📌 বগুড়ার কাহালু উপজেলার নাজিম উদ্দিন ও মো. স্বপন গুগলে অজ্ঞান করার ওষুধের নাম খুঁজে বন্ধু নিঝুমকে হত্যা করে তার লাশ বস্তায় ভরে গুম করে ফেলেন। হত্যাকাণ্ডের এক মাস পর মামলা দায়ের হয় এবং নাজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়
বগুড়া শহরের সূত্রাপুর এলাকার তৃতীয় লিঙ্গ ব্যবসায়ী নিঝুমকে (৩৭) হত্যার পরিকল্পনা করে গুগলে অজ্ঞান করার ওষুধের নাম অনুসন্ধান করে তার মরদেহ বস্তায় ভরে গুম করে ফেলেন নাজিম উদ্দিন (৩০) ও মো. স্বপন (২৮)। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস পর বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এই ঘটনায় মামলা দায়ের হয় এবং নাজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বগুড়া সদর থানায় নাজিম উদ্দিন ও মো. স্বপনকে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, নাজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে
- 📌 নিঝুমের মা রঞ্জনা বেগমের নামে আশা এনজিও থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বন্ধুদের সাথে ঋণের বিরোধে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়
- 📌 হত্যার আগে নাজিম গুগলে অজ্ঞান করার ওষুধের নাম অনুসন্ধান করে কোমলপানীয়ে বিষ মিশিয়ে নিঝুমকে হত্যা করে তার লাশ বস্তায় ভরে গুম করে ফেলেন
- 📌 নিঝুমের মরদেহ ১২ আগস্ট মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকায় উদ্ধার করা হয়, কিন্তু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নেয়
- 📌 নাজিম উদ্দিন মদনাই গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে, তিনি বেসরকারি সংস্থা আশায় বাবলুর্চি হিসেবে কাজ করতেন
📰 বিস্তারিত
বগুড়া শহরের সূত্রাপুর এলাকার ফল ব্যবসায়ী নিঝুমের (৩৭) হত্যার পিছনে ঋণের বিরোধের জেরে তার বন্ধু নাজিম উদ্দিন (৩০) ও মো. স্বপন (২৮) জড়িত। নাজিম ও স্বপন উভয়েই বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আশায় কর্মরত ছিলেন। নাজিমের বাবা বাবলু মিয়া মদনাই গ্রামের বাসিন্দা। নিঝুমের বাবা রফিকুল ইসলাম সূত্রাপুর এলাকায় ‘নিঝুম এন্টারপ্রাইজ’ নামে ফলের আড়ত ব্যবসা করতেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিঝুম তাঁর মা রঞ্জনা বেগমের নামে আশা থেকে ব্যবসার জন্য সাত লাখ টাকা ঋণ নেন। এর মধ্যে তিন লাখ টাকা বাবাকে ব্যবসার কাজে দেন। বাকি চার লাখ টাকা থেকে স্বপনকে দুই লাখ এবং নাজিমকে এক লাখ টাকা ধার দেন। ধারের টাকা ফেরত চাওয়া ও লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে নাজিম ও স্বপন নিঝুমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট নাজিম কৌশলে নিঝুমকে আশা এনজিওর মালগ্রাম কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে নাজিম তাঁর মোবাইল ফোনে গুগলে অজ্ঞান করার ওষুধের নাম অনুসন্ধান করেন। পরে কোমলপানীয়ে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে নিঝুমকে পান করানো হয়। নিঝুম অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে হত্যা করা হয়। এরপর নিঝুমের মরদেহ একটি বস্তায় ভরে মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকায় ফেলে রাখা হয়। পরদিন ৮ আগস্ট নাজিম ও স্বপন আশা কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান এবং স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
নিঝুম নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর, ১২ আগস্ট বগুড়া শহরের মালগ্রাম-শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ সড়কের পাশে মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকায় বস্তাবন্দী অজ্ঞাতনামা একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে স্বজনেরা মরদেহটি নিঝুমের বলে শনাক্ত করেন। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে।
"নাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।" — বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বগুড়া সদর থানা, মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড়, কাহালু উপজেলা মদনাই গ্রাম, সূত্রাপুর এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাজিম উদ্দিন (৩০), মো. স্বপন (২৮), নিঝুম (৩৭), রফিকুল ইসলাম, বাবলু মিয়া, মো. শরিফুল ইসলাম (এসআই)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৭ (নিঝুমের বয়স), ২৮ (স্বপনের বয়স), ৩০ (নাজিমের বয়স), ৭ (আগস্ট), ৮ (আগস্ট), ৯ (সেপ্টেম্বর), ১২ (আগস্ট), ৫ (দিনের রিমান্ড)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!