📌 উত্তরখান থানার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের রিমান্ড শুনানিতে বিচারক সাংবাদিকদের আদালত থেকে বের করে দেন। জামানতের বিরোধিতা ও রিমান্ডের আবেদন চলাকালীন বিচারক পুলিশকে আদেশ দেন সাংবাদিকদের বের করে দিতে। আইনজীবী ও সাংবাদিক সংগঠন এই পদক্ষেপের নিন্দা জানায়
উত্তরখান থানার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের রিমান্ড শুনানিতে বিচারক সাংবাদিকদের আদালত থেকে বের করে দেন। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে শুনানির আগমুহূর্তে বিচারক সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ হন এবং তাদের আদালত থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিচারকের নির্দেশে সাংবাদিকদের আদালত থেকে বের করে দেন পুলিশ। বিচারক বলেন, ‘আপনারা থাকতে পারবেন না’।
- 📌 দীপের রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। প্রথমে চার দিনের রিমান্ড ছিল, এবার তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
- 📌 তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন দীপের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেলেও তিনি প্রশ্ন এড়িয়ে চলেছেন বলে দাবি করেন।
- 📌 আসামিপক্ষের আইনজীবী মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ডের বিরোধিতা করে বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ জোর করে স্বীকারোক্তি নিতে চায়’।
- 📌 সাংবাদিক সংগঠন বিচারকের পদক্ষেপকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে উল্লেখ করে।
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের রিমান্ড শুনানির সময় বিচারক সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ হন। তিনি বলেন, ‘আদালতের মধ্যে সাংবাদিকেরা কেন? আপনারা কী ভেতরে ঢুকতে পারেন। শুনানির পর পিপি–এপিপিরা আপনাদের বিস্তারিত জানাবে। আপনারা বেরিয়ে যান। আপনারা থাকতে পারবেন না’। বিচারক পুলিশের উদ্দেশে বলেন, ‘সব ক্লিয়ার করেন কেউ থাকবে না ভেতরে’। সাংবাদিকেরা এজলাসের পেছনে গিয়ে দাঁড়ালে শুনানি শুরু হয়।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব ও সাবেক জেলা জজ শাহজাহান সাজু প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা ওপেন ট্রায়াল, সেহেতু সাংবাদিকেরা থাকতে পারেন। তারা জাতির দর্পণ ও ন্যায়বিচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শুনানিতে কী হলো, তা জাতিকে জানাতে পারেন’। কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মামুন খান বলেন, ‘আমরা অনেক বছর যাবৎ আদালতপাড়ায় সাংবাদিকতা করছি। কিন্তু বিচারকের এমন ব্যবহার কখনো দেখিনি’।
দীপের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘প্রথম দফার রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আসামি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন এড়িয়ে চলেছেন। নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পুনরায় রিমান্ডের প্রয়োজন’। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, ‘আসামির সঙ্গে ভুক্তভোগীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও কথোপকথন বিশ্লেষণ করতে পুনরায় রিমান্ডের প্রয়োজন’।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ বারবার জোর করে স্বীকার করাতে চাচ্ছে। চার দিনের রিমান্ড শেষ না হতেই আবার রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই’।
"আদালতের মধ্যে সাংবাদিকেরা কেন? আপনারা কী ভেতরে ঢুকতে পারেন। শুনানির পর পিপি–এপিপিরা আপনাদের বিস্তারিত জানাবে। আপনারা বেরিয়ে যান। আপনারা থাকতে পারবেন না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, উত্তরখান থানা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিচারক মো. হাসান শাহাদাত, আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ, ফিরোজ উদ্দিন, শাহজাহান সাজু, মামুন খান, মুতাসিম বিল্লাহ, শামসুদ্দোহা সুমন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ অক্টোবর (তাহসিফ নিখোঁজ), ৩০ অক্টোবর (মামলা দায়ের), চার দিনের রিমান্ড (প্রথম), তিন দিনের রিমান্ড (এবার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!