📌 গণমাধ্যম কমিশন গঠনে স্বচ্ছতা ও অংশীজনদের মতামত গ্রহণের জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে। যশোরে আয়োজিত এক নীতি সংলাপে গণমাধ্যম মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিকরা কমিশনের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন
যশোরে আয়োজিত এক নীতি সংলাপে দেশের স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় দ্রুত একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের জন্য সম্মিলিত আহ্বান জানানো হয়েছে। অংশীজনরা বলেন, সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়নে এখন প্রয়োজন একটি অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। শনিবার (২৯ আগস্ট) যশোরে ‘গণমাধ্যম কমিশন: সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে এ দাবি উত্থাপিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে অংশীজনদের মতামত গ্রহণের জরুরি দাবি জানানো হয়েছে
- 📌 এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান বলেন, কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই গণমাধ্যম অংশীজন ও নাগরিকদের মতামত বিবেচনায় নিতে হবে
- 📌 গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ বলেন, জনস্বার্থে সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণের সময় এসেছে
- 📌 যশোরের স্থানীয় দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত বলেন, কমিশনকে জবাবদিহির আওতায় রেখে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে
📰 বিস্তারিত
গণমাধ্যম কমিশন গঠনের মাধ্যমে সরকার স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান অংশীজনরা। তারা বলেন, কমিশন গঠনের আগে গণমাধ্যম মালিক, সম্পাদক, সাংবাদিক সংগঠন, আইন বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিকতা বিষয়ের শিক্ষক, গণমাধ্যম উন্নয়ন সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া জরুরি। স্থানীয় দৈনিক লোকসমাজ ও দৈনিক গ্রামের কাগজের যৌথ উদ্যোগে এবং মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) ও ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া সাপোর্ট (আইএমএস), ডেনমার্কের সহযোগিতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান বলেন, কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই গণমাধ্যম অংশীজন ও নাগরিকদের মতামত বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত ৩১ দফা কর্মপরিকল্পনার আলোকে স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। গণমাধ্যমের মালিকানার ক্ষেত্রে সার্কুলেশন সংখ্যা প্রকাশ ও অডিটে অনিয়মের কথা উল্লেখ করে তিনি পাঠকের আস্থা বৃদ্ধিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের তাগিদ দেন।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান এবং দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ বলেন, জনস্বার্থে সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে এখনই সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণের সময় এসেছে। তিনি সম্পাদকদের জন্য জাতীয় সম্পাদকীয় গাইডলাইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং তা অনুসরণ না করলে জবাবদিহি ব্যবস্থা থাকার দাবি জানান।
"গণমাধ্যম কমিশন সংক্রান্ত আইনের সর্বশেষ যে খসড়া ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে, সরকার চাইলে সেটিকে ভিত্তি করে কাজ শুরু করতে পারে। তবে এ বিষয়ে আলোচনা যেন অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে না থাকে, সেদিকেও নজর দিতে হবে,"
যশোরের স্থানীয় দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত বলেন, কমিশনকে জবাবদিহির আওতায় রেখে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টু সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা, স্বাধীন সাংবাদিকতার উপযোগী বিজ্ঞাপন নীতিমালা এবং নিয়োগ ও ছাঁটাইয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালার দাবি জানান। দৈনিক গ্রামের কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক মবিনুল ইসলাম মবিন বলেন, কমিশন গঠনে জনমত তৈরিতে আরও আলোচনা প্রয়োজন। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অংশীজনরা, হাসিবুর রহমান, কামাল আহমেদ, শান্তনু ইসলাম সুমিত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১ (দফা), ২৯ (আগস্ট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!