📌 সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এতে সংবাদ প্রকাশের কারণে গ্রেপ্তারি করার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে
সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এ নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে এবং আইনের খসড়া পরিমার্জনের কাজ চলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গ্রেপ্তারি নিষিদ্ধ: সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক বা গণমাধ্যমের ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি লাগবে।
- 📌 সাংবাদিকদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ: সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনটি পরিমার্জিত হবে।
- 📌 আইনি প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক: সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ও হয়রানি প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- 📌 মানহানি ও সাইবার বুলিং পৃথক বিবেচনা: মানহানি, হেয় প্রতিপন্নকরণ ও সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো পৃথকভাবে আইনের ধারা পুনর্বিন্যাসের আলোচনা হয়েছে।
- 📌 গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা স্পষ্ট: গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- 📌 সাইবার স্পেসের সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট: সাইবার স্পেসের সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্ট করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
- 📌 মোবাইল কোর্টের বিধান বাদ: আইনে মোবাইল কোর্টের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
- 📌 কনটেন্ট ব্লক করার পূর্বে কারণ জানানো: কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কারণ জানানো হবে।
- 📌 সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য কাঠামো আলোচিত: সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্যকাঠামো ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
- 📌 আন্তর্জাতিক অংশীজনের মতামত বিবেচনা: জাতিসংঘ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহের সঙ্গে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্তকরণের বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনে নতুন বিধান যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনটি পরিমার্জিত হবে। এতে সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সংবাদ প্রকাশের কারণে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ও হয়রানি প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাইবার স্পেসের সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্ট করার বিষয়ে আলোচনা হয়। মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না হয়।
সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্যকাঠামো, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব ও আন্তর্জাতিক অংশীজনের মতামত বিবেচনার বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির পক্ষ থেকে উপস্থাপনা দেওয়া হয় এবং আইসিটি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
"সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিকের অধিকার, মতপ্রকাশের ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফকির মাহবুব আনাম, সালাহউদ্দিন আহমদ, শামা ওবায়েদ ইসলাম, মামুনুর রশীদ ভূঞা, মো. কামরুজ্জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ নভেম্বর ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!