📌 লালমনিরহাটের আদিতমারীতে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে হামলার শিকার হন কলেজশিক্ষক আরিফুল ইসলাম। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ঘটনার জেরে অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে এলাকাবাসী
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে মাদক কারবার ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিবাদ গড়ে তুলে হামলার শিকার হন কলেজশিক্ষক আরিফুল ইসলাম (৩৫)। দীর্ঘ ২১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদিতমারী থানার ওসি নাজমুস সাকিব সজীব।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের প্রভাষক আরিফুল ইসলাম মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলে হামলার শিকার হন
- 📌 গত ১ আগস্ট স্থানীয় সময় বিকেলে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় অভিযুক্ত রহিদুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন দল
- 📌 হামলার পর স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান; পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়
- 📌 গত ৬ আগস্ট তাঁর স্ত্রীর গর্ভে থাকা সন্তানের জন্ম হলেও আরিফুল তাঁর মুখ দেখার আগেই মৃত্যুবরণ করেন
- 📌 হামলার ঘটনায় আরিফুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক গত ২ আগস্ট রহিদুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন
- 📌 মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে ৮ জন আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান; প্রধান অভিযুক্ত রহিদুল ইসলামকে গত ১২ আগস্ট র্যাব ঢাকার হাতিরঝিল নয়াটোলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে
- 📌 আরিফুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন
📰 বিস্তারিত
আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের সচেতন করার উদ্যোগ নেন। তাঁর প্রচেষ্টায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত রহিদুল ইসলাম, হাসান আলী, মেহেদী হাসান, পারভেজ, মমিন মিয়া ও হৃদয় মিয়াসহ কয়েকজনকে জুয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এর ফলে তাঁর ওপর ক্ষোভ তৈরি হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ১ আগস্ট বিকেলে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আরিফুলের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় রহিদুলের নেতৃত্বাধীন দল। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে টানা ২১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, আরিফুলের স্ত্রীর গর্ভে থাকা সন্তানের জন্ম হয় গত ৬ আগস্ট। কিন্তু তাঁর মৃত্যু হওয়ায় তিনি তাঁর নবজাতক সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ পাননি। তাঁর পরিবার এখন শোকাহত অবস্থায় রয়েছে।
আরিফুলের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক গত ২ আগস্ট রহিদুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে আদিতমারী থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে ৮ জন আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। প্রধান অভিযুক্ত রহিদুল ইসলামকে গত ১২ আগস্ট র্যাব ঢাকার হাতিরঝিল নয়াটোলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
আরিফুলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বলে জানান আদিতমারী থানার ওসি নাজমুস সাকিব সজীব। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
"আরিফুলের মৃত্যুর খবরে এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আদিতমারী, লালমনিরহাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরিফুল ইসলাম (৩৫), কলেজশিক্ষক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ দিন (চিকিৎসাধীন সময়), ১ আগস্ট (হামলার তারিখ), ৬ আগস্ট (সন্তানের জন্ম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!