📌 যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানির জন্য দুটি প্রতিষ্ঠানের দর যাচাই শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুমোদিত এই প্রকল্পে গমের দাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়াও, অভ্যন্তরীণ আমন সংগ্রহের জন্য নতুন বস্তা কেনার এবং সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারি চুক্তি (জিটুজি) ভিত্তিতে গম আমদানির জন্য দুটি প্রতিষ্ঠানের দরপ্রস্তাবের যাচাই শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ বুধবার ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **দু’প্রতিষ্ঠানের দর যাচাই**: যুক্তরাষ্ট্রের গম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল ও লুই ড্রেফাস কোম্পানির দরপ্রস্তাবের যাচাই শুরু হবে।
- 📌 **গম আমদানির লক্ষ্য**: ২০২৫ সালের জুলাইতে সইকৃত পাঁচ বছরের সমঝোতা স্মারকের আওতায় বছরে ৭ লাখ টন গম আমদানির লক্ষ্য রয়েছে।
- 📌 **দামের পার্থক্য**: জিটুজি ভিত্তিতে গমের দাম প্রতি টন ৩২২ ডলার, অন্য পদ্ধতিতে প্রতি টন ২৯৭.৯২ ডলার — পার্থক্য প্রায় ২৪ ডলার।
- 📌 **ব্যয় বৃদ্ধি**: ২ লাখ ২০ হাজার টন গম কেনায় সম্ভাব্য বাড়তি ব্যয় ৫৩ লাখ ডলার।
- 📌 **অন্যান্য অনুমোদিত প্রকল্প**: অভ্যন্তরীণ আমন সংগ্রহের জন্য ১ কোটি পাটের বস্তা কেনার (৬৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা) এবং কানাডা-রাশিয়া থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন সার আমদানির (৭০৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা) প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ গম আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গম রপ্তানিকারক সংগঠন ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে পাঁচ বছরের সমঝোতা স্মারক সই করা হয়। এই চুক্তির আওতায় বছরে ৭ লাখ টন গম আমদানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের গম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েশন অনুমোদিত দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে দরপ্রস্তাব নেওয়া হবে। এ দুটি প্রতিষ্ঠান হলো অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল ও লুই ড্রেফাস কোম্পানি।
এ পর্যন্ত অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে পাঁচ বছর মেয়াদি জিটুজির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের গম আমদানি করা হতো। তবে সম্প্রতি লুই ড্রেফাস কোম্পানিকেও অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে গম সরবরাহের জন্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দুটি হয়েছে। গম কেনার অর্থায়ন হবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। তবে গমের দাম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জিটুজি ব্যবস্থায় ২ লাখ ২০ হাজার টন গম কেনার মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রতি টন ৩২২ ডলারে। অন্যদিকে, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে অন্য দেশ থেকে ৫০ হাজার টন গম কেনার দাম প্রতি টন ২৯৭.৯২ ডলার। প্রতি টনে দামের পার্থক্য প্রায় ২৪ ডলার, যা ২ লাখ ২০ হাজার টন গম কেনায় সম্ভাব্য বাড়তি ব্যয়ে পরিণত হয়েছে — প্রায় ৫৩ লাখ ডলার।
অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ আমন সংগ্রহ মৌসুমে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও বস্তায় ভরার জন্য নতুন এক কোটি পাটের বস্তা কিনবে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৬৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। প্রতিটি বস্তার গড় মূল্য পড়বে ৬৩ টাকা ৪২ পয়সা। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এছাড়াও, কানাডা ও রাশিয়া থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়। এতে মোট ব্যয় হবে ৭০৮ কোটি ৭৫ লাখ ৪ হাজার ৪৯০ টাকা। কৃষি ভর্তুকি খাতের বাজেট থেকে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।
"যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে গম আমদানির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এতে দুটি প্রতিষ্ঠানের দরপ্রস্তাবের যাচাই করা হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ লাখ টন (গম আমদানি লক্ষ্য), ২ লাখ ২০ হাজার টন (গম কেনা), ৫৩ লাখ ডলার (বাড়তি ব্যয়), ৬৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা (বস্তা কেনা), ৭০৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা (সার আমদানি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!