📌 বাংলাদেশের ১ লাখ ৫০ হাজার পরিত্যক্ত ইভিএমের নিরাপদ নিষ্পত্তি নিয়ে নির্বাচন কমিশন মুখে ‘গলার কাঁটা’। গুদাম ভাড়া, পরিবেশগত ঝুঁকি ও আইনি বাধার কারণে কমিশন দ্রুত সমাধান খোঁজছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডিসপোজাল না করলে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের মারাত্মক হুমকি তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি) মুখে ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার পরিত্যক্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিষ্পত্তির সমস্যা। প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকায় কেনা এই যন্ত্রগুলো বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুদামে ভরাট হয়ে পড়েছে, যা প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা গুদাম ভাড়া বাবদ খরচ করছে। এছাড়া, ইভিএমে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ও ভারী ধাতু থেকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১ লাখ ৫০ হাজার পরিত্যক্ত ইভিএম সারাদেশে ছড়িয়ে আছে, যার মধ্যে ৮৬ হাজারটি বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে (বিএমটিএফ) এবং ৬২ হাজারটি জেলা ও স্থানীয় গুদামে সংরক্ষিত রয়েছে
- 📌 ১ হাজার ২০০টি ইভিএম নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব গুদামে রাখা হয়েছে, যেখানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে যন্ত্রগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে
- 📌 প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা গুদাম ভাড়া বাবদ খরচ হচ্ছে, যা নির্বাচন কমিশনের জন্য ‘বোঝা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে
- 📌 ইভিএমে ব্যবহৃত সীসা, পারদ ও ক্যাডমিয়াম ধাতু থেকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে বলে সতর্ক করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান
- 📌 নির্বাচন কমিশন ১২ অক্টোবর তারিখে সভা করে ইভিএম নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশনা দিয়েছে, তবে আইনি আলামত সংরক্ষণ ছাড়া বাকি যন্ত্রগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে
- 📌 বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, ইভিএমের মেমোরি চিপ সম্পূর্ণ নষ্ট করে ফেলা, মাদারবোর্ড ও ধাতব উপাদানগুলো রিসাইক্লিং করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ই-বর্জ্য রূপান্তর করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যেতে পারে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে ইভিএম অধ্যায় সম্পূর্ণ বাদ পড়ার পর, প্রায় ১০ বছর আগে কেনা ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএমের নিরাপদ নিষ্পত্তি নিয়ে বড় ধরনের বিপাকের মুখে পড়েছে কমিশন। বর্তমানে এই যন্ত্রগুলো দেশের বিভিন্ন গুদামে ভরাট হয়ে পড়েছে, যা প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইভিএমে ব্যবহৃত রিচার্জেবল ব্যাটারি ও ভারী ধাতু (সীসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম) থেকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। যদি এই যন্ত্রগুলো অযত্নে ফেলে রাখা হয়, তাহলে তা মাটি ও পানির মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
দেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নীতিগত ঘাটতি ও আইনের সঠিক বাস্তবায়ন না থাকায় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে ইভিএম নিষ্পত্তির জন্য। কমিটি জেলা পর্যায়ে মামলাসংক্রান্ত আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা জরুরি যন্ত্রগুলোর তালিকা চেয়েছে। তবে বাকি যন্ত্রগুলো কীভাবে বৈজ্ঞানিক ও লাভজনক উপায়ে নিষ্পত্তি করা যায়, সে বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ইভিএমের মেমোরি চিপ সম্পূর্ণ নষ্ট করে ফেলা, মাদারবোর্ড ও ধাতব উপাদানগুলো রিসাইক্লিং করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ই-বর্জ্য রূপান্তর করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যেতে পারে। এছাড়া, নির্বাচন কমিশন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ অন্যান্য আইনি সংস্থার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ করে বাকি ইভিএমগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার পরিকল্পনা করেছে।
"বিশাল পরিমাণের পরিত্যক্ত ইভিএম বর্তমানে দেশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। ইভিএমে ব্যবহৃত সীসা, পারদ ও ক্যাডমিয়াম ধাতু দীর্ঘদিন ধরে খোলা অবস্থায় থাকলে তা লিক হতে পারে, যা মাটি ও পানির মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।"
— ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান
১২ অক্টোবর তারিখে নির্বাচন কমিশনের সভায় ইভিএম নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, ‘ইভিএম নিয়ে অনেক ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন চায়, যত দ্রুত সম্ভব ইভিএমগুলো নিষ্পত্তি করা হোক। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার জন্য যেসব আলামত সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, সেগুলো রেখে দেওয়া হবে। এর পর অবশিষ্ট ইভিএমগুলো দ্রুত ডিসপোজালের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (বিএমটিএফ), সারাদেশের জেলা ও স্থানীয় গুদাম, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব গুদাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, ড. ইফতেখারুজ্জামান (টিআইবি নির্বাহী পরিচালক), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের বিশেষজ্ঞরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ ৫০ হাজার (ইভিএমের সংখ্যা), ৮৬ হাজার (বিএমটিএফে সংরক্ষিত), ৬২ হাজার (জেলা গুদামে), ১ হাজার ২০০ (কমিশনের নিজস্ব গুদামে), ১২ (অক্টোবর, সভার তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!