📌 কুমিল্লার ১৪ বছর বয়সী আবু হুরাইবা আজমীর বিমানবন্দর এলাকায় ট্রেন থেকে পড়ে বাঁ হাত ও বাঁ পা হারিয়েছেন। মা কুলসুম বেগমের আকুল চিকিৎসা খরচের জন্য। ঘটনায় জড়িত যুবকের বিরুদ্ধে পুলিশ তদন্ত চলছে
কুমিল্লার কাপড়ের দোকানের ছেলে আবু হুরাইবা আজমীর (১৪) বিমানবন্দর এলাকায় ট্রেন দুর্ঘটনায় বাঁ হাত ও বাঁ পা হারিয়েছেন। ঘটনায় আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মা কুলসুম বেগমের একমাত্র আকুল—ছেলেকে বাঁচাতে চিকিৎসা খরচ জোগানোর উপায় খুঁজে পাওয়ার জন্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৪ বছর বয়সী আবু হুরাইবা আজমীর বিমানবন্দর এলাকায় ট্রেন থেকে পড়ে বাঁ হাত ও বাঁ পা হারিয়েছেন।
- 📌 মানিব্যাগ চুরি করার চেষ্টায় এক যুবক তাকে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। মানিব্যাগে ছিল ২০০-৩০০ টাকা।
- 📌 হাসপাতালে রক্তের গ্রুপ ‘ও পজিটিভ’ আজমীরের। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে অবস্থা আশঙ্কাজনক।
- 📌 বাবার বকাঝকায় অভিমান করে ঢাকায় আসেন। পরে বাড়ি ফিরছিলেন, ঘটনায় জড়িত হন।
- 📌 পুলিশ তদন্ত চলছে—আজমীর কীভাবে পড়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য।
📰 বিস্তারিত
বাবার বকাঝকায় অভিমান করে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার কাপড়ের দোকান থেকে বেরিয়ে ট্রেনে চড়ে ঢাকায় এসেছিলেন আবু হুরাইবা আজমীর। ঢাকায় এসে ভালো না লাগায় পরের দিন সকালে আবার কুমিল্লায় ট্রেনে ফিরছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দর এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনায় তার বাঁ হাত ও বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
হাসপাতালে আজমীরের মা কুলসুম বেগমের একটাই আকুল—ছেলেকে বাঁচাতে চিকিৎসা খরচ জোগানোর উপায় খুঁজে পাওয়ার জন্য। তিনি জানান, তাঁর স্বামী আলামিন কুমিল্লায় কাপড়ের ব্যবসা করেন। বাড়ি নরসিংদীর বেলাবর ওয়ারী গ্রামে। আজমীর বাবার দোকানের ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। এর আগে তিনি কুমিল্লার একটি হেফজখানায় পড়তেন এবং পবিত্র কোরআনের ২০ পারা মুখস্থ করেছিলেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আজমীরের মায়ের ভাষ্যমতে, ট্রেনে এক যুবক জোর করে তার মানিব্যাগ নিয়ে নেয়। মানিব্যাগে ছিল ২০০-৩০০ টাকা। সে বাধা দিলে ওই যুবক তাকে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এরপর কী হয়েছে, তা আর বলতে পারেননি আজমীর। ফায়ার সার্ভিসের সদস্য তাকে উদ্ধার করেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটার দিকে ঘটনাটি ঘটে। পরে ঢাকা রেলওয়ে থানার কর্মকর্তা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজমীরের বিচ্ছিন্ন বাঁ হাত ও বাঁ পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালের পক্ষ থেকে রক্ত সংগ্রহ করে তাঁকে দেওয়া হয়েছে। তবে আরও চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য রক্তের প্রয়োজন। তাঁর রক্তের গ্রুপ ‘ও পজিটিভ’।
"আমার ছেলেকে বাঁচাতে চিকিৎসা খরচ জোগানোর উপায় খুঁজে পেতে পারছি না। তাঁর বাবার দোকানে হিসাব রাখতেন, কিন্তু বাবার বকাঝকায় অভিমান করে এসেছিলেন। এখন আমার একমাত্র আকুল—ছেলেকে বাঁচাতে"
ঢাকা রেলওয়ে থানার বিমানবন্দর ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. মাহবুব জানান, আজমীরের সঙ্গে আরও কয়েকজন কিশোর ছিল। তারা ট্রেনের ছাদে ছিল। তবে আজমীর কীভাবে পড়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, আজমীর একেকবার একেক কথা বলছে। কিছুটা সুস্থ হলে তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনাল এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু হুরাইবা আজমীর (১৪), কুলসুম বেগম, মো. মাহবুব (পুলিশ কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ বছর বয়স, ২০০-৩০০ টাকা, ২০ পারা কোরআন, ‘ও পজিটিভ’ রক্তের গ্রুপ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!