📌 ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে ক্লোজড ফ্রন্ট টেবিলের ব্যবহার নিয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে। গত এক বছরে ৬০ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হলেও নকল বন্ধ হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, টেবিলের আড়ালে নকল উপকরণ রাখা সহজ হয়ে পড়েছে
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং সন্ধ্যাকালীন পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। গত এক বছরে নকলের দায়ে ৬০ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হলেও অসদুপায় বন্ধ হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে ব্যবহৃত ক্লোজড ফ্রন্ট টেবিলই নকল সহজতর করার মূল কারণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত এক বছরে ৬০ শিক্ষার্থীকে নকলের দায়ে শাস্তি দেওয়া হলেও নকল বন্ধ হচ্ছে না
- 📌 ক্লোজড ফ্রন্ট টেবিলের কারণে শিক্ষার্থীরা নকলের উপকরণ আড়ালে রাখতে পারছে
- 📌 শিক্ষকেরা সাধারণত উত্তরপত্রের দিকে বেশি নজর দেন, টেবিলের নিচের অংশ পর্যবেক্ষণ করা হয় না
- 📌 ১৪টি বিভাগে ক্লোজড ফ্রন্ট টেবিল ব্যবহৃত হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে আইন, আইসিটি, বাংলা, গণিত ও জিওগ্রাফি বিভাগ
- 📌 শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, টেবিল পরিবর্তন না করলে নকল প্রবণতা বাড়বে
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল মালেক মিয়া বলেছেন, টেবিলের বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে
📰 বিস্তারিত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে সেমিস্টার পরীক্ষা, ইনকোর্স, মিডটার্ম ও ক্লাস টেস্টে নকল একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে ব্যবহৃত ক্লোজড ফ্রন্ট টেবিলের কারণে নকলের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই টেবিলের সামনের অংশ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীর নিচের অংশ বাইরে থেকে দেখা যায় না। ফলে টেবিলের আড়ালে নকলের কাগজ বা ডিজিটাল ডিভাইস রাখলে তা শিক্ষকের নজর এড়িয়ে যেতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ক্লোজড ফ্রন্ট টেবিল ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি), আরবি ভাষা ও সাহিত্য, আইন, ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বাংলা, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান, গণিত, পরিসংখ্যান, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষকেরা সাধারণত উত্তরপত্র এবং পরীক্ষার্থীর লেখার দিকে বেশি নজর দেন। ফলে টেবিলের নিচের অংশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয় না। শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, টেবিলের নিচের অংশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ না করলে নকল সহজতর হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির পাঁচটি সভায় নকলের দায়ে অন্তত ৬০ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ২ জুলাই থেকে চলতি বছরের ২২ জুলাই পর্যন্ত এই শাস্তির তথ্য পাওয়া গেছে। সভাগুলোর মধ্যে ২ জুলাই ৭১তম সভায় ৮ জন, ২১ অক্টোবর ৭২তম সভায় ৭ জন এবং ২ ডিসেম্বর ৭৩তম সভায় ১৩ জন শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত ৭৪তম সভায় ১৫ জন এবং সর্বশেষ ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত ৭৫তম সভায় আরও ১৭ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মুমতাহিনা রিনি বলেছেন, ‘এসব টেবিলের কারণে শিক্ষার্থীরা খুব সহজে মোবাইল, কাগজসহ নকলের উপকরণ রাখার সুযোগ পান। শিক্ষকেরা তা ধরতে পারেন না। এসব টেবিল পরিবর্তন করা উচিত।’ আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী রউফুল্লাহ খান বলেছেন, ‘এসব টেবিলের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপদে নকল করা যায়। সেমিস্টার পরীক্ষার পাশাপাশি ইনকোর্স, মিডটার্ম ও ক্লাস টেস্টেও নকল হয়। অতিরিক্ত নকল প্রবণতার কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আস্থা হারাচ্ছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল মালেক মিয়া বলেছেন, ‘এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছি। টেবিলগুলো যদি শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কারণ হয়, তাহলে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে একটা সিদ্ধান্তে আসব। এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না।’
"পরীক্ষায় যেকোনো অসদুপায় ঠেকাতে সভাপতি ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা পরিচালনার নিয়ম পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। পরীক্ষার হলে মোবাইলসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ। অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ৩০ নম্বর সেমিস্টার পরীক্ষার আগে প্রকাশ, সিসিটিভি স্থাপন এবং নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে।"
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি আগে বলেছিলেন, পরীক্ষায় অসদুপায় প্রতিরোধের জন্য সভাপতি ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষার্থী মুমতাহিনা রিনি, রউফুল্লাহ খান, আব্দুল মালেক মিয়া, উপাচার্য ড. এ কে এম মতিনুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ শিক্ষার্থী শাস্তি, ১৪টি বিভাগে ক্লোজড টেবিল, ৫টি সভায় শাস্তি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!