📌 ওজন কমানোর ওষুধের জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে বিশ্বজুড়ে কসমেটিক সার্জারির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। আইএসএপিএসের জরিপে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ১ কোটি ৭৯ লাখ অস্ত্রোপচার হলেও লিপোসাকশন ও স্তন বড় করার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে ফেসলিফট ও বডিলিফটের চাহিদা বাড়ছে
ওজন কমানোর ওষুধের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে কসমেটিক সার্জারির চাহিদা বদলে দিচ্ছে। অস্ত্রোপচার ছাড়াই ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার ফলে লিপোসাকশনসহ বিভিন্ন সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। তবে দ্রুত ওজন কমার পর ত্বক ঝুলে যাওয়ার সমস্যা মোকাবিলায় ফেসলিফট, বডিলিফট ও স্তন উন্নতকরণের মতো অস্ত্রোপচারের চাহিদা বাড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ১ কোটি ৭৯ লাখ কসমেটিক সার্জারি সম্পন্ন হলেও পুরুষদের চাহিদা ১৪ শতাংশ কমেছে, নারীদের ৭.৭ শতাংশ কমেছে।
- 📌 লিপোসাকশনের চাহিদা ১১.৪ শতাংশ কমেছে, স্তন বড় করার অস্ত্রোপচারের চাহিদা ১৯ শতাংশ (২০২৪ সালের ১৭ শতাংশের পর আরও কমেছে)।
- 📌 হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলারের চাহিদা ২৫ শতাংশ কমেছে, কারণ মানুষ স্বাভাবিক আকৃতির স্তনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
- 📌 দুবাইয়ের প্লাস্টিক সার্জন সঞ্জয় পারাশার বলেছেন, ওজন কমানোর ওষুধের সহজলভ্যতা লিপোসাকশনের চাহিদা কমাচ্ছে, কিন্তু ত্বক ঝুলে যাওয়ার সমস্যা মোকাবিলায় ফেসলিফটের চাহিদা বাড়ছে।
- 📌 ২০২৫ সালে সবচেয়ে জনপ্রিয় অস্ত্রোপচার ছিল চোখের পাতার সার্জারি (২৪ লাখ ৬০ হাজার)।
📰 বিস্তারিত
মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব অ্যাসথেটিক প্লাস্টিক সার্জনস (আইএসএপিএস) ৫১টি দেশের ২ হাজার ৯০০-এর বেশি প্লাস্টিক সার্জনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একটি জরিপ পরিচালনা করেছে। জরিপে দেখা যায়, ওজন কমানোর ওষুধের জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে লিপোসাকশনসহ বিভিন্ন কসমেটিক সার্জারির চাহিদা কমছে। তবে ত্বক ঝুলে যাওয়ার সমস্যা মোকাবিলায় ফেসলিফট ও বডিলিফটের চাহিদা বাড়ছে।
দুবাইয়ের কোকুনা সেন্টার অব অ্যাসথেটিক ট্রান্সফরমেশনের প্রধান নির্বাহী ও সার্জন সঞ্জয় পারাশার বলেছেন, ওজন কমানোর ওষুধের সহজলভ্যতা কসমেটিক চিকিৎসার চাহিদা বদলে দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, মুখ ও শরীরের জেদি চর্বি কমাতে এসব ওষুধ কার্যকর হওয়ায় লিপোসাকশনের প্রয়োজন কমছে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ঝুলে যাওয়া ত্বক অপসারণ এবং মুখ ও শরীরের ত্বক টানটান করার অস্ত্রোপচারের চাহিদা বাড়ছে।
পারাশার আরও বলেছেন, ভবিষ্যতে জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ আরও সহজলভ্য হলে এ পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে তিনটি হরমোন রিসেপ্টরে কাজ করা পরীক্ষাধীন ওষুধ রেটাট্রুটাইড ওজন সর্বোচ্চ ২৮ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে বলে প্রাথমিক পরীক্ষায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে ওষুধটির নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এখনো হয়নি।
দুবাইয়ের আরেক প্লাস্টিক সার্জন দিমিত্রি মেলনিকভ বলেছেন, মানুষ এখন তুলনামূলক ছোট ও স্বাভাবিক আকৃতির স্তনের প্রতি বেশি আগ্রহী। মুখে অতিরিক্ত ফিলার ব্যবহারের বদলে ত্বকের গুণমান ও শরীরের নিজস্ব কোলাজেন উৎপাদন বাড়ানোর চিকিৎসাও জনপ্রিয় হচ্ছে।
বিশ্বখ্যাত প্রসাধনী প্রতিষ্ঠান লরিয়ালের প্রধান নির্বাহী নিকোলা হিয়েরোনিমাস বলেছেন, ওজন কমানোর ওষুধ সৌন্দর্যশিল্পে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে। দ্রুত ওজন কমার পর ত্বক ঝুলে যাওয়ার সমস্যা মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটি জিএলপি-১ ওষুধের পাশাপাশি ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরি করছে।
দুবাইয়ের এনএমসি রয়্যাল হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জন বিকাশ ভার্মা মন্তব্য করেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্লিনিকের সংখ্যা বৃদ্ধি, তীব্র মূল্য প্রতিযোগিতা ও দ্রুত ফল পাওয়া যায় এমন আক্রমণাত্মক চিকিৎসার প্রতি আগ্রহও অস্ত্রোপচারের চাহিদা কমার কারণ।
"ওজন কমানোর ওষুধের সহজলভ্যতা কসমেটিক চিকিৎসার চাহিদা বদলে দিচ্ছে। মুখ ও শরীরের জেদি চর্বি কমাতে এসব ওষুধ কার্যকর হওয়ায় লিপোসাকশনের প্রয়োজন কমছে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ঝুলে যাওয়া ত্বক অপসারণ এবং মুখ ও শরীরের ত্বক টানটান করার অস্ত্রোপচারের চাহিদা বাড়ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্বজুড়ে (৫১টি দেশের জরিপ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সঞ্জয় পারাশার, দিমিত্রি মেলনিকভ, নিকোলা হিয়েরোনিমাস, বিকাশ ভার্মা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ কোটি ৭৯ লাখ (কসমেটিক সার্জারি), ১৪ শতাংশ (পুরুষদের চাহিদা কমেছে), ৭.৭ শতাংশ (নারীদের চাহিদা কমেছে), ২৮ শতাংশ (রেটাট্রুটাইড ওষুধের সম্ভাব্য ফল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!