📌 গঙ্গা-পদ্মা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১২ ডিসেম্বর। নতুন চুক্তি না হলে বাংলাদেশের ৫ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও সুন্দরবনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভারতের সাথে আলোচনা বিলম্বিত হচ্ছে
গঙ্গা-পদ্মা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১২ ডিসেম্বর। নতুন চুক্তি না হলে বাংলাদেশের ৫ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও সুন্দরবনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়াও, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত গঙ্গা-পদ্মা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ। নতুন চুক্তি না হলে বাংলাদেশের ৫ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।
- 📌 পদ্মা নদীর ২ হাজার ৫২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ অববাহিকায় বাংলাদেশের ৫ কোটি মানুষের পাশাপাশি ভারতের ৬৫ কোটি ৫০ লাখ মানুষের বসবাস।
- 📌 গঙ্গার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা ধান ও গমের ফসল নষ্ট হচ্ছে। ৫৫ বছর বয়সী আবু বকর সিদ্দিক বলেছেন, ‘এখন আমরা মাছ পাব কোথায়? আগে আমি অনেক ধরনের মাছ ধরতাম।’
- 📌 ১৯৯৬ সালের ৩০ বছরের মেয়াদি চুক্তি শেষ হচ্ছে। নতুন চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও পুরো নদী অববাহিকাকে বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের পানি বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা।
- 📌 ২০১১ সাল থেকে আটকে আছে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির আলোচনা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সফর নিশ্চিত নয়।
- 📌 পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের আওতায় ৯৫৫ বর্গকিলোমিটার সেচ জমি কমে ৫৫০ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলের ৭২ বছর বয়সী বিকাশ সরেনের স্মৃতিতে এখনো ভাসে গঙ্গার পুরোনো রূপ। একসময় সারা বছর নদীতে বড় বড় নৌকা চলাচল করত। এখন বছরের প্রায় তিন মাস নদীতে পানির প্রবাহ প্রায় দেখাই যায় না। বিকাশ সরেন বলেন, গত মৌসুমে পানির অভাবে ধান ও গমের ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দুই কৃষক আত্মহত্যা করেন। গঙ্গার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় মাছের পরিমাণও কমেছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর অববাহিকায় বাংলাদেশের ৫ কোটি মানুষের পাশাপাশি ভারতের ৬৫ কোটি ৫০ লাখ মানুষের বসবাস। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় শুষ্ক মৌসুমে ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজে পানির ভাগ নির্ধারণ করা হয়। ব্যারাজটি বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উজানে অবস্থিত।
বাংলাদেশের পানি বণ্টনবিষয়ক কারিগরি কমিটির প্রধান রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে নতুন চুক্তি প্রয়োজন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। যৌথ নদী কমিশনের সাবেক সদস্য মালিক ফিদা এ খান বলেছেন, নতুন চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি পুরো নদী অববাহিকাকে বিবেচনায় নিতে হবে।
বাংলাদেশ জানিয়েছে, চুক্তি নবায়নের বিষয়ে আলোচনার অনুরোধ জানানো হলেও ভারত এখনো সাড়া দেয়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নদীসংক্রান্ত বিষয়গুলো যৌথ নদী কমিশনের আলোচনার আওতাভুক্ত। কমিশনের সর্বশেষ কারিগরি বৈঠক হয়েছে গত মে মাসে।
পানি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি, বাংলাদেশ সরকার ২৮০ কোটি ডলারের পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এতে ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান সতর্ক করে বলেছেন, নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
"গঙ্গার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় মাছের পরিমাণও কমেছে। এখন আমরা মাছ পাব কোথায়? আগে আমি অনেক ধরনের মাছ ধরতাম।"
"নতুন চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি পুরো নদী অববাহিকাকে বিবেচনায় নিতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গঙ্গা-পদ্মা নদী অববাহিকা, ফারাক্কা ব্যারাজ, বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিকাশ সরেন (৭২), আবু বকর সিদ্দিক (৫৫), রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মালিক ফিদা এ খান, চৌধুরী সারওয়ার জাহান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ ডিসেম্বর (মেয়াদ শেষ), ২ হাজার ৫২৫ কিলোমিটার (পদ্মা নদীর দৈর্ঘ্য), ৫ কোটি (বাংলাদেশের মানুষ), ৬৫ কোটি ৫০ লাখ (মোট মানুষ), ৩০ বছর (চুক্তির মেয়াদ), ২০ কিলোমিটার (ফারাক্কা ব্যারাজের অবস্থান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!