📌 ঢাকার গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার যানজটের নতুন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ডিটিসিএর পর্যালোচনা অনুযায়ী, টোলমুক্ত করা, নিচের সড়ক প্রশস্ত করা, আন্তজেলা বাসের পুনর্বিন্যাস এবং রিং রোডের উন্নয়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান প্রস্তাব করা হয়েছে
ঢাকার গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার যানজটের নতুন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ফ্লাইওভারের টোল প্লাজা, র্যাম্প এবং সংলগ্ন বাস টার্মিনালের চারপাশে যান চলাচলে জটিলতা সৃষ্টি করেছে। এই সমস্যার সমাধান করতে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) একগুচ্ছ সুপারিশ করেছে, যার মধ্যে ফ্লাইওভারটি টোলমুক্ত করা, নিচের সড়ক প্রশস্ত করা এবং আন্তজেলা বাসের চলাচল পুনর্বিন্যাস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **টোলমুক্ত করার সুপারিশ**: ফ্লাইওভারটি টোলমুক্ত করা যাতে যানবাহনের গতি বাড়ে এবং সংলগ্ন সড়কেও চাপ কমে।
- 📌 **ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) চালু**: টোল আদায় অব্যাহত থাকলে ইটিসি চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু গুলিস্তান ও চানখাঁরপুলের মতো নতুন যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
- 📌 **বাস টার্মিনালের পুনর্বিন্যাস**: সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের বিদ্যমান র্যাম্প ব্যবহার করে আন্তজেলা বাসের চাপ কমাতে হবে। প্রয়োজনে বাসের জন্য টোলমুক্ত সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
- 📌 **সড়ক প্রশস্ত করার প্রস্তাব**: দোলাইরপাড়ের গোলচত্বরের প্রশস্ততা কমিয়ে সড়কের প্রশস্ততা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
- 📌 **রিং রোডের উন্নয়ন**: মিডল রিং রোডের গাজীপুরের কড্ডা থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঞ্চন পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার কাজ চলছে। ভুলতা থেকে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নের প্রয়োজন।
- 📌 **ফ্লাইওভারের নকশা সমস্যা**: ফ্লাইওভারের শেষ প্রান্ত ও র্যাম্পের অবস্থান অধ্যাপক ড. শামছুল হকের সুপারিশ অনুযায়ী করা হয়নি।
📰 বিস্তারিত
গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার যানজটের নতুন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই ফ্লাইওভারের টোল প্লাজা, ওঠার র্যাম্প, সংযোগ সড়ক এবং আশপাশের বাস টার্মিনাল ঘিরে যান চলাচলে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতির সমাধান করতে ফ্লাইওভারটি টোলমুক্ত করা, নিচের সড়ক প্রশস্ত করা, বাস চলাচল পুনর্বিন্যাসসহ একগুচ্ছ সুপারিশ করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।
বুয়েটের অধ্যাপক ড. শামছুল হকের প্রস্তুত করা প্রতিবেদনের ওপর ডিটিসিএর পর্যালোচনায় বিভিন্ন সুপারিশ উঠে এসেছে। গত মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ বিষয়ে উপস্থাপনা দেওয়া হয়। ডিটিসিএর মতে, ফ্লাইওভারের টোল আদায়ের কারণে যানবাহনের গতি কমার পাশাপাশি সংলগ্ন সড়কেও চাপ তৈরি হচ্ছে। তাই চুক্তির মেয়াদ শেষে জনস্বার্থে ফ্লাইওভারটি টোলমুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।
টোল আদায় অব্যাহত থাকলে সেখানে দ্রুত কাজ করা ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) চালুর কথাও বলা হয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে গুলিস্তান ও চানখাঁরপুলের মতো এক্সিট সড়কে নতুন করে যানজট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। ফ্লাইওভারের ওপর আন্তজেলা বাসের চাপ কমাতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের বিদ্যমান প্রবেশ ও নির্গমন র্যাম্প ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রয়োজনে বাসের জন্য টোলমুক্ত সুবিধা দেওয়ার কথাও বলেছে ডিটিসিএ।
ডিটিসিএর পর্যালোচনায় গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের আশপাশের সড়ক প্রশস্ত করার সুযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। দোলাইরপাড়ের বিদ্যমান গোলচত্বরের প্রশস্ততা কমিয়ে সড়কের প্রশস্ততা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিটিসিএর মতে, রাজধানীর ভেতরে আন্তজেলা বাসের প্রবেশ এবং অবস্থান কমানো গেলে ফ্লাইওভারের ওপর চাপও কমবে।
ডিটিসিএ মনে করছে, শুধু ঢাকার ফ্লাইওভারের আশপাশের সড়ক প্রশস্ত করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য শহরের চারপাশে দ্রুত সার্কুলেশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। মিডল রিং রোডের গাজীপুরের কড্ডা থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঞ্চন পর্যন্ত সড়ক রয়েছে। কাঞ্চন থেকে ভুলতা পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার কাজ চলছে। ভুলতা থেকে মদনপুর হয়ে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু পর্যন্ত সড়কও রয়েছে। তবে এই অংশের প্রশস্ততা বাড়াতে হবে। অন্যদিকে কড্ডা থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত চন্দ্রা হয়ে জাতীয় মহাসড়ক রয়েছে। গাবতলী থেকে বাবুবাজার সেতু, ইকুরিয়া হয়ে এন ৮ পর্যন্ত ইনার রিং রোডের অংশও রয়েছে। রায়েরবাজার থেকে লোহারপুল পর্যন্ত উন্নয়নকাজ চলছে। লোহারপুল থেকে ইকুরিয়া পর্যন্ত বাবুবাজার সেতুসহ সড়ক উন্নয়ন করতে হবে। কেরানীগঞ্জ থেকে এন ৮ মাওয়া-ভাঙ্গা পর্যন্ত সড়কও বিদ্যমান। শুধু এন৪-এর কালাকান্দি থেকে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু পর্যন্ত অংশে নতুন সড়ক নির্মাণের প্রয়োজন হবে।
ফ্লাইওভারের নকশা ও বর্তমান ব্যবস্থাপনাতেও সমস্যা দেখছে ডিটিসিএ। ফ্লাইওভারের শেষ প্রান্ত ও র্যাম্পের অবস্থান অধ্যাপক ড. শামছুল হকের সুপারিশ অনুযায়ী করা হয়নি। সার্বিক বিষয়ে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (পিঅ্যান্ডপি) (অতিরিক্ত সচিব) মো. মশিউর রহমান বলেছেন, ‘মূল কাঠামোর কোনো ক্ষতি না করে ফ্লাইওভারের নিচের সড়কের প্রশস্ততা বাড়ানো যায় কি না, তা যাচাই করে দেখা হবে। টোল থাকবে। তবে ইলেকট্রনিক টোল ব্যবস্থার মাধ্যমে গাড়ির গতি নির্বিঘ্ন রাখা যায় কি না, তা দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
"সেজো মামা, মামী আর মামাতো বোন এই পূজার ছুটিতে কক্সবাজার ঘুরে আসতে চান। যেহেতু লং জার্নিতে বয়স এবং স্বাস্থ্যের কারণে মামার পক্ষে টানা..."
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার), নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কক্সবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ড. শামছুল হক, মো. মশিউর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ (মাওয়া-ভাঙ্গা পর্যন্ত সড়ক), ৮ (কালাকান্দি থেকে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু পর্যন্ত সড়ক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!