📌 সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনীর খসড়ায় গুজব, অপতথ্য ও মানহানির শাস্তি বাড়ানো হয়েছে। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টিআইবি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেক গ্লোবাল। প্রধানমন্ত্রী প্রধানতা জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে
সাইবার অপরাধ ও অনলাইন হয়রানি দমনে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া সরকারের খসড়া প্রস্তাবে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। খসড়ায় গুজব, অপতথ্য, মানহানি, বুলিং ও রাজনৈতিক বক্তব্য থেকে শুরু করে মিম শেয়ার করা পর্যন্ত শাস্তির বিধান প্রস্তাবিত হয়েছে। আইন সংশোধনের মাধ্যমে মৌলিক মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতার ক্ষেত্রে ব্যাপক ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন অংশীজনেরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গুজব ও অপতথ্য প্রচারের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান প্রস্তাবিত হয়েছে।
- 📌 মানহানি ও বুলিং করার জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা প্রস্তাবিত হয়েছে (বর্তমানে ২ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা)।
- 📌 মিম বানানো ও শেয়ার করা একই শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে (ধারা ২৭)।
- 📌 রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার প্রধান হবে প্রধানমন্ত্রী।
- 📌 বেসরকারি কোম্পানির নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিলের বিধান প্রস্তাবিত হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের খসড়ায় সাইবার অপরাধ, সাইবার সুরক্ষা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে একই কাঠামোয় আনা হয়েছে। তবে কোনো ক্ষেত্রটিই যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংশোধনীর খসড়ায় বিভিন্ন বিষয়ের সংজ্ঞা এমনভাবে দেওয়া হয়েছে, যাতে অপব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গুজব বলতে অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত তথ্য, সংবাদ বা দাবিকে বোঝানো হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক বা উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, অপতথ্য মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্যকে বোঝায়, যা ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি, প্রকাশ বা প্রচার করা হয়।
ইফতেখারুজ্জামান, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, “সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের খসড়ায় সাইবার অপরাধ, সাইবার সুরক্ষা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে একই কাঠামোয় আনা হয়েছে। এতে কোনো ক্ষেত্রই যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। সংজ্ঞাগুলো এমনভাবে দেওয়া হয়েছে, যাতে অপব্যাখ্যার সুযোগ থাকে। বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।”
খসড়ায় ধারা ২৫ সংশোধনের মাধ্যমে মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন করা এবং বুলিং যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি ২ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা। তবে সংশোধনীর প্রস্তাবিত শাস্তি ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক বক্তব্য প্রায়ই কোনো ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়। এতে রাজনৈতিক বিরোধী বক্তব্য, সম্পাদকীয় কার্টুন, রাজনৈতিক বিতর্ক ও প্রতিবাদের স্লোগানও শাস্তির আওতায় আনা যেতে পারে।
খসড়ায় ধারা ২৭ অনুযায়ী, শেয়ার করা হলো প্রচার। অর্থাৎ, মিম বানানো বা শেয়ার করা যেকোনো ব্যক্তির জন্য একই শাস্তির আওতায় পড়বে। এছাড়াও, এআই-নির্মিত ও এডিটকৃত উপাদান আইনে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্যঙ্গ, প্যারোডি বা কার্টুনের জন্য কোনো ছাড় নেই। বর্তমান আইনে কোনো কনটেন্ট ব্লক করা হলে, তা জনসমক্ষে না প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে সংশোধনীর খসড়ায় এই বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট বলেছে, এই সংশোধনী অনলাইনে মুক্ত মতপ্রকাশের ওপর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার বাড়াবে। খসড়ায় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার প্রধান হবে প্রধানমন্ত্রী। এই কাউন্সিলে ২৮ সদস্য থাকবেন, যার মধ্যে পাঁচজন মন্ত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা থাকবেন। বেসরকারি পর্যায় থেকে দুজন সদস্য থাকবেন।
"সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের খসড়ায় সাইবার অপরাধ, সাইবার সুরক্ষা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে একই কাঠামোয় আনা হয়েছে। এতে কোনো ক্ষেত্রই যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। সংজ্ঞাগুলো এমনভাবে দেওয়া হয়েছে, যাতে অপব্যাখ্যার সুযোগ থাকে। বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইফতেখারুজ্জামান (টিআইবি নির্বাহী পরিচালক)
- 📌 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ বছর, ৪০ লাখ টাকা, ৫ বছর, ২০ লাখ টাকা, ২৮ সদস্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!