📌 ইয়েমেনের পেরিম দ্বীপ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কৌশলগত কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। হুতিরা যদি দ্বীপটি দখল করে নেয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। গত হামলায় মোচা বন্দরে ১৬ জন নিহত ও ২২ জন আহত হয়। ইরান হুতিদের আধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে
ইয়েমেনের উপকূলে অবস্থিত ছোট্ট পেরিম দ্বীপ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণে হুতিদের হাত পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সিএনএন-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পেরিম দ্বীপের গুরুত্ব: বাব আল-মান্দেব প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত এই দ্বীপ লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে এর ভূমিকা অপরিসীম।
- 📌 হুতিদের হুমকি: ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা যদি পেরিম দখল করে নেয়, তাহলে বাব আল-মান্দেব দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই প্রণালি হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
- 📌 মোচা বন্দরের হামলা: পেরিমের প্রায় ৫০ মাইল উত্তরে অবস্থিত মোচা বন্দর হুতিদের দখলে রয়েছে। গত হামলায় বন্দরে রকেট আঘাত হানে, যেখানে ১৬ জন নিহত ও ২২ জন আহত হন। ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে যায় এবং বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেল ধ্বংস হয়।
- 📌 ইরানের ভূমিকা: ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ইরান হুতিদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার ব্যবস্থা ও ড্রোন প্রযুক্তিসহ আধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করছে। পেরিমের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে গেলে প্রণালিতে মাইন পেতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
- 📌 বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের ক্ষতি: গত কয়েক বছরে বাব আল-মান্দেব দিয়ে যাওয়া জাহাজের মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ সামুদ্রিক তেল বাণিজ্য চলত। কিন্তু হুতিদের হামলার কারণে এই পরিমাণ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
📰 বিস্তারিত
পেরিম দ্বীপের অবস্থান বাব আল-মান্দেব প্রণালির মাঝখানে, যা লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। এই প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটের একটি। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সময় থেকে এই দ্বীপ ভারতে যাতায়াতকারী জাহাজের কয়লা সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হত। বর্তমানে হুতিদের পেরিম দখল করার সম্ভাবনা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
ইয়েমেনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তারিক সালেহ সতর্ক করেছেন, হুতিরা পেরিম দখল করলে তাদের সরাতে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সামরিক ও নৌবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে। ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে নির্বাসনে যেতে বাধ্য করেছিল। পরের বছর সৌদি আরব হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এই সংঘাতে ইরান হুতিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হুতিরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে হামলা শুরু করে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোচা বন্দরে হুতিদের রকেট হামলায় বাণিজ্যিক জাহাজ ও মোটরসাইকেল ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি ১৬ জন নিহত ও ২২ জন আহত হন।
"পেরিমের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে গেলে প্রণালিতে মাইন পেতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে"
ইয়েমেনের এই সংঘাত আর কেবল একটি গৃহযুদ্ধ নয়। বাব আল-মান্দেবকে ঘিরে এর প্রভাব এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ভূরাজনীতির সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে ছোট্ট পেরিম দ্বীপটি হয়ে উঠেছে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের সম্ভাব্য নতুন ফ্রন্টলাইন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পেরিম দ্বীপ (ইয়েমেন), বাব আল-মান্দেব প্রণালি, মোচা বন্দর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তারিক সালেহ (ইয়েমেনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা), হুতি বিদ্রোহীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ মাইল (পেরিম থেকে মোচা বন্দর), ১৬ জন নিহত, ২২ জন আহত, ১০ শতাংশ (বিশ্বের তেল বাণিজ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!