📌 ৭ অক্টোবর পর্যন্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন নেওয়া শেষ হয়। রাজনৈতিক কারণে প্রত্যাখ্যাতদের চাপে বুধবার শেষ দিনে মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানান, নতুন আবেদন আর নেওয়া হবে না, কিন্তু সততা যাচাই করে বাদ পড়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ৭ অক্টোবর পর্যন্ত শেষ দিনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক কারণে বারবার প্রত্যাখ্যাতদের চাপে বুধবার সকাল নবতম থেকে বিকেল চারটার মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সামনে পুলিশের পুল ভবনে ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন কয়েক বছর ধরে চলছে। তবে ৭ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি জারি করে মন্ত্রণালয় নতুন আবেদন নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৭ অক্টোবর পর্যন্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন নেওয়ার শেষ দিন ছিল বুধবার। সকাল নবতম থেকে বিকেল চারটার মধ্যে মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক ভিড় দেখা যায়।
- 📌 ৭৩ বছর বয়সী যশোরের আলতাফ হোসেন বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁর নাম আগেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
- 📌 ৭৫ বছর বয়সী মানিকগঞ্জের শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁর নাম কেটে দেওয়া হয়।
- 📌 চাঁদপুরের হায়দার খান বলেন, স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করতে দেয়নি, এমনকি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও।
- 📌 মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানান, নতুন আবেদন আর নেওয়া হবে না, কিন্তু সততা যাচাই করে বাদ পড়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
- 📌 মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নতুন আবেদনকারীদের সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মঙ্গলবার মধ্যে মন্ত্রীর সুপারিশসহ আবেদনগুলি জামুকায় জমা দেওয়া হবে।
- 📌 মুক্তিযোদ্ধারা সরকারকে সতর্ক করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে অমুক্তিযোদ্ধারা তালিকায় ঢুকতে শুরু করেছে।
📰 বিস্তারিত
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সামনে বুধবার ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন নেওয়ার শেষ দিন। সকাল নবতম থেকে বিকেল চারটার মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সামনে পুলিশের পুল ভবনে ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন কয়েক বছর ধরে চলছে। তবে ১ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি জারি করে মন্ত্রণালয় নতুন আবেদন নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ অক্টোবরের পর নতুন আবেদন নেওয়া হবে না।
বিজ্ঞপ্তির পর সারা দেশ থেকে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির চাপ শুরু হয়। বিশেষ করে ২ অক্টোবর থেকে আবেদনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বুধবার শেষ দিন হওয়ায় আবেদনের চাপ সবচেয়ে বেশি ছিল। যশোরের ৭৩ বছর বয়সী আলতাফ হোসেন বলেন, তিনি আগেও গেজেটভুক্তির জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মানিকগঞ্জের ৭৫ বছর বয়সী শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁর নাম কেটে দেওয়া হয়। চাঁদপুরের হায়দার খান বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করতে দেয়নি, এমনকি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বারবার তাঁর নাম কেটে দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের নিচতলায় পুলিশের দুজন সদস্য আবেদন সংগ্রহ করছিলেন। আবেদনগুলি ভবনের পঞ্চম তলায় মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে আবেদনে মন্ত্রীর সুপারিশসহ সই দেওয়া হতো। পরে সেই আবেদন আবেদনকারীদের ফেরত দেওয়া হতো। আবেদনকারীরা তা নিয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) জমা দিতেন।
"স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হয়ে যাচ্ছে। এখন কেন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নতুন করে আবেদন নেওয়া হবে? বিষয়টি স্বাধীনতার পর দু-এক বছরের মধ্যেই শেষ হওয়া উচিত ছিল। যাঁরা এরই মধ্যে আবেদন করেছেন, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁদের চুলচেরা যাচাই-বাছাই করা হবে। কেউ বাদ পড়ে থাকলে, যতজনই আবেদন করুন না কেন, যাচাই করে তাঁদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ কাজ দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে নির্মোহভাবে করা হবে।"
মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানান, নতুন আবেদন আর নেওয়া হবে না। তবে সততা যাচাই করে বাদ পড়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দু-এক বছরের মধ্যে এই কাজ শেষ হওয়া উচিত ছিল। তবে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নতুন আবেদনকারীদের সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মঙ্গলবার মধ্যে মন্ত্রীর সুপারিশসহ আবেদনগুলি জামুকায় জমা দেওয়া হবে।
মুক্তিযোদ্ধারা সরকারকে সতর্ক করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে অমুক্তিযোদ্ধারা তালিকায় ঢুকতে শুরু করেছে। এবার যাতে কোনো অমুক্তিযোদ্ধা তালিকায় ঢুকতে না পারেন, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ঢাকা; যশোর, মানিকগঞ্জ, চাঁদপুর
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, আলতাফ হোসেন, শফিকুল ইসলাম, হায়দার খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৩ বছর (আলতাফ হোসেন), ৭৫ বছর (শফিকুল ইসলাম), ৭ অক্টোবর (আবেদন শেষ তারিখ), ৫৫ বছর (স্বাধীনতার বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!