📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ৩৬টি চিকিৎসক পদে মাত্র ২০ জন চিকিৎসক এবং নার্সের ছয়টি পদে দুজন কর্মরত থাকায় জোড়াতালিতে চলছে। শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে বরাদ্দের অভাব ও জনবল সংকটের কারণে সেবা প্রদানে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবা পেতে ভরসা রাখেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও নার্সের অভাব, সরঞ্জামের সংকট এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে সেন্টারটি জোড়াতালিতে চলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ৩৬টি চিকিৎসক পদে মাত্র ২০ জন চিকিৎসক কর্মরত, নাক-কান-গলা, মনোরোগ ও গাইনোকলজি বিভাগে কোনো চিকিৎসক নেই
- 📌 নার্সের ছয়টি পদে মাত্র দুজন কর্মরত, একজন অসুস্থ থাকায় রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে
- 📌 ইসিজি ও ডিজিটাল এক্স-রে সেবা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও চালক নেই
- 📌 ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মেডিকেল সেবা খাতে ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও শিক্ষার্থীরা তা অপ্রতুল বলে অভিযোগ করছেন
- 📌 গত ১৭ জুলাই শিক্ষার্থীরা মেডিকেল সেন্টারকে 'নাপা সেন্টার' বলে তালা ঝুলিয়ে অভিযোগ তুলেছেন
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানান, জনবল নিয়োগের সার্কুলার এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে দেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে চিকিৎসক ও নার্সের অভাবের কারণে সেবা প্রদানে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। সেন্টারের প্রধান চিকিৎসক ডা. মাফরুহা সিদ্দিকা লিপি জানান, ‘প্রতিদিনের চাপ সামলাতে আমাদের ওপর চাপ একটু বেশিই থাকে। চিকিৎসক ও নার্সের সংকটের কারণে রাতে নার্সও রাখতে পারি না, চিকিৎসকও থাকেন না।’
নার্সের ছয়টি পদে মাত্র দুজন কর্মরত থাকায়, একজন অসুস্থ থাকলে কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ডা. মাফরুহা বলেন, ‘সিস্টার বা ব্রাদার না থাকলে রোগীদের প্রাথমিক সেবা দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। প্রেশার মাপা, জ্বর পরীক্ষা করা, ড্রেসিং করা বা ভ্যাকসিন দেওয়া—এসব কাজের জন্য তাঁদের থাকা অপরিহার্য।’
কারিগরি সেবাতেও সমস্যা চলছে। ইসিজি সেবার জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান না থাকায় প্রশিক্ষণ দিয়ে অন্য দপ্তরের একজনকে সেবা পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন থাকলেও সেটি পরিচালনার জন্য টেকনোলজিস্ট নেই। প্রধান চিকিৎসক বলেন, ‘ইসিজি সেবার ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা ছিল। বর্তমানে একজনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কোনোভাবে কাজটি চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
অ্যাম্বুলেন্স সংকটও দীর্ঘদিনের। আগে একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়েই কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। তবে প্রশাসন গত বৃহস্পতিবার দুটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছে। কিন্তু চালকের অভাবের কারণে অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ডা. মাফরুহা বলেন, ‘এখানে শুধু গাড়ির সংকট নয়, চালকের সংকটও আছে। নতুন করে চালক নিয়োগ না হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও তা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।’
২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ ৮০ লাখ টাকা। শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, এই বরাদ্দ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘রাবি মেডিকেল সেন্টারে শিক্ষার্থীপ্রতি যে পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ জন্য বরাদ্দ বাড়াতে হবে।’
গত ১৭ জুলাই শিক্ষার্থীরা চিকিৎসাসেবায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে সেন্টারে তালা ঝুলিয়ে এর নাম ‘নাপা সেন্টার’ রাখেন। তাদের অভিযোগ, এটি নামমাত্র মেডিকেল সেন্টারে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলেন, দু-এক ধরনের ওষুধ ছাড়া প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় না। একজন শিক্ষার্থী জানান, ‘কিছুদিন আগে আমি চুলকানির জন্য মেডিকেলে গেলে কোনো কিছু না শুনেই আগে থেকে তৈরি করা প্রেসক্রিপশন দিয়ে দেওয়া হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, জনবলসংকট থাকায় রোগীর চাপ সামলাতে আগে থেকে প্রেসক্রিপশন প্রস্তুত করে রাখা হয়। এদিকে, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচনী ইশতেহারেও। তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার নিয়ে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার সংস্কারের জন্য ইউজিসিতে একটি বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। সেই বরাদ্দের বিল ইতিমধ্যে পাস হয়েছে। শিগগির মেডিকেল সেন্টার সংস্কারের কাজের জন্য আমরা বরাদ্দটি পেয়ে যাব।’
"প্রতিদিনের চাপ সামলাতে আমাদের ওপর চাপ একটু বেশিই থাকে। চিকিৎসক ও নার্সের সংকটের কারণে রাতে নার্সও রাখতে পারি না, চিকিৎসকও থাকেন না।"
"সিস্টার বা ব্রাদার না থাকলে রোগীদের প্রাথমিক সেবা দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। প্রেশার মাপা, জ্বর পরীক্ষা করা, ড্রেসিং করা বা ভ্যাকসিন দেওয়া—এসব কাজের জন্য তাঁদের থাকা অপরিহার্য।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. মাফরুহা সিদ্দিকা লিপি (প্রধান চিকিৎসক), ফুয়াদ রাতুল (সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক), সালমান সাব্বির (রাকসুর এজিএস)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৬টি চিকিৎসক পদে ২০ জন, ৬টি নার্স পদে ২ জন, ৩০০-৩৫০ শিক্ষার্থী দৈনিক, ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!