📌 ১৯৭১ সালের পানাউল্লারচর বধ্যভূমি দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়েছিল। প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভৈরব বন্ধুসভা শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ পরিষ্কার করে। মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত ইতিহাসের সাক্ষী এই জায়গাটি এখন আবার স্মৃতির আঙিনায় রূপ নেয়েছে
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত স্মৃতির সাক্ষী পানাউল্লারচর বধ্যভূমি অবহেলার কবলে পড়েছিল। তবে ভৈরব বন্ধুসভার সদস্যদের উদ্যোগে এই স্মৃতিস্তম্ভটি পরিষ্কার করে স্মৃতির শ্রদ্ধা জাগিয়ে তুলেছে। প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৫ অক্টোবর বিকেলে এই পরিষ্কারকরণ কাজ সম্পন্ন হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৫ অক্টোবর বিকেলে ভৈরব বন্ধুসভার সদস্যদের উদ্যোগে পানাউল্লারচর বধ্যভূমি পরিষ্কার করা হয়।
- 📌 ১৯৭১ সালের ১৪ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী ভৈরবে প্রবেশ করে এবং পানাউল্লারচরে গণহত্যা চালায়, সাড়ে তিনশত মানুষ শহীদ হন।
- 📌 ব্রহ্মপুত্র নদীর রক্তাক্ত পানিতে ভাসে শহীদদের লাশ, গণকবর দেওয়া হয়।
- 📌 মনচূড়া কফি হাউসের কর্ণধার শাহীন কাদীর বন্ধুদেরকে খিচুড়ি খাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান।
- 📌 সভাপতি জান্নাতুল মিশু বলেন, জায়গাটি মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য হয়ে পড়েছে, পরিষ্কারকরণ দরকার ছিল।
- 📌 প্রতিবেদক সুমন মোল্লা বর্ণনা করেন, পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন সাড়ে তিনশত মানুষ।
📰 বিস্তারিত
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের একটি রক্তাক্ত অধ্যায় হলো ভৈরবের পানাউল্লারচর বধ্যভূমি। প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক সুমন মোল্লা বলেন, ১৪ এপ্রিল ভৈরবে প্রবেশ করে পাকিস্তানি বাহিনী। চারটি জেট বিমান, হেলিকপ্টার ও গানশিপের আকাশে উপস্থিতি ছিল। শুরু হয় নির্বিচার হত্যা, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ। প্রাণ বাঁচাতে হাজারো মানুষ জড়ো হন শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লারচর খেয়াঘাটে। ব্রহ্মপুত্র পাড়ি দিয়ে নরসিংদীর বেলাব উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামে আশ্রয় নেওয়ার উদ্দেশ্যে তারা নৌকায় আরোহণ করেন। কিন্তু খেয়া পার হওয়ার আগেই পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে সাড়ে তিনশত মানুষ শহীদ হন। ব্রহ্মপুত্রের স্বচ্ছ পানি রক্তে লাল হয়ে যায়।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়া এই বধ্যভূমি পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেন ভৈরব বন্ধুসভার সদস্যদের। ২৫ অক্টোবর বিকেলে তারা বালতি, ঝাড়ু ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে বধ্যভূমিতে উপস্থিত হন। ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে পানি আনেন কেউ, ঝাড়ু দেন কেউ, ধুয়ে পরিষ্কার করেন অন্যরা। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বধ্যভূমি তার পুরোনো রূপ ফিরে পায়। পরিষ্কারকরণের সময় অনেক আগ্রহী দেখতে আসেন এবং বন্ধুসভার কাজের প্রশংসা করেন। একজন বলেন, ‘আপনাদের অনেক ধন্যবাদ জায়গাটি পরিষ্কারের জন্য।’
পরিষ্কারকরণ শেষে মনচূড়া কফি হাউসের কর্ণধার শাহীন কাদীর বন্ধুদেরকে আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, ‘সব শেষ করে আমার এখানে খিচুড়ি খেয়ে যাবেন সবাই। আপনাদের এই কাজের জন্য আমার পক্ষ থেকে উপহার।’ বন্ধু প্রিয়াংকা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার। আমরা যেন মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা না করি। জায়গাটিতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা দরকার এবং দেখাশোনা করার জন্য একজন কেয়ারটেকার প্রয়োজন।’
"১৪ এপ্রিল ভৈরবে প্রবেশ করে পাকিস্তানি বাহিনী। আকাশে দেখা গেল চারটি জেট বিমান, একাধিক হেলিকপ্টার ও গানশিপ। শুরু হয় নির্বিচার হত্যা, গুলিবর্ষণ আর অগ্নিসংযোগ। প্রাণ বাঁচাতে হাজারখানেক মানুষ জড়ো হন উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লারচর খেয়াঘাটে। খেয়াঘাটে হাজারো মানুষের ঢল, কিন্তু খেয়া মাত্র একটি। কেউ সাঁতরে, ছোট শিশুদের কোলে নিয়ে যে যাঁর মতো নদী পার হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু খেয়া পার হওয়ার আগেই পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে শহীদ হন সাড়ে তিন শ মানুষ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পানাউল্লারচর, ভৈরব, নরসিংদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুমন মোল্লা, শাহীন কাদীর, জান্নাতুল মিশু, প্রিয়াংকা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৭১, ৯ মাস, ১৪ এপ্রিল, ২৫ অক্টোবর, ২৮তম, সাড়ে তিনশত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!