📌 হাইকোর্টের আদেশে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক সোহেল রানার সইয়ে গাড়িচালক আলী হোসেনের বিরুদ্ধে করা বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। মামলার বৈধতা নিয়ে রিট আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ রুল জারি করেছেন
হাইকোর্টের রুলে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক সোহেল রানার সইয়ে গাড়িচালক মো. আলী হোসেনের (বাচ্চু) বিরুদ্ধে করা বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার রুলসহ এই আদেশ দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক সোহেল রানার সইয়ে গাড়িচালক মো. আলী হোসেনর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
- 📌 ২৩ আগস্ট সকালে বিচারকের খাসকামরায় ডেকে নিয়ে আলী হোসেনের অভিযোগ, বিচারক তাঁর চোখে ঘুষি ও কানের ওপর থাপ্পড় মারেন।
- 📌 ২৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন অনুসন্ধান নির্দেশ দিলে জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলামকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
- 📌 ২৪ সেপ্টেম্বর বিচারক আলী হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেন, কিন্তু তদন্ত অনিস্পন্ন থাকায় রিট আবেদন করা হয়।
- 📌 আইনজীবী মো. বাকির হোসেন বলেন, বিচারক নিজেই বাদী ও বিচারক হওয়ায় মামলার বৈধতা নিয়ে রিট করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গাড়িচালক মো. আলী হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম স্থগিতের পেছনে রয়েছে একটি জটিল ঘটনা। আলী হোসেনের দাবি, গত ২৩ আগস্ট সকালে বিচারকের খাসকামরায় ডেকে নিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। তিনি বলেন, গাড়ির লগবইয়ে সময় উল্লেখ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিচারক তাঁর চোখে ঘুষি ও কানের ওপর থাপ্পড় মারেন। পরে তিনি চিকিৎসা নেন ও চোখে ব্যান্ডেজ করতে হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা ইশতিয়াক হোসেনের দাবি, গাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আলী হোসেনকে ডাকা হয়েছিল এবং কোনো মারধর ঘটেনি।
বিষয়টি নজরে আসার পর ২৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দেয়। এ জন্য জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলামকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু তদন্ত অনিস্পন্ন থাকা অবস্থায় ২৪ সেপ্টেম্বর বিচারক সোহেল রানা আলী হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেন।
আইনজীবী মো. বাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টের অনুসন্ধান কমিটি ও মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির কার্যক্রম অনিস্পন্ন থাকা অবস্থায় বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিচারক নিজেই বাদী ও বিচারক হওয়ায় আলী হোসেন মামলার বৈধতা নিয়ে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্টের বেঞ্চ রুল দিয়ে তিন মাসের জন্য মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন।
"হাইকোর্টের অনুসন্ধান কমিটি ও মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির কার্যক্রম অনিস্পন্ন থাকা অবস্থায় বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।"
শুনানিতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. বাকির হোসেন ও আবু সাদেক আবদুল্লাহ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিচারক সোহেল রানা, মো. আলী হোসেন, আইনজীবী মো. বাকির হোসেন, জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ আগস্ট, ২৭ আগস্ট, ২৪ সেপ্টেম্বর, ৩ মাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!