📌 ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬৮ অস্থায়ী কর্মচারী ১০ থেকে ২০ বছর ধরে কাজ করলেও বেতন বন্ধ এবং চাকরি হারানোর আতঙ্কে আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছেন। ইউজিসির নির্দেশে বেতন বন্ধ করা হলেও প্রশাসন তাদের স্থায়ী নিয়োগের দাবি প্রত্যাখ্যান করছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২৬৮ জন অস্থায়ী কর্মচারী ১০ থেকে ২০ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে তাদের বেতন বন্ধ রয়েছে। এতে চাকরি হারানোর আতঙ্কে পরিবার নিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছেন কর্মচারীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ইউজিসির নির্দেশনা ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কর্মচারীরা দাবি করছেন, এই সিদ্ধান্তের পিছনে নতুন নিয়োগের লেনদেনের আশঙ্কা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৬৮ জন অস্থায়ী কর্মচারী** ১০ থেকে ২০ বছর ধরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করলেও বেতন বন্ধ এবং চাকরি হারানোর আতঙ্কে আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছেন
- 📌 **৬২ জন থোক বরাদ্দে** এবং **২০০ জন দৈনিক মজুরিতে** কর্মরত কর্মচারীদের বেতন বাবদ প্রতি মাসে **২১ লাখ টাকা** ব্যয় হতো
- 📌 **২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে** সিন্ডিকেটের অনুমোদনে নন-টেকনিক্যাল কর্মচারীদের বেতন **১০ হাজার টাকা** এবং টেকনিক্যাল কর্মচারীদের **১১ হাজার টাকা** করা হয়েছিল
- 📌 **৫৬ জন কর্মচারী** হাইকোর্টে রিট পিটিশন দিয়েছেন চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে
- 📌 **ইউজিসি** নতুন করে অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং কর্মচারীদের বেতন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে
📰 বিস্তারিত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬৮ জন অস্থায়ী কর্মচারী ১০ থেকে ২০ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে **৬২ জন থোক বরাদ্দে** এবং **২০০ জন দৈনিক মজুরিতে** নিয়োজিত। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অস্থায়ী কর্মচারীদের নিয়োগ দেওয়া হতো। তবে তাদের মধ্যে কেউই স্থায়ী নিয়োগ পাননি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসংকটের কারণে বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ইউজিসির নির্দেশে নতুন অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্মচারীদের বেতন বাবদ প্রতি মাসে **২১ লাখ টাকা** ব্যয় হতো। ইউজিসির বিশেষ বরাদ্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে এতদিন বেতন দেওয়া হতো। তবে অর্থসংকটের কারণে বর্তমানে ঋণ নিয়ে বেতন পরিশোধ করতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়কে। কর্মচারীদের দাবি, ইউজিসির নির্দেশনা আগেও ছিল, কিন্তু কোনো প্রশাসন তাদের বেতন বন্ধ করেনি।
কর্মচারীদের মধ্যে **৫৬ জন** চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, পোষ্য কোটায় নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের স্থায়ী নিয়োগের বিধান থাকলেও কাউকে স্থায়ী করা হয়নি। কর্মচারীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে তাঁর স্ত্রী বা সন্তানদের স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমানে এই সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না।
"তৎকালীন নীতিমালা অনুযায়ী সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে আমাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে চাকরি স্থায়ী করা হবে। কিন্তু এখন সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের দোহাই দিয়ে আমাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। আমরা এখন কোথায় যাব, কী করব, কী পরিচয় দেব? পরিবার নিয়ে এখন আত্মহত্যা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।"
— **কর্মচারী ইমতিয়াজ আহমেদ অন্তু**
ইউজিসির নির্দেশে বেতন বন্ধের পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন করে অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ার কারণে কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা দপ্তর চাইলে কর্মচারীদের কাজে রাখতে পারবে। সে ক্ষেত্রে বেতনের দায়ভার তাদেরই বহন করতে হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কর্মচারী ইমতিয়াজ আহমেদ অন্তু, উপাচার্য ড. এ কে এম মতিনুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬৮ জন কর্মচারী, ৬২ জন থোক বরাদ্দে, ২০০ জন দৈনিক মজুরিতে, ২১ লাখ টাকা মাসিক ব্যয়, ১০ হাজার টাকা (নন-টেকনিক্যাল বেতন), ১১ হাজার টাকা (টেকনিক্যাল বেতন), ৫৬ জন রিট পিটিশনকারী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!