📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান জয়ের পর প্রত্যেক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আইনি ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি জয়ী হলে প্রত্যেক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার রাতে টেক্সাসের দলীয় কনভেনশনে এই ঘোষণা দিলে তার সমর্থকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও ডেমোক্র্যাটরা এটিকে ‘ফাঁকা বুলি’ বলে চিহ্নিত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে রিপাবলিকান জয়ের পর প্রত্যেক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৭ কোটি; ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার মোট খরচ হবে প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।
- 📌 মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই অর্থ বরাদ্দ করা আইনগতভাবে অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
- 📌 ট্রাম্পের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য শুল্ক রাজস্বের উপর নির্ভর করা হতে পারে, কিন্তু তা দাবিকৃত অর্থের এক-তৃতীয়াংশেরও কম।
- 📌 ২০২১ সালে জো বাইডেনও নির্বাচনী উদ্দীপনা হিসেবে ২ হাজার ডলারের চেক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা পরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
টেক্সাসের দলীয় কনভেনশনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই প্রতিশ্রুতি শুনে রিপাবলিকান পার্টির সমর্থকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও আইনি ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, ভোটকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে অর্থ প্রদান করা বেআইনি। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রতিশ্রুতি সরাসরি ‘ঘুষ’ হিসেবে গণ্য করা কঠিন, কারণ এটি নির্বাচনে ভোটের উপর নির্ভর করে না বরং সবাইকে সমানভাবে দেওয়া হবে।
সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষক ড. জোয়ান মাহোনি বিবিসিকে বলেছেন, এই প্রস্তাবটি একটি সাধারণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে, চ্যাথাম হাউসের মার্কিন ও উত্তর আমেরিকা প্রোগ্রামের পরিচালক লরেল র্যাপ মনে করেন, এটি সাধারণ প্রার্থীর কর কমানোর প্রতিশ্রুতির চেয়ে অনেক বেশি সরাসরি এবং ‘লেনদেনমূলক চুক্তি’।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৭ কোটি। ফলে প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার মোট খরচ হবে প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। ট্রাম্প এই বিপুল অর্থের উৎস নিয়ে কোনো স্পষ্ট বিবরণ দেননি। অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই অর্থ বরাদ্দ করা আইনগতভাবে অসম্ভব। ওয়াশিংটনভিত্তিক ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ এরিকা ইয়র্ক বলেছেন, কংগ্রেস এই ধরনের বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন করবে বলে তিনি মনে করেন না।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে বলেছেন, শুল্কের রাজস্ব দিয়ে এই অর্থ শোধ করা হতে পারে। তবে বাইপার্টিসান পলিসি সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ও আবগারি কর থেকে মোট আয় করেছে প্রায় ৪৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা দাবিকৃত অর্থের এক-তৃতীয়াংশের চেয়েও কম। তদুপরি, বছরের শুরুতে সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে বেশ কিছু শুল্ক বাতিল হওয়ায় ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ফেরত দিতে হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রিপাবলিকান দলের সাবেক পরামর্শক রবার্ট মোরান মনে করেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র দুই মাসের কম সময় বাকি। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে রিপাবলিকান পার্টির জনপ্রিয়তায় ভাটা দেখা যাওয়ায় ভোটারদের আকর্ষণ করতেই ট্রাম্প এই কৌশল বেছে নিয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগেও ট্রাম্প শুল্কের রাজস্ব থেকে ২ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
"যাঁরা বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে, তাঁরা সব সময়ই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবমূল্যায়ন করেছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জনগণের সমর্থন নিয়ে তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (টেক্সাস, ওয়াশিংটন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স, ড. জোয়ান মাহোনি, লরেল র্যাপ, এরিকা ইয়র্ক, রবার্ট মোরান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ হাজার ডলার, ২৭ কোটি, ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার, ৪৭৫ বিলিয়ন ডলার, ১০০ বিলিয়ন ডলার, ২ হাজার ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!