📌 বাংলাদেশে শুধু কবুল পড়লেই বা এফিডেভিট করে বিয়ে করলেও আইনের চোখে তা বৈধ নয়। আইনজীবী ও কাজী অফিসের কর্মকর্তারা জানান, বিয়ের রেজিস্ট্রি ছাড়া কোনো বিয়েই রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত হবে না। আইনানুযায়ী, বিয়ের বয়স ১৮ (মেয়ে) ও ২১ (ছেলে) বছর হতে হবে এবং রেজিস্ট্রি করতে হবে কাজীর মাধ্যমে
বাংলাদেশে বিয়ে কীভাবে বৈধ হয়? শুধু কবুল পড়লেই বিয়ে বৈধ কিনা? এফিডেভিট করে বিয়ে করলে কি আইনের চোখে তা স্বীকৃত হবে? এই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন আইনজীবী ও কাজী অফিসের কর্মকর্তারা। তারা জানান, শরীয়ত অনুযায়ী কবুল পড়লেও আইনের দৃষ্টিতে বিয়ের রেজিস্ট্রি ছাড়া তা বৈধ নয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে বিয়ের রেজিস্ট্রি ছাড়া কোনো বিয়েই আইনত বৈধ নয় — আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেছেন, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন করতে হলে অবশ্যই কাজীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করতে হবে।
- 📌 কবুল পড়লেও রেজিস্ট্রি না করলে বিয়ের কোনো আইনি স্বীকৃতি নেই — কাজী অফিসের কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ মাসুক জানান, রেজিস্ট্রি না করলে স্বামী-স্ত্রীর সম্পত্তি, উত্তরাধিকার বা কাবিনের টাকার দাবি করা যায় না।
- 📌 এফিডেভিট করে বিয়ে করলেও আইনে বৈধ নয় — আইনজীবী মো. শামসুদ্দোহা সুমন বলেছেন, এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে বা তালাক নিবন্ধন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- 📌 বিয়ের বয়স ১৮ (মেয়ে) ও ২১ (ছেলে) বছর হতে হবে — আইনানুযায়ী, বিয়ের বয়সের শর্ত লঙ্ঘন করলে রেজিস্ট্রি করা যায় না।
- 📌 বিয়ের রেজিস্ট্রি করতে হলে এক মাসের মধ্যে কাজী অফিসে নিবন্ধন করতে হবে — রেজিস্ট্রি না করলে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেকেই বিয়ে রেজিস্ট্রি না করলেও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন। চব্বিশ বছর বয়সী সালমা সুলতানা (ছদ্মনাম) বলেন, তার বিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়েছিল কিনা তার জানার কোনো উপায় নেই। তিনি বলেন, “আব্বা না মানায় প্রেমিকের সাথে পালিয়ে সিলেট চলে গেছিলাম। সেখানে একটা মসজিদে একজন হুজুর বিয়ে পড়াইছিল, কলেমা পড়ছি, রেজিস্ট্রি হইছে কিনা জানি না।”
আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, বাংলাদেশের আইনানুযায়ী বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন করতে হলে অবশ্যই কাজীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করতে হবে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের আইনানুযায়ী, বিয়ে এবং তালাক বৈধ হতে হলে অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হবে। এটা একমাত্র কাজীর দ্বারা করা যায়। রেজিস্ট্রি করা না হলে কোন বিয়েই রাষ্ট্রীয় আইনে বৈধ নয়।”
এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করলেও আইনে তা বৈধ নয়। আইনজীবী মো. শামসুদ্দোহা সুমন জানান, এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে বা তালাক নিবন্ধন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বিয়ে এবং তালাক এই দুইটা অবশ্যই রেজিস্ট্রিকৃত হতে হবে এবং এটা একমাত্র কাজীই করেন। এফিডেভিট করে কোনো বিয়ে রাষ্ট্রীয় আইনে বৈধ নয়। একমাত্র কাজীই বিয়ে এবং তালাক নিবন্ধনকারী।”
কাজী অফিসের কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ মাসুক বলেন, ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী শুধু কবুল পড়লেও বিয়ের রেজিস্ট্রি ছাড়া রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, “কিন্তু বিয়ে রেজিস্ট্রি করা না হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রী তার সম্পত্তির ভাগ যেমন পায় না তেমনি লাশও বুঝে পায় না। কারণ তার তো কাবিননামা নাই, স্বীকৃতিই নাই।”
আইনজীবী মো. শামসুদ্দোহা সুমন জানান, বিয়ের বয়সের শর্ত লঙ্ঘন করলে রেজিস্ট্রি করা যায় না। তিনি বলেন, “বিয়ের জন্য মেয়েদের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং ছেলেদের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। বয়সের শর্ত ছাড়া বিয়ের ক্ষেত্রে আইনানুযায়ী ছেলে ও মেয়ে উভয়ের সম্মতি থাকতে হবে। এই সম্মতি জোরপূর্বক নয়, স্বেচ্ছায় দিতে হবে।”
"বাংলাদেশের আইনানুযায়ী, বিয়ে এবং তালাক বৈধ হতে হলে অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হবে। এটা একমাত্র কাজীর দ্বারা করা যায়। রেজিস্ট্রি করা না হলে কোন বিয়েই রাষ্ট্রীয় আইনে বৈধ নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, সিলেট, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সালমা সুলতানা (ছদ্মনাম), আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন, কাজী অফিসের কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ মাসুক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ মিনিট (পড়ার সময়), ১৩ বছর (কিশোরীর বয়স), ১৮ বছর (মেয়েদের বিয়ের বয়স), ২১ বছর (ছেলেদের বিয়ের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!