📌 বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় নদীভাঙন রোধে প্রস্তাবিত ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে মেহেন্দীগঞ্জে ১৪টি এবং হিজলায় মাত্র ১টি প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য করা হচ্ছে
বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় নদীভাঙনের কারণে জনপদ, ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। তবে নদীভাঙন রোধে প্রস্তাবিত ১৫টি প্রকল্পের বরাদ্দে বৈষম্য দেখা দিয়েছে। মেহেন্দীগঞ্জে ১৪টি প্রকল্পের বরাদ্দ পেয়েছে, যেখানে হিজলায় মাত্র ১টি প্রকল্পের বরাদ্দ রয়েছে। স্থানীয়রা এই বৈষম্যকে দীর্ঘদিনের অবহেলার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান ১৬ জুলাই নদীভাঙন রোধে ১৫টি এলাকার ডিও লেটার দিয়েছেন, যার মধ্যে মেহেন্দীগঞ্জে ১৪টি এবং হিজলায় মাত্র ১টি প্রকল্পের বরাদ্দ রয়েছে
- 📌 মেহেন্দীগঞ্জের ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি ইউনিয়নের ১৪টি এলাকায় প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যেখানে হিজলার মাত্র একটি ইউনিয়নের একটি এলাকাই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত
- 📌 হিজলা উপজেলার বিএনপি নেতা নুরুল আলম রাজু দাবি করেন, ৯০-এর দশক থেকে মেহেন্দীগঞ্জের মানুষ হিজলাকে কলোনি হিসেবে দেখে আসছে এবং উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য করা হচ্ছে
- 📌 হিজলা উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি জাবেদ হোসেন বলেছেন, এই বৈষম্য আগের আমলেও ছিল এবং বরাদ্দ অনুপাতে হিজলার প্রতি অবহেলা করা হয়েছে
- 📌 প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের ঘনিষ্ঠজন দাবি করেছেন, প্রকল্পের সংখ্যা হিজলাবাসীদের দাবির উপর নির্ভর করে এবং বৈষম্য করা হয়নি
📰 বিস্তারিত
বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় নদীভাঙনের কারণে জনপদ, ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। মেঘনা ও অন্যান্য নদীর ভাঙনে এই দুটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে নদীভাঙন রোধে প্রস্তাবিত ১৫টি প্রকল্পের বরাদ্দে বৈষম্য দেখা দিয়েছে। মেহেন্দীগঞ্জে ১৪টি প্রকল্পের বরাদ্দ পেয়েছে, যেখানে হিজলায় মাত্র একটি প্রকল্পের বরাদ্দ রয়েছে।
১৬ জুলাই বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান নদীর তীর প্রতিরক্ষায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডিও লেটার দিয়েছিলেন। এই লেটারে দুই উপজেলার নদীভাঙনকবলিত ১৫টি এলাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এর মধ্যে মেহেন্দীগঞ্জের ১৪টি এলাকা এবং হিজলার একটি এলাকাই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।
হিজলা উপজেলার বিএনপি নেতা নুরুল আলম রাজু বলেছেন, “নদীভাঙন রোধে হিজলায় মাত্র একটি প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া বৈষম্যের অন্যতম নিদর্শন। কারণ, মেহেন্দীগঞ্জের মানুষ হিজলাকে কলোনি মনে করে। এই অবস্থার সৃষ্টি ৯০-এর দশক থেকে। ১৯৯১ সালে বিএনপির মোশাররফ হোসেন মঙ্গু এমপি থাকাকালীন মুলাদীবাসী হিজলাকে কলোনি ভাবতেন। ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনবার মঙ্গু এমপি থাকাকালীন অবহেলিত ছিল হিজলার জনগণ। মঙ্গু মুলাদীর বাসিন্দা হওয়ায় তখন সব উন্নয়ন হয়েছে সেখানে।”
হিজলা উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি জাবেদ হোসেন বলেছেন, “সম্প্রতি নদীভাঙন রোধে ১৫টি স্থান সংস্কারে প্রতিমন্ত্রী সুপারিশ করেছেন। এগুলোর মধ্যে হিজলা গুয়াবাড়িয়ার ঘোষেরচর রয়েছে। বাকি ১৪টি স্পট মেহেন্দীগঞ্জের। এখানে বরাদ্দ অনুপাতে হিজলার প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে। এটা আগের আমলেও হয়েছে।”
হিজলা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন খোকন বলেছেন, “হিজলায় এই বর্ষায় নদীভাঙন রোধে আমরা মানববন্ধনও করেছি। প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানকে এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি, কিন্তু তিনি বলেছেন, হিজলার নদীভাঙন রোধে বড় প্রকল্প হবে। এগুলো খুচরা কাজ, তাৎক্ষণিক বরাদ্দ।”
"প্রতিমন্ত্রী বৈষম্য করেন না। ডিও লেটার কয়টা লাগবে হিজলাবাসীর। হয়তো হিজলার কেউ দাবি করেননি, তাই নদীভাঙন রোধে সেখানে কম প্রকল্প হয়েছে।"
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেছেন, “প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের ডিও লেটার সংবলিত ১৫টি প্রকল্পের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এগুলো অনুমোদিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ শুরু হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. রাজিব আহসান (প্রতিমন্ত্রী), নুরুল আলম রাজু (বিএনপি নেতা), জাবেদ হোসেন (শিক্ষক সমিতির সভাপতি), আলতাফ হোসেন খোকন (বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫টি প্রকল্প, মেহেন্দীগঞ্জে ১৪টি, হিজলায় ১টি; ১৬ জুলাই; ৯০-এর দশক থেকে বৈষম্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!