📌 সুদান সরকার ইথিওপিয়া তে অবস্থিত র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (RSF) এর ড্রোন হামলা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এতে সুদানের বেসামরিক অবকাঠামোতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে এবং ১৭৬ সৈনিক ও ৪৮৪ বেসাহারা নিহত হয়েছে। জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়নকে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
সুদান ও ইথিওপিয়ার মধ্যে গভীর রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের বিভাজন আরো গভীর হয়ে উঠেছে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (RSF) এর ড্রোন হামলায়। সুদান সরকার ইথিওপিয়া থেকে পরিচালিত এই ড্রোন হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের নিরাপত্তা পরিষদে এই অভিযোগ আনয়ণ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুদান সরকার ইথিওপিয়া থেকে পরিচালিত র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (RSF) এর ড্রোন হামলায় ১৭৬ সৈনিক ও ৪৮৪ বেসাহারা নিহত হয়েছে।
- 📌 ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৭০টি ড্রোন হামলায় ১৮৭টি একমুখী আক্রমণ ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে অক্টোবর মাসে ২৮টি হামলা হয়েছে।
- 📌 সুদানের ৯০% শহুরে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ড্রোন হামলায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
- 📌 জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস ড্রোন হামলাকে নিন্দা করেছেন এবং বলেছেন, এতে বেসাহারা ও নাগরিকদের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
- 📌 ইথিওপিয়ার আসোসা বিমানবন্দর, কুরমুক-জিজেন সীমান্ত এলাকা এবং আমহারা রাজ্যের বাহির দার বিমানবন্দরকে ড্রোন হামলার প্রধান লঞ্চ পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সুদান সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, ইথিওপিয়া থেকে পরিচালিত র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (RSF) এর ড্রোন হামলায় সুদানের বেসামরিক অবকাঠামোতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। সুদানের সীমান্ত বিষয় বিশেষজ্ঞ আব্দুল কেরিম আল-আলমিন আল জাজিরার সাথে কথা বলেন, “সুদান ও ইথিওপিয়ার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দৈনন্দিনভাবে বাড়ছে। সুদানী সেনাবাহিনী এতটাই উত্তেজিত হয়েছে যে তাদের মধ্যে কিছু শাখা ইথিওপিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার দাবি করছে।”
সুদানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৯০% ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আল-আলমিন বলেন, “এই ড্রোনগুলো অত্যন্ত গোপনীয় এবং দীর্ঘ দূরত্বে আক্রমণ করতে পারে। সুদানের প্রায় সকল এলাকায় এই ড্রোনগুলো আক্রমণ করছে, যা তাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও দীর্ঘ দূরত্বের ক্ষমতার প্রমাণ দেয়।”
সুদানের বিদেশ মন্ত্রণালয় ও সামরিক তথ্য সংস্থা একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৭০টি ড্রোন হামলায় ১৮৭টি একমুখী আক্রমণ ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। অক্টোবর মাসে এই হামলার সংখ্যা বেড়ে ২৮টি হয়েছে, যার মধ্যে ৯৭টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
ড্রোন হামলায় সুদানের বেসাহারা ও নাগরিকদের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। ফেব্রুয়ারি ১৫ থেকে অক্টোবর ২৭ পর্যন্ত এই হামলায় ১৭৬ সৈনিক ও ৪৮৪ বেসাহারা নিহত হয়েছে। সুদানের ট্রানজিশনাল সভ্যতা পরিষদ, যেটি সুদানের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও সুদানী সেনাবাহিনীর সাথে যুক্ত, এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
সুদান সরকার ইথিওপিয়া তে অবস্থিত র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (RSF) এর সমর্থন দাবি করেছে। অন্যদিকে, ইথিওপিয়ার সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, সুদান সরকার ইথিওপিয়ার টিগ্রে জনগণের মুক্তি ফ্রন্ট (TPLF) এর সাথে যুক্ত বিদ্রোহীদের সমর্থন করছে।
সুদান ও ইথিওপিয়ার মধ্যে এই বিভাজন শুধু ড্রোন হামলা ও বিদ্রোহীদের সমর্থন নিয়ে নয়, বরং নীল নদীর উপর নির্মিত গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম (GERD) নিয়ে জল সম্পদ ও রাজনৈতিক মৈত্রীর বিষয়েও রয়েছে।
"সুদানী সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দৈনন্দিনভাবে বাড়ছে। তাদের মধ্যে কিছু শাখা ইথিওপিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার দাবি করছে।"
"এই ড্রোনগুলো অত্যন্ত গোপনীয় এবং দীর্ঘ দূরত্বে আক্রমণ করতে পারে। সুদানের প্রায় সকল এলাকায় এই ড্রোনগুলো আক্রমণ করছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুদান (বিশেষত সাফ-নিয়ন্ত্রিত এলাকা), ইথিওপিয়া (আসোসা বিমানবন্দর, কুরমুক-জিজেন সীমান্ত, বাহির দার বিমানবন্দর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুল কেরিম আল-আলমিন, অ্যান্টোনিও গুতেরেস, আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭৬ সৈনিক, ৪৮৪ বেসাহারা, ৭০টি ড্রোন হামলা, ১৮৭টি ড্রোন, ৯০% বিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!