📌 রাজশাহীতে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মেহেদী হাসানকে প্রভাষক সেকেন্দার আলী বাসায় ডেকে ২ হাজার টাকায় খাতা লিখিয়ে দেন। পরীক্ষার্থীর নম্বর ২৫ থেকে বেড়ে ৫০ পয়েন্ট হয়। অভিযোগ স্বীকার করে মেহেদী, কিন্তু প্রভাষক অস্বীকার করেন
রাজশাহীতে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মেহেদী হাসানকে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের খাতায় মোবাইল নম্বর লিখে পাওয়ার পর প্রভাষক সেকেন্দার আলী বাসায় ডেকে ২ হাজার টাকায় খাতা লিখিয়ে দেন। পরীক্ষার্থীর নম্বর ২৫ থেকে বেড়ে ৫০ পয়েন্ট হয়। এই ঘটনা ঘটে গত ১৪ আগস্ট রাজশাহীর বিনোদপুর বাজারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মেহেদী হাসান (রাজশাহী, আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজ) ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের খাতায় মোবাইল নম্বর লিখে পাওয়ার পর প্রভাষক সেকেন্দার আলী তাকে বাসায় ডেকে ২ হাজার টাকায় খাতা লিখিয়ে দেন।
- 📌 পরীক্ষার্থীর নম্বর ২৫ থেকে বেড়ে ৫০ পয়েন্ট হয়।
- 📌 সেকেন্দার আলী (হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক) অভিযোগ অস্বীকার করেন।
- 📌 রুহুল আমিন ও অন্যান্য ছয়জন সহপাঠীও অভিযোগের শিকার হন।
- 📌 মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর রাজশাহী-হ ১৫-২৪০৫, বর্তমানে মালিক রফিকুল ইসলাম সেন্টু (সেকেন্দার আলীর আত্মীয়)।
- 📌 হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনামুল হক মণ্ডল জানান, সেকেন্দার আলী এইচএসসির খাতা দেখেন, কিন্তু এমন কাজ করেন তা জানেন না।
- 📌 রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, এটা খুবই ভয়াবহ ঘটনা, বরদাশত করব না।
📰 বিস্তারিত
মেহেদী হাসান রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর এলাকার আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের ছাত্র। তিনি মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। খাতায় মোবাইল নম্বর লিখে পাওয়ার পর প্রভাষক সেকেন্দার আলী তাকে ফোন করে ডাকেন। মেহেদী ও তার বন্ধু রুহুল আমিন সহ ছয়জন পরীক্ষার্থী সেকেন্দার আলীর বাসায় যান। সেখানে মেহেদীর খাতায় ২৫ নম্বর ছিল। পরীক্ষক ২ হাজার টাকা নিলে মেহেদীকে খাতা দেন লিখতে। লেখার পর তার নম্বর হয় ৫০ পয়েন্ট।
মেহেদী জানান, পরীক্ষক তাদের নাম জানাননি। বরং তার মোবাইল নিয়ে নিজের নম্বরটি ডিলিট করে দেন। ফোন কল রেকর্ডে শোনা যায়, সেকেন্দার আলী টাকা নিয়ে মেহেদীকে ডাকেন। মেহেদী বলেন, ‘স্যার তো বুঝতে পারছেন, আমরা তো বেকার ছেলে, ভিক্ষুক না। ভিক্ষুকের কাছে তো টাকা থাকবেই, আমরা তো বেকার।’ পরীক্ষক জবাবে বলেন, ‘না না ঠিক আছে। আরও ক্যান্ডিডেটদের নিয়ে আসো’।
পরীক্ষককে খুঁজে পাওয়া যায় মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর রাজশাহী-হ ১৫-২৪০৫ থেকে। বর্তমানে মোটরসাইকেলটির মালিক রফিকুল ইসলাম সেন্টু (সেকেন্দার আলীর আত্মীয়)। সেন্টুর বাড়ি চারঘাট উপজেলার কাকালকাটি গ্রামে। সেখানে পাওয়া যায় সেকেন্দার আলীকে। ফোন কল রেকর্ড এবং ছবি দেখানো হলেও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।
"আমার খাতায় ২৫ মার্ক ছিল। স্যার ২ হাজার টাকা নিয়েছে। খাতায় লিখতে দিল। যেগুলো ভুল লিখেছিলাম সেগুলো ঠিক করে দিয়েছি। আর যেটা লিখিনি, সেটা ফাঁকা জায়গায় লিখে দিয়েছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী, বিনোদপুর বাজার, পুঠিয়া উপজেলা, বেলপুকুর এলাকা, চারঘাট উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেহেদী হাসান, সেকেন্দার আলী, এনামুল হক মণ্ডল, রুহুল আমিন, রফিকুল ইসলাম সেন্টু, ড. শামীম আরা চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ (মার্ক), ৫০ (প্লাস), ২ (হাজার টাকা), ১৪ (আগস্ট), ১০ (মিনিট), ৬ (সহপাঠী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!