📌 রাশিয়া ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের একটি স্কুলে বিমান হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। স্কুলটি মানবিক সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার এই সন্ত্রাসী আক্রমণকে নিন্দা করেছেন
রাশিয়া ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের একটি স্কুলে বিমান হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এই হামলায় উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘটনাকে 'জঘন্য সন্ত্রাসী আক্রমণ' বলে উল্লেখ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৬ জন নিহত: জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখা গ্রামের স্কুলে রাশিয়ার বিমান হামলায় নিহতদের মধ্যে উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- 📌 পাঁচজন আহত: আহতদের মধ্যে দুজন উদ্ধারকর্মী ছিলেন। তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
- 📌 মানবিক সহায়তা কেন্দ্র লক্ষ্য: স্কুলটি প্রতি সোমবার বাসিন্দাদের জন্য মানবিক সহায়তা বিতরণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- 📌 জেলেনস্কির সতর্কবার্তা: তিনি বলেছেন, রাশিয়া মানবিক উদ্যোগের পরিবর্তে মানুষ হত্যা অব্যাহত রেখেছে।
- 📌 ২৭ জন নিখোঁজ: হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বাসিন্দাদের সংখ্যা ২৭ জন।
- 📌 আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ: ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা রাশিয়ার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশগ্রহণ বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
সোমবার (২ নভেম্বর) রাতের নিয়মিত ভিডিও ভাষণে রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার বাহিনী প্রথমে গ্রামের স্কুলে বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ করে। স্কুলটি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পাশাপাশি প্রতি সোমবার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হতো। তিনি বলেন, যুদ্ধের সম্মুখসারির কাছাকাছি হওয়ায় স্কুলটিতে কোনো ক্লাস চলছিল না। অঞ্চলটির প্রধান শহর জাপোরিঝিয়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে গ্রামটির অবস্থান।
জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘মানুষ যখন সেখানে আসতে শুরু করেন, ঠিক তখনই রাশিয়া প্রথম হামলা চালায়। কয়েকটি বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় আরও বোমা নিক্ষেপ করা হয়, এবার আশ্রয়কেন্দ্র লক্ষ্য করে। এটি একটি জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা।’ তিনি উল্লেখ করেন, কোমিশুভাখায় অবস্থানরত বাসিন্দারা প্রতি সপ্তাহে মানবিক সহায়তার প্যাকেট সংগ্রহ করতে একত্র হন, যা রুশ বাহিনীর অজানা থাকার কথা নয়।
জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়া মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরিবর্তে মানুষ হত্যা অব্যাহত রেখেছে। এর আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলের ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ওই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়। জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়া বারবার ইউক্রেন এবং এখানে বিদ্যমান সবকিছুর প্রতি তাদের ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। রাশিয়া যদি সত্যিই উত্তেজনা কমাতে চাইত, তাহলে ওলেশকির ঘটনার পর মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার সুযোগ ছিল। আমরা এমন প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু রাশিয়া মানুষ হত্যা অব্যাহত রেখেছে।’
জাপোরিঝিয়া সিটি কাউন্সিলের সচিব রেজিনা খারচেঙ্কো জানিয়েছেন, হামলার পর ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। হামলার পর ঘটনাস্থলের বিভিন্ন স্থানে ধোঁয়া ওঠা ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে থাকার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এর এক দিন আগে খেরসন অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং সেখান থেকে চলে যেতে ইচ্ছুক বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য ঘোষিত ছয় দিনের স্থানীয় যুদ্ধবিরতি শেষ হয়।
"মানুষ যখন সেখানে আসতে শুরু করেন, ঠিক তখনই রাশিয়া প্রথম হামলা চালায়। এটি একটি জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখা গ্রাম, ইউক্রেন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভলোদিমির জেলেনস্কি, আন্দ্রি সিবিহা, রেজিনা খারচেঙ্কো
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬ জন নিহত, ৫ জন আহত, ২৭ জন নিখোঁজ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!