলিবিদ্ধ হন
- 📌 মা কুলসুম বেগম লাশ পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের একজন নেতা ধমক দিয়ে বলেন: ‘লাশ পেয়েছেন, কাঁদতে পারবেন না’
- 📌 ৩টি জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাশ বহন করতে বাধা দেন, শেষে ভোলার গ্রামে দাফন হয়
- 📌 কুলসুম বেগম সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামকে দায়ী করেন
- 📌 মামলার আসামি রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলাম কারাগারে বন্দী আছেন
📰 বিস্তারিত
২০২৪ সালের ২০ জুলাই বিকেলে কিশোর ইমন বন্ধু নাঈম ও শাহীনের সঙ্গে বাসা থেকে বের হন। তারা উত্তর বাড্ডার এম জেড হাসপাতালের সামনে তেঁতুলতলার মোড়ে আন্দোলনে যোগ দেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর শাহীন এসে ইমনের বড় ভাই রাজীবকে খবর দেন যে ইমন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। স্বামী ও রাজীবকে নিয়ে কুলসুম বেগম তেঁতুলতলায় ছুটে যান। সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ছেলেকে দেখে তিনি জ্ঞান হারান। জ্ঞান ফেরার পর দেখেন বাসার সামনে ছেলের নিথর দেহ পড়ে আছে।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দেখেন পেছনের খুলিতে ছোট একটি ছিদ্র। বাঁ গালের চামড়া ইঁদুরের গর্তের মতো হয়ে ঝুলে আছে এবং বুকের এক পাশে গুলির চিহ্ন। এ সময় লম্বা চুলওয়ালা একজন আওয়ামী লীগের নেতা এসে তাঁকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘লাশ পেয়েছেন কাঁদতে পারবেন না, না হলে লাশ গায়েব করে দিব’।
কুলসুম বেগম জানান, ছেলের লাশ দাফনের সময় এলাকার মসজিদ থেকে খাটিয়া পাওয়ার সমস্যা হয়। শেষে অন্য মসজিদ থেকে খাটিয়া ও গোসল করানোর লোক এনে ইমনের গোসল করা হয়। জানাজা শেষে রাত ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ নিয়ে ভোলার গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথে তিন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লাশ বহন করতে বাধা দেন। অনেক অনুনয়-বিনয় করার পর তাঁরা ছাড় পান এবং পরদিন ভোলায় ইমনকে দাফন করা হয়।
"আমার ছেলে হত্যার জন্য প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের নেতারা দায়ী। তাঁদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার দাবি করছি"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাড্ডা (ঢাকা), ভোলা (গ্রাম), এম জেড হাসপাতাল (উত্তর বাড্ডা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কুলসুম বেগম (মা), রাশেদ খান মেনন (ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি), কামরুল ইসলাম (সাবেক খাদ্যমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ বছর (ইমনের বয়স), ২০ জুলাই ২০২৪ (ঘটনার তারিখ), ৩টি (বাধা দেওয়া জায়গা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!