📌 ঢাকার মেট্রোরেলে ৯০% যাত্রী ব্যাগ পিঠে রাখে, যা স্থান সংকুলান করে এবং অন্যান্য যাত্রীদের কষ্ট দেয়। তরুণ যাত্রীরা ব্যাগ হাতে নেওয়ার বিষয়ে অন্য যাত্রীদের সাথে ঝগড়া করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কমনসেন্সের প্রশ্ন এবং বিদেশের তুলনায় বাংলাদেশে ডিসিপ্লিনের অভাবের প্রতিফলন
ঢাকার মেট্রোরেলে যাত্রীদের মধ্যে একটি বিরূপ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যা যাত্রীদের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেট্রোরেলে ওঠার আগেই ব্যাগ পিঠ থেকে নামিয়ে হাতে নেওয়া যাত্রীদের সংখ্যা মাত্র ১০%। বাকি ৯০% যাত্রী তাদের ব্যাগ পিঠেই রাখে, যা স্থান সংকুলান করে এবং অন্যান্য যাত্রীদের জন্য দাঁড়ানোর জায়গা কমিয়ে দেয়। এমনকি ব্যাগওয়ালা যাত্রীরাও অন্য যাত্রীদের অনুরোধে ব্যাগ হাতে নেওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করে, যা অনেক সময় ঝগড়া ও মারামারিতে পরিণত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মেট্রোরেলে ৯০% যাত্রী ব্যাগ পিঠে রাখে, যা স্থান সংকুলান করে এবং অন্যান্য যাত্রীদের কষ্ট দেয়
- 📌 তরুণ যাত্রীরা ব্যাগ হাতে নেওয়ার বিষয়ে অন্য যাত্রীদের সাথে ঝগড়া করে, যেমন আগারগাঁও থেকে মতিঝিলগামী দু’জনের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা
- 📌 বয়স্ক যাত্রীরা নিজেরাই ব্যাগ পিঠ থেকে নামিয়ে হাতে নিতে পারেন, কিন্তু তরুণ যাত্রীরা এমনকি অন্য যাত্রীদের অনুরোধেও সহযোগিতা করেন না
- 📌 বিদেশের তুলনায় বাংলাদেশে মেট্রোরেলে ডিসিপ্লিনের অভাব লক্ষ্য করা যায়, যেমন সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় যাত্রীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিসিপ্লিন মেনে চলে
- 📌 মিরপুর-১০ থেকে মতিঝিলগামী ট্রেনে ওঠা যাত্রী সাখাওয়াত হোসেন বুলু বলেছেন, ‘এটি শিক্ষিত ব্যক্তির জন্য লজ্জার বিষয়’
- 📌 শেওড়াপাড়া স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার আরশাদ হোসেন বলেছেন, ‘ব্যাগের কারণে অনেক মানুষের কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু তাদের হিতাহিত জ্ঞান কাজ করছে না’
- 📌 ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলমকে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি
📰 বিস্তারিত
মেট্রোরেলে ব্যাগ পিঠে রাখার প্রবণতা যাত্রীদের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণ যাত্রীরা এই বিষয়ে অন্য যাত্রীদের সাথে ঝগড়া করে। আগারগাঁও থেকে মতিঝিলগামী দু’জনের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি এ বিষয়ে একটি উদাহরণ। তাদের পিঠে দুটি বড় ব্যাগ ছিল, যা আরও দু’জনের জায়গা দখল করেছিল। অন্য যাত্রীরা তাদেরকে ব্যাগ হাতে নেওয়ার জন্য বললেও তারা ক্ষেপে উঠে বলল, ‘ব্যাগ কেন হাতে নিবো? আপনি কচু জানেন?’ এই ঘটনা থেকে দেখা যায় যে, অনেক যাত্রী ব্যাগ হাতে নেওয়ার বিষয়ে অন্য যাত্রীদের কথা গ্রহণ করতে চান না।
বয়স্ক যাত্রীরা সাধারণত নিজেরাই ব্যাগ পিঠ থেকে নামিয়ে হাতে নিতে পারেন অথবা অন্য যাত্রীরা তাদেরকে বললে দ্রুত ব্যাগ পিঠ থেকে নামিয়ে নেন। কিন্তু তরুণ যাত্রীরা এমনকি অন্য যাত্রীদের অনুরোধেও সহযোগিতা করেন না। মিরপুর-১০ থেকে মতিঝিলগামী ট্রেনে ওঠা যাত্রী সাখাওয়াত হোসেন বুলু সারাবাংলাকে বলেন, ‘এটি কোনো নির্দেশনার বিষয় নয়, এটি যাত্রীর উপলব্ধির বিষয়। শিক্ষিত কোনো ব্যক্তি এরকম ব্যাগ পিঠে নিয়ে ভ্রমণ করতে পারেন না। মানুষের কষ্ট হয় এরকম কোনো কাজ কারও উচিত না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার মেট্রোতে শুধু ব্যাগের বিষয় নয়, বরং লাইন মেইনটেইন না করা, চলন্ত সিঁড়িতে দখল করা ইত্যাদি বিষয়েও ডিসিপ্লিনের অভাব লক্ষ্য করা যায়। বিদেশে এমনকি চলন্ত সিঁড়িতে দাঁড়ানোর নিয়মও থাকে।’
কারওয়ান বাজার থেকে উত্তরাগামী ট্রেনে ওঠা যাত্রী বজলুর রহমান মানিক বলেন, ‘বয়সে তরুণ এমন যাত্রীরাই ব্যাগের বিষয়টি নিয়ে ঝগড়া লাগায়। কিছু চাকরিজীবী রয়েছে, তারা ব্যাগ পিঠ থেকে হাতে নিতে চান না। কিন্তু যখন সিট পেয়ে বসতে যান তখন ঠিকই ব্যাগ পিঠ থেকে নামিয়ে হাতে নিয়ে বসেন। অথচ পিঠে ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন সেটি বুঝতে পারেন না তারা।’
বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মেট্রোরেলে ডিসিপ্লিনের অভাব লক্ষ্য করা যায়। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় মেট্রোতে যাতায়াত করার অভিজ্ঞতা থাকা একজন ব্যক্তি বলেন, ‘সেখানে সবাই ডিসিপ্লিন মেনে চলে। কেউ কাউকে শিখিয়ে দিতে দেখিনি। সেখানে একজনেরটা আরেকজন দেখে শিখছে। কোথাও কেউ ময়লা ফেলেন না। ট্রেনে ওঠা-নামার ক্ষেত্রে নিয়ম ফলো করছে। স্টেশনে এত স্টাফও নেই, এমনকি পুলিশও নেই, এমনকি আনসারও নেই। চলন্ত সিঁড়ি ব্যবহার করার জন্য একদিকে দাঁড়ান যাত্রীরা। কারও এমার্জেন্সি থাকলে অন্যপাশ দিয়ে দ্রুত উঠতে বা নামতে পারছেন। কারও কষ্ট হবে এরকম কাজ কেউ করেই না। কিন্তু বাংলাদেশে এর ব্যতিক্রম।’
শেওড়াপাড়া স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার আরশাদ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পূর্ণ কমনসেন্সের। ব্যাগের কারণে অনেক মানুষের কষ্ট হচ্ছে। কেউ দাঁড়াতে পারছেন না। নিজেরও কষ্ট হয় দাঁড়িয়ে থাকতে। তবুও তাদের হিতাহিত জ্ঞান কাজ করছে না। বিষয়টি খুবই পীড়াদায়ক।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে পরবর্তী মিটিংয়ে আলোচনা করা হবে এবং মাইকে অ্যালাউন্স দেওয়া হবে।’
"এটি কোনো নির্দেশনার বিষয় নয়। এটি যাত্রীর উপলব্ধির বিষয়। শিক্ষিত কোনো ব্যক্তি এরকম ব্যাগ পিঠে নিয়ে ভ্রমণ করতে পারেন না। মানুষের কষ্ট হয় এরকম কোনো কাজ কারও উচিত না।"
"বিষয়টি সম্পূর্ণ কমনসেন্সের। ব্যাগের কারণে অনেক মানুষের কষ্ট হচ্ছে। কেউ দাঁড়াতে পারছেন না। নিজেরও কষ্ট হয় দাঁড়িয়ে থাকতে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (মিরপুর, আগারগাঁও, কারওয়ান বাজার, শেওড়াপাড়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাখাওয়াত হোসেন বুলু, আরশাদ হোসেন, বজলুর রহমান মানিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০% (ব্যাগ পিঠে রাখা যাত্রী), ১০% (ব্যাগ হাতে রাখা যাত্রী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!