📌 পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত শয়তানের কৌশল অনুসারে, দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টির প্রধান লক্ষ্য হলো স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিভেদ ঘটানো। ছোটখাটো ত্রুটি বড় করে দেখানো, অহেতুক সন্দেহের বীজ বপন, রাগের মুহূর্তে তালাকের প্ররোচনা এবং বাইরের আকর্ষণে উদাসীনতা — সবই শয়তানের প্ররোচনা
দাম্পত্য জীবনে শান্তি ও একতা রক্ষা করা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শয়তান (ইবলিস) এই পবিত্র বন্ধন ভাঙার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালায়। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত শয়তানের বিভিন্ন কৌশল অনুসারে, সে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিভেদ সৃষ্টির জন্য কীভাবে অশান্তির সূচনা করে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তালাকের সর্বোচ্চ পুরস্কার: শয়তান স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায়। হাদিসে বর্ণিত, একজন শয়তান বাহিনী স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ফিরলে ইবলিস তাকে বুকে টেনে নিয়ে বলেন, ‘তুমিই সবচেয়ে ভালো কাজ করেছ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮১৩)।
- 📌 ছোট ত্রুটি বড় করে দেখানো: শয়তান স্বামী বা স্ত্রীর ইতিবাচক গুণগুলোকে উপেক্ষা করে শুধু ছোটখাটো ত্রুটিগুলোকে বড় করে মনের পর্দায় ভাসিয়ে তোলে, ফলে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা হারায়।
- 📌 অহেতুক সন্দেহের বীজ: শয়তান স্বামী-স্ত্রীর মনে একে অপরের বিশ্বস্ততা নিয়ে অমূলক সন্দেহের বীজ বুনে দেয়। পবিত্র কোরআনে (সুরা বাকারা, আয়াত: ১০২) বলা হয়েছে, শয়তান ও জাদুকররা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে তাদের একে অপরকে সন্দেহ করতে বাধ্য করে।
- 📌 রাগের মুহূর্তে তালাকের প্ররোচনা: রাগের সময় শয়তান মানুষের বিবেককে ঢেকে দেয় এবং ‘তালাক’-এর মতো কথা বলার জন্য প্ররোচিত করে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৭৮৪)।
- 📌 বাইরের আকর্ষণে উদাসীনতা: শয়তান স্বামী-স্ত্রীকে একে অপরের প্রতি শারীরিক ও মানসিক অধিকার পূরণে উদাসীন করে তোলে এবং বাইরের বেগানা মানুষের সৌন্দর্য আকর্ষণীয় করে তুলে ফিতনা সৃষ্টি করে।
📰 বিস্তারিত
পবিত্র কোরআনে স্বামী-স্ত্রীকে আল্লাহর কাছে ‘পোশাক’ হিসেবে তুলনা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত প্রিয়। কিন্তু শয়তান এই বন্ধন ভাঙার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালায়। মহানবী (সা.) একটি চমৎকার উপমা দিয়ে বলেছেন যে, ইবলিস পানির ওপর তার সিংহাসন স্থাপন করে এবং তার বাহিনীকে মানুষের মাঝে ফিতনা সৃষ্টির জন্য পাঠায়। একজন শয়তান বাহিনী স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ফিরলে ইবলিস তাকে বুকে টেনে নিয়ে বলেন, ‘তুমিই সবচেয়ে ভালো কাজ করেছ’। অর্থাৎ, পরিবার ভাঙার কারিগরকে শয়তান চুরি বা পরকীয়ার চেয়ে বেশি পুরস্কৃত করে।
শয়তান মানুষের শিরা-উপশিরায় বিচরণ করে এবং স্বামী বা স্ত্রীর মনে একে অপরের চরিত্র নিয়ে অমূলক সন্দেহের বীজ বুনে দেয়। ইমাম ইবনে কাসিরের তাফসিরে বলা হয়েছে, শয়তান ও জাদুকররা স্বামী-স্ত্রীর মনে একে অপরের প্রতি কাল্পনিক বিদ্বেষ সৃষ্টি করে, যাতে তারা একে অপরকে সন্দেহ করে এবং বিচ্ছেদ ঘটে (ইবনে কাসির, তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, ১/১৪৪)।
দাম্পত্য জীবনে রাগের সময় শয়তান বিশেষভাবে সক্রিয় হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে, আর শয়তান আগুনের তৈরি’। রাগের বশবর্তী হয়ে স্বামী অনেক সময় ‘তালাক’-এর মতো জঘন্য শব্দ উচ্চারণ করে ফেলেন। এই মুহূর্তে শয়তান মানুষের বিবেককে ঢেকে দেয় এবং তার মুখ দিয়ে এমন কথা বের করে আনে, যা পরিবার ধ্বংসের চূড়ান্ত হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায় (ইবনে আবিদিন, রদ্দুল মুহতার, ৩/২৪৪)।
শয়তান স্বামী-স্ত্রীকে একে অপরের প্রতি শারীরিক ও মানসিক অধিকার পূরণে উদাসীন করে তোলে। সে বাইরের বেগানা মানুষের সৌন্দর্য আকর্ষণীয় করে তুলে ধরে স্বামী বা স্ত্রীর মনে ফিতনা সৃষ্টি করে। মহানবী (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, যদি কোনো ব্যক্তি বাইরের কোনো নারীর প্রতি আকৃষ্ট হয়, তবে সে দ্রুত তার স্ত্রীর কাছে ফিরে যেতে পারে, কারণ এতে তার মনের কুমন্ত্রণা দূর হয়ে যাবে (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৪০৩)।
"কোনো মুমিন স্বামী যেন তার মুমিন স্ত্রীর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ না করে; কারণ স্ত্রীর একটি স্বভাব অপছন্দ হলেও অন্য একটি স্বভাব তার কাছে পছন্দনীয় হতে পারে।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৪৬৯)
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পবিত্র কোরআন ও হাদিস (সহিহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, ইবনে কাসিরের তাফসির)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইবলিস (শয়তান), মহানবী (সা.), মুমিন স্বামী-স্ত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: আয়াত ১০২ (সুরা বাকারা), হাদিস ২৮১৩, ১৪৬৯, ১৪০৩, ৪৭৮৪
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!