📌 গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজারে আইন লঙ্ঘন করে নিলামে বিক্রি হয় বিপন্ন শুশুক। ২ হাজার টাকায় বিক্রিত শুশুকের ওজন ছিল ১৫-১৬ কেজি। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে এই বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।
গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজারে আইন লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি হয়েছে বিপন্ন গাঙ্গেয় ডলফিন বা শুশুক। শুক্রবার সকালে মৎস্য আড়তে শুশুকটি ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ থাকলেও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের লঙ্ঘন করে এই বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজারে শুশুক ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়
- 📌 শুশুকের ওজন ছিল ১৫-১৬ কেজি এবং জালে ধরা পড়ে পদ্মা নদীতে
- 📌 বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে
- 📌 গাউসিয়া মৎস্য আড়তের স্বত্বাধিকারী রওশন মোল্লা জানান, শুশুকটি জালে ধরা পড়ে
- 📌 গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মৎস্য বিভাগের কোনো বাধা নেই
- 📌 বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে
📰 বিস্তারিত
শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজারে শুশুকটি বিক্রি হয়। স্থানীয় মৎস্যশিকারি সর্বোচ্চ দর দিলে ২ হাজার টাকায় শুশুকটি বিক্রি হয়। এই সময় বাজারে দুটি বাগাড় মাছও বিক্রির জন্য তোলা হয়েছিল। শুশুক বা বাগাড়-জাতীয় প্রাণী শিকার ও বিক্রি আইনত নিষিদ্ধ। তবে মৎস্য বিভাগের কোনো বাধা না থাকায় বিক্রি সম্পন্ন হয়।
গাউসিয়া মৎস্য আড়তের স্বত্বাধিকারী রওশন মোল্লা জানান, শরিফুল নামের এক জেলে বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ফাঁসন জালে শুশুকটি ধরা পড়ে। শুশুকের ওজন ১৫ থেকে ১৬ কেজি। তিনি বলেন, নদীতে ‘বাচা’ মাছ শিকার করা হয় এমন জেলেদের কাছে শুশুকটি বিক্রি করা হয়েছে। শুশুক দিয়ে ব্যথানাশক তেল তৈরি করা হয়। এ বছর জেলেদের জালে প্রথম শুশুক ধরা পড়েছে বলে জানান তিনি।
বাজারে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম। প্রকাশ্যে শুশুক ও বাগাড় বিক্রির বিষয়টি নজরে আনা হলে তিনি বলেন, এটি বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের বিষয়। এ বিষয়ে মৎস্য বিভাগের কিছু করার নেই। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহাবুব-উল হক বলেন, শুশুক বা বাগাড়-জাতীয় প্রাণী শিকার ও বিক্রি আইনত নিষিদ্ধ। তবে বন বিভাগ বা উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে।
বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শুশুক ও বাগাড় শিকার, হত্যা, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ। গোয়ালন্দ উপজেলা বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফরেস্টার আজিজুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের ঘটনার খবর পেলে জেলা বন কর্মকর্তা বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হবে। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা বলেন, শুশুক বিক্রির বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"আমাদের মৎস্য বিভাগের কোনো বাধা না থাকায় করার কিছুই থাকে না। তবে চাইলে বন বিভাগ বা উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজার, গোয়ালন্দ উপজেলা, রাজবাড়ী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রওশন মোল্লা, আনোয়ারুল ইসলাম, মো. মাহাবুব-উল হক, আজিজুল ইসলাম, সাইফুল হুদা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ হাজার টাকা, ১৫-১৬ কেজি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!