📌 শরতের বন্যা পানি বাড়ায় মানিকগঞ্জের ঘিওর ও হরিরামপুরে শতবর্ষী নৌকার হাটে ক্রেতার ভিড় বেড়েছে। প্রতি বুধবার ঘিওর ও প্রতি শনিবার হরিরামপুরে হাটে ছোট থেকে বড় নৌকা বিক্রি হয়। নৌকার খরচ বেড়ে গেছে কাঠ ও শ্রমিক মজুরির কারণে, কিন্তু চাহিদা বাড়ায় কারিগরদের জীবিকা নিশ্চিত হচ্ছে
শরতের বন্যা পানি বাড়ায় বাংলাদেশের মানিকগঞ্জের ঘিওর ও হরিরামপুর উপজেলায় শতবর্ষী নৌকার হাটে ক্রেতার ভিড় বেড়েছে। নদ-নদীতে পানির স্তর বৃদ্ধি পেলে এখানে প্রতি বুধবার ঘিওর ও প্রতি শনিবার হরিরামপুরে ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাটে ছোট ডিঙি থেকে বড় নৌকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ঘিওর হাটে প্রতি বুধবার ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার নৌকা বিক্রি হয়। অন্যদিকে, হরিরামপুরের ঝিটকার হাটে প্রতি শনিবারে ৬০ থেকে ৭০টি নৌকা বিক্রি হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় প্রতি বুধবার** শতবর্ষী নৌকার হাটে ৬-৭ লাখ টাকার নৌকা বিক্রি হয়, যেখানে ছোট ডিঙি সবচেয়ে বেশি চাহিদা পায়।
- 📌 **হরিরামপুরের ঝিটকার হাটে প্রতি শনিবার** ৬০-৭০টি নৌকা বিক্রি হয়, ব্রিটিশ আমল থেকে চলমান ঐতিহ্যবাহী এই হাটে বইঠাও বিক্রি হয়।
- 📌 **নৌকার খরচ বেড়েছে** কাঠ, লোহা ও শ্রমিক মজুরির কারণে, কিন্তু পানির স্তর বৃদ্ধি পেলে চাহিদা বাড়ায় কারিগরদের জীবিকা নিশ্চিত হয়।
- 📌 **ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা তুল ইসলাম** বলেছেন, এই হাটটি শত বছরের ঐতিহ্য বহন করে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- 📌 **বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জে** মেঘনা নদীর ভাঙনে ১৫টি জরুরি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র ১টি হিজলায় পড়েছে, বাকি ১৪টি মেহেন্দীগঞ্জে।
📰 বিস্তারিত
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় প্রতি বুধবার বসে শতবর্ষী নৌকার হাট। স্থানীয়রা জানান, এই হাটের ঐতিহ্য শত বছরেরও বেশি। প্রতি বুধবার হাটে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার নৌকা বিক্রি হয়। ছোট ডিঙি নৌকার চাহিদা সবচেয়ে বেশি, তবে কৃষিপণ্য ও পশুখাদ্য পরিবহনের জন্য বড় নৌকাও তৈরি হয়। নৌকার আকার ও কাঠামো নির্ভর করে পানির গভীরতা, ধারণক্ষমতা ও ব্যবহারের ধরন।
গত বুধবার ঘিওর হাটে নৌকা বিক্রি করতে আসা কানাই লাল সূত্রধর বলেন, পানির স্তর বাড়ায় নৌকার চাহিদা বেড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ছোট নৌকাই বেশি বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু কাঠ, লোহা ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় নৌকা তৈরির খরচও আগের তুলনায় বেশি হয়েছে। আশাপুর গ্রামের কৃষক জমসের আলী বলেন, তাঁর এলাকায় পানি বাড়ায় নৌকার প্রয়োজন হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষিকাজ, মাছ ধরা ও যাতায়াতের জন্য একটি নৌকা দরকার ছিল।
নৌকার কারিগর অখিল সূত্রধর জানান, নৌকা তৈরিতে ব্যবহৃত হয় রেইনট্রি, কড়ই, চাম্বল ও মেহগনি সহ বিভিন্ন কাঠ। এছাড়াও লাগে লোহা, পেরেক, তারকাঁটা ও রং। কাঠ, উপকরণ ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় নৌকা তৈরির খরচও বেড়েছে। আরেক কারিগর পরিতোষ বলেন, আগের তুলনায় কাজ কমেছে, কিন্তু পানি বাড়লে নৌকার চাহিদা বাড়ে এবং তখন কাজও বাড়ে। এই মৌসুমি কাজের ওপর নির্ভর করে অনেক কারিগরের সংসার।
এই হাটের মতোই হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকার নৌকার হাটেও প্রতি শনিবার হাট বসে। স্থানীয়রা দাবি করেন, ব্রিটিশ আমল থেকে এখানে প্রতি শনিবার হাট বসে আসছে। একসময় এখানে কয়েকশ নৌকা উঠত, কিন্তু এখন প্রতি হাটে আসে মাত্র ৬০ থেকে ৭০টি। তবে নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করলে ক্রেতার ভিড় বাড়ে। নৌকার পাশাপাশি হাটে বিক্রি হয় বইঠাও। বইঠা বিক্রেতা অজয় সূত্রধর বলেন, নৌকা বিক্রি বাড়লে বইঠার চাহিদাও বাড়ে। ফলে শুধু নৌকা নির্মাতা নন, কাঠ ব্যবসায়ী, করাতকল শ্রমিক, বইঠা নির্মাতা, কামার, রং বিক্রেতা, পরিবহনশ্রমিক, দিনমজুরসহ বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই হাট।
ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা তুল ইসলাম বলেন, ঘিওর নৌকার হাটটি শত বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। তিনি বলেন, প্রতি বুধবার জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌকা আসে এবং ক্রেতাও আসেন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। নদী ও চরাঞ্চলের মানুষের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী এই হাট স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জে মেঘনা নদীর ভাঙন একটি নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। মেঘনা সহ বিভিন্ন নদীর ভাঙনে এই দুই উপজেলায় বিস্তীর্ণ জনপদ, ঘরবাড়ি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। তবে, ভাঙনরোধে প্রস্তাবিত ১৫টি জরুরি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র একটি হিজলায় পড়েছে, বাকি ১৪টি মেহেন্দীগঞ্জে।
"ফের পানি বাড়ায় নৌকার চাহিদা বেড়েছে। ছোট নৌকাই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঠ, লোহা ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় নৌকা তৈরির খরচও আগের তুলনায় বেশি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা, হরিরামপুর উপজেলা, বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কৃষক জমসের আলী, নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা তুল ইসলাম, নৌকার কারিগর অখিল সূত্রধর, পরিতোষ, অজয় সূত্রধর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬-৭ লাখ টাকা, ৬০-৭০টি নৌকা, ১৫টি প্রকল্প (মেহেন্দীগঞ্জে ১৪টি, হিজলায় ১টি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!