📌 ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জামায়াতের নারী সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কিত বিবৃতিকে বিভ্রান্তিকর ও সত্যের অপলাপ বলে সমালোচনা করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কোনো নারী সদস্য নেই, যা নির্বাচন কমিশনের বিধান লঙ্ঘন
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জামায়াতের নারী সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কিত বিবৃতিকে বিভ্রান্তিকর ও সত্যের অপলাপ বলে সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জানায়, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী সদস্য নেই, যা নির্বাচন কমিশনের বিধান লঙ্ঘন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ১৯ সদস্যের মধ্যে কোনো নারী সদস্য নেই, যা নির্বাচন কমিশনের ৩৩ শতাংশ নারী অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যমাত্রা লঙ্ঘন
- 📌 টিআইবি জানায়, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের বিবৃতিতে উল্লেখিত ২১ জন নারী সদস্য ও ১২২ জন মজলিসে শুরা সদস্য গবেষণার বিবেচ্য বিষয় নয়
- 📌 গবেষণায় দেখা যায়, জামায়াতের গঠনতন্ত্রে নারী ও পুরুষদের পৃথক কমিটি থাকলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বস্থানীয় পদে নারী অন্তর্ভুক্তি নেই
- 📌 ২০২৩-২৫ মেয়াদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে ১৯ সদস্যের মধ্যে কোনো নারী সদস্য নেই, যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের লঙ্ঘন
- 📌 টিআইবি বলেছে, জামায়াতের গঠনতন্ত্রের কিছু বিধান সংবিধানের সার্বভৌমত্ব ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক
📰 বিস্তারিত
টিআইবি জানায়, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সব পর্যায়ের কমিটিতে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর ২০২৩-২৫ মেয়াদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে ১৯ সদস্যের মধ্যে কোনো নারী সদস্য নেই। এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশ্লিষ্ট বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে টিআইবি জানায়, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গণমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে দাবি করেন, দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরায় ১২২ জন নারী সদস্য রয়েছে। তবে টিআইবি বলেছে, গবেষণায় জাতীয় বা কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ কিংবা কমিটিতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মজলিসে শুরা বা রুকনদের নারী সদস্যের সংখ্যা গবেষণার বিবেচ্য বিষয় ছিল না।
টিআইবি আরও জানায়, জামায়াতের গঠনতন্ত্রে প্রতিটি সাংগঠনিক স্তরে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের জন্য পৃথক কমিটি ও কার্যক্রম পরিচালনার বিধান রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী সদস্য নেই। আমির, নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের মতো নেতৃত্বস্থানীয় পদেও নারীদের অন্তর্ভুক্তির নজির নেই।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী কোনো আসনেই নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। অথচ দলটির দাবি অনুযায়ী, সদস্যদের প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী। টিআইবি বলেছে, জামায়াতের গঠনতন্ত্রের কিছু বিধান সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেমন: জনগণের সার্বভৌমত্ব, ধর্মনিরপেক্ষতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ধর্ম ও লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য না করার নীতির সঙ্গে।
"জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রে প্রতিটি সাংগঠনিক স্তরে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের জন্য পৃথক কমিটি ও কার্যক্রম পরিচালনার বিধান রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী সদস্য নেই। আমির, নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের মতো নেতৃত্বস্থানীয় পদেও নারীদের অন্তর্ভুক্তির নজির নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৩ শতাংশ (লক্ষ্যমাত্রা), ১৯ সদস্য (কেন্দ্রীয় কমিটি), ২১ জন (জামায়াতের দাবি), ১২২ জন (মজলিসে শুরা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!