📌 ২০১০ সালের লর্ডস টেস্টে মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফের সাজানো নো বলের মাধ্যমে শুরু হয় পাকিস্তানের ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি। ১৫ বছর পর এই ঘটনার বিস্তারিত ও তিন ক্রিকেটারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ফিরে দেখা যাচ্ছে
১৫ বছর আগের সেই কলঙ্কিত অধ্যায়ের ফিরে আসা। পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির মূল ঘটনা ঘটেছিল ২০১০ সালের ২৬ আগস্ট লর্ডস মাঠে। মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফের সাজানো নো বলের মাধ্যমে শুরু হয় সেই কলঙ্কিত অধ্যায়, যা শেষ পর্যন্ত তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের জীবনকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করে দেয়। সেই ঘটনার ১৫ বছর পূর্তিতে ফিরে দেখা যাক কীভাবে শুরু হয়েছিল এই কেলেঙ্কারি এবং কোথায় দাঁড়িয়ে আজ সেই তিন ক্রিকেটার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১০ সালের ২৬ আগস্ট লর্ডস টেস্টে মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফের সাজানো নো বলের মাধ্যমে শুরু হয় পাকিস্তানের ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি।
- 📌 গোপন বৈঠকে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ডের সাংবাদিকরা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের এজেন্ট মাজহার মাজিদের সাথে যোগাযোগ করে জুয়াড়িদের সঙ্গে গোপন চুক্তির কথা জানান।
- 📌 ২০১১ সালের ৩ নভেম্বর আইসিসি ট্রাইব্যুনালে সালমান বাটকে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা, মোহাম্মদ আসিফকে ৭ বছরের এবং মোহাম্মদ আমিরকে ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
- 📌 ১৫ বছর পরেও এই কেলেঙ্কারির প্রভাব পাকিস্তান ক্রিকেটে এখনও বিদ্যমান। তিন ক্রিকেটারের জীবন ও কর্মজীবন সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ক্রিকেটের সবচেয়ে সহজ নিয়ম হলো নো বল। কিন্তু ২০১০ সালের ২৬ আগস্ট লর্ডস মাঠে সেই নিয়মটি সাজানো হয়ে যায়। ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের চতুর্থ টেস্টের ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলটি মোহাম্মদ আমিরের পা বোলিং ক্রিজের সীমারেখার বাইরে চলে যায়। এরপর দশম ওভারের ষষ্ঠ বলেও মোহাম্মদ আসিফের পা নো বলের শিকার হয়। এই দুটি নো বল ছিল আগে থেকেই ঠিক করা। লন্ডনের এক গোপন বৈঠকে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ডের সাংবাদিকরা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের এজেন্ট মাজহার মাজিদের সাথে যোগাযোগ করেন। সাংবাদিকেরা নিজেদের পরিচয় দিয়েছিলেন ক্রিকেটে অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহী ধনী ব্যবসায়ী হিসেবে। মাজিদ তাঁদের আশ্বাস দেন যে, পাকিস্তানের কয়েকজন ক্রিকেটারকে দিয়ে ম্যাচের নির্দিষ্ট মুহূর্তে নির্দিষ্ট ঘটনা ঘটানো সম্ভব। সাংবাদিকেরা গোপনে ক্যামেরা চালু রেখে মাজিদের সাথে কথা বলেন। মাজিদ টাকার বান্ডিল গুনলেন এবং জানালেন, লর্ডস টেস্টে মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফ কখন নো বল করবেন, সেটিও আগে থেকেই ঠিক করা আছে।
গোপন ভিডিও প্রকাশের পর বিশ্ব ক্রিকেটে তোলপাড় শুরু হয়। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড গ্রেপ্তার করে মাজহার মাজিদকে। তদন্তের আওতায় আসেন তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটার। শুরুতে পাকিস্তান দলের প্রতিক্রিয়া ছিল অস্বীকার। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের তৎকালীন সভাপতি ইজাজ বাট বলেছিলেন, খেলোয়াড়রা নির্দোষ। যুক্তরাজ্যে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ওয়াজিদ শামসুল হাসান দাবি করেছিলেন, তাঁদের ‘ফাঁদে ফেলা’ হয়েছে। সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফও বলেছিলেন, ফাঁস হওয়া ভিডিওতে কিছু অস্পষ্টতা আছে। কিন্তু আইসিসির তদন্তে ‘জবাব দেওয়ার মতো যুক্তি’ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
২০১০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আইসিসি তিন ক্রিকেটারকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে। এরপর শুরু হয় আইসিসির তদন্ত ও শুনানি। ২০১১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আইসিসির স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করে। সালমান বাটকে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, যার মধ্যে পাঁচ বছর স্থগিত সাজা। মোহাম্মদ আসিফকে সাত বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, যার দুই বছর স্থগিত। মোহাম্মদ আমিরের নিষেধাজ্ঞা পাঁচ বছর। এই শাস্তি পাকিস্তান ক্রিকেটে আমিরের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বয়স মাত্র ১৮ বছর বয়সী আমির ছিলেন পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার। তিনি বল সুইং করানোর অসাধারণ ক্ষমতা রাখতেন। কিন্তু এই কেলেঙ্কারির কারণে তার স্বপ্নের শেষ হয়ে যায়।
"আমিরের পা প্রায় আধা মিটার দূরে ছিল পপিং ক্রিজ থেকে। এরপর দশম ওভারের ষষ্ঠ বলে নো বল করলেন আসিফ। দুটি বল। দুটি পূর্বাভাস। দুটি বাস্তবায়ন। মাঠের দর্শকদের তখনো জানতেন না, এই বলগুলোর পেছনে কত বড় চিত্রনাট্য।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লর্ডস (লন্ডন), পাকিস্তান, ইংল্যান্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ আমির, মোহাম্মদ আসিফ, সালমান বাট, মাজহার মাজিদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ বছর (কেলেঙ্কারির সময়কাল), ২৬ আগস্ট ২০১০ (ঘটনার তারিখ), ৩ নভেম্বর ২০১১ (শাস্তির তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!