📌 আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকীকে নিজ কার্যালয়ে মারধর ও হেনস্তা করা হয়। নিয়োগ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জেরে ঘটে এই ঘটনা, যা মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিদের বিব্রত করে। ড্যাবের নেতা ডা. জাহিদ হাসানকে নিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে
আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকীকে নিজ কার্যালয়ে মারধর ও শারীরিক হেনস্তার শিকার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিদের বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ঘটনার পেছনে নিয়োগ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জেরে ড্যাবের নেতা ডা. জাহিদ হাসান ও তাঁর সহযোগীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৮ অক্টোবর আইইডিসিআরে পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকীকে ৮ থেকে ৯ জন ব্যক্তি মারধর ও হেনস্তা করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় তাঁকে চেয়ার থেকে টেনে তোলা হয় এবং ধাক্কাধাক্কি করা হয়।
- 📌 ঘটনায় ড্যাবের কেন্দ্রীয় সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদ হাসান ও অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। জাহিদকে ড্যাব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
- 📌 পরিচালক জাকী মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সামনে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। বিদেশি প্রতিনিধিরা আতঙ্কিত হয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন।
- 📌 পরিচালক জাকী বনানী থানায় মামলা করেছেন। ডা. জাহিদ হাসান ও ডা. বাসেদুর রহমান সোহেলসহ আসামিদের তালিকা প্রণীত হয়েছে।
- 📌 পরিচালক জাকী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ডা. জাহিদ হাসানকে নিয়োগপত্র জারি করেন, কিন্তু প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় চাকরি শুরু করতে পারেননি।
- 📌 পরিচালক জাকী নতুন প্রকল্প অনুমোদিত হলে জাহিদকে নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় ঘটনায় তাঁর সন্দেহ উঠেছে।
- 📌 পরিচালক জাকী সাবেক পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও ঘটনার পেছনে সন্দেহের কারণ হিসেবে উঠেছে।
📰 বিস্তারিত
গত ২৮ অক্টোবর আইইডিসিআরে পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকীকে নিজ কার্যালয়ে মারধর ও হেনস্তা করা হয়। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালক জাকীকে ড্যাবের নেতা ডা. জাহিদ হাসান ও তাঁর সহযোগীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। পরিচালক জাকী ড্যাবের আজীবন সদস্য। ঘটনার দিন প্রতিষ্ঠানটিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল। পুরোনো ভবনে ৩০ জেলার সিভিল সার্জন ও তিন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের অংশগ্রহণে হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় দ্রুত সাড়াদান কার্যক্রম নিয়ে সভা চলছিল। অন্যদিকে নতুন ভবনে পরিচালকের কক্ষে মার্কিন দূতাবাস ও দেশটির বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে হাম-রুবেলার টিকা, ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট এবং হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় র্যাপিড রেসপন্স কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পরিচালকের ওপর হামলার ঘটনায় বিদেশি প্রতিনিধিরা বিব্রত এবং আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করেন। ঘটনায় পরিচালক জাকী বাদী হয়ে বনানী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ডা. জাহিদ হাসান, ডা. বাসেদুর রহমান সোহেলসহ অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আইইডিসিআরের নথি অনুযায়ী, ডা. জাহিদ হাসান সর্বশেষ ‘গভর্নমেন্ট অব বাংলাদেশ পাবলিক হেলথ প্রটেকশন’ প্রকল্পের অধীনে এফইটিপিবি প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর পদে নিয়োগ পান। তাঁর নিয়োগপত্র জারি করা হয় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল ১৫ ফেব্রুয়ারি।
আইইডিসিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাষ্য, পরিচালকের সঙ্গে ডা. জাহিদের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা ছিল। ডা. জাহিদ তাঁকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করতেন। এমন সম্পর্কের পরও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, তা তাঁরা ভাবতে পারেননি। পরিচালক জাকী জানান, নতুন কোনো প্রকল্প অনুমোদিত হলে ডা. জাহিদকে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। র্যাপিড রেসপন্স টিম ও আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন কনসালট্যান্ট পদে তাঁকে নিয়োগের পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরিচালক জাকীও আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন, ডা. জাহিদকে নতুন প্রকল্পে নিয়োগের আশ্বাস দেওয়ার বিষয়টি।
"আমি নিয়োগ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জেরে এই ঘটনার শিকার হয়েছি। আমার সঙ্গে ডা. জাহিদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল, কিন্তু এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে তা আমি ভাবতে পারিনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আইইডিসিআর, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকী, ডা. জাহিদ হাসান, ডা. বাসেদুর রহমান সোহেল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ অক্টোবর, ৮-৯ জন, ৩০ জেলা, ১৫-২০ জন আসামি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!