📌 সুপ্রিম কোর্টে ২৬৫ জন আইন কর্মকর্তা নিয়োগের পর বিএনপি-সমর্থক আইনজীবীদের একটি অংশ দলীয় প্রভাবহীন নিয়োগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে জামায়াত, এনসিপি ও বিদেশী নাগরিকও নিয়োগ পেয়েছেন। আইনজীবীরা স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিসের দাবি জানাচ্ছেন
সুপ্রিম কোর্টে নতুনভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৬৫ জন আইন কর্মকর্তার মধ্যে দলীয় প্রভাবহীন নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি-সমর্থক আইনজীবীদের একটি অংশ এই নিয়োগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন এবং নিয়োগ বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন। তারা দাবি করছেন, টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পেয়েছেন জামায়াত, এনসিপি ও এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের একজন নাগরিক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৬৫ জন আইন কর্মকর্তা নিয়োগের পর বিএনপি-সমর্থক আইনজীবীদের একটি অংশ আন্দোলন করছে, তাদের মধ্যে ৮৬ জন ডিএজি ও ১৭৯ জন এএজি রয়েছে।
- 📌 মাসে ৮০-৯০ হাজার টাকা সম্মানির এই পদে নিয়োগের জন্য কোনো পরীক্ষা হয় না, যোগ্যতা হিসেবে মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।
- 📌 এবিএম ইব্রাহিম খলিল বলেছেন, জামায়াত, এনসিপি ও বিদেশী নাগরিকদের নিয়োগ টাকার বিনিময়ে হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, সরকারের গোপনীয় বিষয় পরিচালনার জন্য দলীয় প্রভাব থাকা উচিত।
- 📌 আন্দোলনকারীরা অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এর পদত্যাগ চেয়েছেন এবং নিয়োগ বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন।
- 📌 বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিসের সুপারিশ করেছিল, কিন্তু নতুন আইন খসড়া চূড়ান্ত হতে ব্যর্থ হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সুপ্রিম কোর্টে ৩০ জুলাই ২৬৫ জন আইন কর্মকর্তা নিয়োগের পর থেকে বিএনপি-সমর্থক আইনজীবীদের একটি অংশ প্রতিদিন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে আন্দোলন করছেন। তারা দাবি করছেন, এই নিয়োগে দলীয় প্রভাবহীনতা লক্ষ্য করা যায় এবং টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পেয়েছেন জামায়াত, এনসিপি ও এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের একজন নাগরিক। আইনজীবীদের অভিযোগ, এই পদে নিয়োগের জন্য কোনো পরীক্ষা হয় না এবং যোগ্যতা হিসেবে মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। ডিএজি পদে ১০ বছর এবং এএজি পদে ৫ বছর অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।
আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা এবিএম ইব্রাহিম খলিল বলেছেন, “বিএনপির লোক ছাড়া অন্যদের নিয়োগ করার সুযোগ নেই। এখানে সরকারের অনেক গোপনীয় বিষয় থাকে। অতীতেও সব সময় এমন হয়েছিল। কিন্তু এবার জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, সুশীল বেশ কয়েকজন নিয়োগ পেয়েছেন টাকার বিনিময়ে। একজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকও নিয়োগ পেয়েছেন এবং দেশে এসেছেন।” তিনি উল্লেখ করেছেন, মাসে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা সম্মানির এই পদে কেউ কেন বিপুল অর্থ দেবেন, কারণ কোনো সুবিধা নেই।
আইনজীবীদের দাবি, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিসের সুপারিশ করেছিল, যা দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে এবং আদালত ব্যবস্থাপনায় গতি আনতে পারে। তবে নতুন আইন খসড়া চূড়ান্ত হতে ব্যর্থ হয়েছে। আইনজীবী ড. শাহজাহান সাজু বলেছেন, “রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা নিয়োগের ভিত্তি হওয়া উচিত সততা, যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা। সেই সঙ্গে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা উচিত। তাহলে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না।”
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, “আমি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ না। তবে সরকারের নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির সততা, দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠা ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টি বিবেচিত হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ৩৩৭ জন আইন কর্মকর্তা ছিলেন, কিন্তু বর্তমান সরকার মনে করেছে, এত বেশিসংখ্যক প্রয়োজন নেই।
"আমি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ না। তবে সরকারের নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির সততা, দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠা ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টি বিবেচিত হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, সুপ্রিম কোর্ট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এবিএম ইব্রাহিম খলিল, রুহুল কুদ্দুস কাজল, ড. শাহজাহান সাজু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬৫ জন (নিয়োগপ্রাপ্ত), ৮৬ জন (ডিএজি), ১৭৯ জন (এএজি), ৮০-৯০ হাজার টাকা (সম্মানি), ৩৩৭ জন (অন্তর্বর্তী সরকারের আইন কর্মকর্তা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!