📌 ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইলেকট্রিশিয়ান মাঈনুল ইসলামের বিরুদ্ধে চোরাই মালামাল কেনার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আবিদুল হাসান দাবি করেছেন, চুরি করা যন্ত্রপাতি ফেরত পেলেও হাসপাতালের কর্মকর্তারা মিথ্যা মীমাংসা করেছে এবং চোরকে পালাতে সহায়তা করেছে
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইলেকট্রিশিয়ান মাঈনুল ইসলাম (৩৫) এর বিরুদ্ধে চোরাই মালামাল কেনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, চুরি করা মালামাল পরে হাসপাতালের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও হাসপাতালের নষ্ট যন্ত্রাংশকে বিধিবহির্ভূতভাবে বাইরে বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইলেকট্রিশিয়ান মাঈনুল ইসলামের (৩৫) বিরুদ্ধে চোরাই মালামাল কেনার অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আবিদুল হাসান (৪০) দাবি করেছেন, তার ইন্টারিয়র ডেকোরেশন প্রতিষ্ঠান থেকে চুরি করা ১ লাখ ২৮ হাজার টাকার মালামালের মধ্যে রয়েছে ৪৩ হাজার টাকার একটি লেজার মেশিন, ৩৩ হাজার টাকার দুটি হ্যামার ড্রিল এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি।
- 📌 চোর সমির শেখ (৪০) স্বীকার করেছেন, তিনি চুরি করা মালামাল মাঈনুল ইসলামের কাছে বিক্রি করতেন।
- 📌 হাসপাতালের কর্মকর্তারা চোরকে ধরে রাখার পর তাকে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে।
- 📌 মীমাংসা সমাপনে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪৫ হাজার টাকা এবং দুটি যন্ত্র ফেরত দেওয়া হলেও, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
- 📌 হাসপাতালের কর্মচারী অভিযোগ করেছেন, মাঈনুল ইসলাম নিয়মিত চোর চক্রের কাছ থেকে মালামাল কেনেন এবং হাসপাতালের যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজে ব্যবহার করেন।
- 📌 হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. হুমায়ুন কবির সরাসরি কথা বলতে অস্বীকার করেছেন।
- 📌 শুক্রবার ভোরে হাসপাতালের পাশের এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে, যা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়।
📰 বিস্তারিত
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইলেকট্রিশিয়ান মাঈনুল ইসলামের বিরুদ্ধে চোরাই মালামাল কেনার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আবিদুল হাসান জানান, তার ইন্টারিয়র ডেকোরেশন প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে। এসব মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি ৪৩ হাজার টাকার লেজার মেশিন, ৩৩ হাজার টাকার দুটি হ্যামার ড্রিল, একটি সার্কুলার, ২১০০ ওয়াটের একটি রাউটার এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি। মোট বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা।
আবিদুল হাসান বলেন, একটি সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে চোরকে শনাক্ত করে আটক করা হয়। পরে চোর জানায়, চুরি করা মালামাল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইলেকট্রিশিয়ান মাঈনুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী তাকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে গেলে মাঈনুল ইসলামের কাছে লেজার মেশিন ও দুটি হ্যামার ড্রিল পাওয়া যায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, চোরকে ধরে হাসপাতালের একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল। পরে হাসপাতালের কর্মকর্তারা চোরকে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ১ নম্বর কক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের সঙ্গে একটি মীমাংসা হয়। সেখানে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪৫ হাজার টাকা এবং দুটি যন্ত্র ফেরত দেওয়া হয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একটি গোপনে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের কর্মকর্তারা কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছেন।
হাসপাতালের কর্মচারী অভিযোগ করেছেন, মাঈনুল ইসলাম নিয়মিত চোর চক্রের কাছ থেকে অল্প দামে মালামাল কেনেন এবং ভাউচারের মাধ্যমে হাসপাতালের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজে ব্যবহার করেন। এছাড়াও হাসপাতালের নষ্ট যন্ত্রাংশকে চক্রের মাধ্যমে বাইরে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। ওই ব্যক্তি আরও দাবি করেছেন, হাসপাতালের জেনারেটরের তেল কেনার দায়িত্বও মাঈনুল ইসলামের ওপর রয়েছে এবং সেখানে অনিয়ম হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, হাসপাতালের কনফারেন্স রুমের এলইডি টেলিভিশন, এসি, ফ্যানসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম মাঈনুল ইসলামের বাসায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
মাঈনুল ইসলাম নিজে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, ‘ভাই, আমি ঝামেলার মধ্যে আছি। এসব নিয়ে কথা বলতে পারব না।’ হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. হুমায়ুন কবির সরাসরি কথা বলতে অস্বীকার করেছেন। তাঁর সহকারী জানান, তিনি আগামী রোববার বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন।
শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার পর স্থানীয়রা আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে বিষয়টি পাশের লক্ষ্মীছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে জানানো হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
"আমাদের মালামাল পেয়েছি, সমাধান হয়ে গেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নগরকান্দা উপজেলার বিলনালিয়া গ্রাম, বদরপুর মারকাজ মসজিদ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাঈনুল ইসলাম (৩৫), আবিদুল হাসান (৪০), সমির শেখ (৪০), ডা. মো. হুমায়ুন কবির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা (চুরি করা মালামালের মূল্য), ৪৫ হাজার টাকা (ক্ষতিপূরণ), ৩৫ বছর (মাঈনুল ইসলামের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!