📌 বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ‘কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব’-এ মানবতাবাদী চেতনা ও সম্প্রীতির দর্শনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ভবিষ্যত গড়ার আহ্বান জানানো হয়। ফজলুর রহমান ও ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী উদ্বোধনী বক্তব্যে কবীর ও লালনের দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মাঠে অনুষ্ঠিত ‘কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব’-এ মানবতাবাদী চেতনা ও সম্প্রীতির দর্শনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ভবিষ্যত গড়ার আহ্বান জানানো হয়। শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় এই উৎসবের উদ্বোধন হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মধ্যযুগীয় কবি কবীর ও মরমি সাধক ফকির লালন শাহর দর্শন, গান ও মানবতাবাদী চেতনা নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ‘কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব’
- 📌 ফজলুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সব ধর্মের মানুষ একসাথে বসবাস করবে
- 📌 দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, করোনাভাইরাসের মতো কোনো ধর্মবিশ্বাস মানুষকে আক্রমণ করেনি, তাই লালনের বাণী ‘মানুষের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কোনো বিভেদ নেই’-এর গুরুত্ব বাড়ছে
- 📌 উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বে কবীরপন্থী, রবিদাসপন্থী ও নানকপন্থী শিল্পীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ ও কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরা অংশ নেন
- 📌 উৎসবের আয়োজন ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে, ঢাকার পর বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে
📰 বিস্তারিত
উদ্বোধনী বক্তব্যে ফজলুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি উল্লেখ করেন, কবীর ও লালনের দর্শনে মানুষের জাতপাতের ভেদাভেদ নেই। তাঁর মতে, ‘যদি জীবনের সমস্যা বুঝতে চান, তাহলে কবীরের কাছে যেতে হবে; আর জীবনের রহস্য বুঝতে হলে লালনের কাছে যেতে হবে’। তিনি আরও বলেন, কবীর ও লালনের কথার মূল জায়গা এক—আল্লাহ বা ভগবান এক, তিনি মন্দির বা মসজিদে নন, মানুষের অন্তরে থাকেন।
দীনেশ ত্রিবেদী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজকের অশান্ত পৃথিবীতে কবীর ও লালনের দর্শন লাইটহাউসের মতো পথ দেখাতে পারে। তিনি করোনাভাইরাসের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘করোনাভাইরাস কোনো ধর্ম দেখে মানুষকে আক্রমণ করেনি, এর ভ্যাকসিনও তৈরি হয়েছে সব মানুষের জন্য। এমনকি রক্ত পরীক্ষা করেও মানুষের ধর্ম আলাদা করে চেনা যায় না’। লালনের বাণী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কোনো বিভেদ নেই’। তিনি মানবিকতার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টি এলেও এই প্রদীপ যেন নিভে না যায়’।
বক্তব্য ও আলোচনা শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে কবীরপন্থী, রবিদাসপন্থী ও নানকপন্থী শিল্পীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ ও কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরা ভাবসংগীত পরিবেশন করেন। লালন বিশ্বসংঘের আয়োজনে এই উৎসব ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। ঢাকার পর বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর, রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের শ্রীমঙ্গলে এই উৎসবের আয়োজন করা হবে।
"যদি জীবনের সমস্যা বুঝতে চান, তাহলে কবীরের কাছে যেতে হবে; আর জীবনের রহস্য বুঝতে হলে লালনের কাছে যেতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফজলুর রহমান (সংসদ সদস্য), দীনেশ ত্রিবেদী (ভারতের হাইকমিশনার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ অক্টোবর (উৎসবের শেষ তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!