📌 কালো সমুদ্রে রাশিয়া-সহায়ক ড্রোন হামলায় একটি গম-ভরিত জাহাজ ডুবে যায়। ইউক্রেনের রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বের খাদ্য মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। রাশিয়া বিশ্বাস করে ইউক্রেন প্রথম আক্রমণ শুরু করেছে
কালো সমুদ্রে রাশিয়ার সম্ভাব্য ড্রোন হামলায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রান্ত হয়ে ডুবে যায়। এই হামলায় ১৮ জন মেরিনার নিরাপদে উদ্ধার হলেও, ইউক্রেনের গম রপ্তানির পথ বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বের খাদ্য সরবরাহে বিপদ সৃষ্টি হচ্ছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভোলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন যে, এই হামলা রাশিয়ার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা যা কালো সমুদ্রের পশ্চিমাঞ্চলকে নিরাপদ নয় করে তুলতে চায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৮ অক্টোবর কালো সমুদ্রে একটি রাশিয়া-সহায়ক ড্রোন হামলায় লিবেরিয়া-ফ্ল্যাগ জাহাজ Contship Jet Monrovia ডুবে যায়। জাহাজে ছিল ৪০০ টন গম-ভরিত কন্টেইনার।
- 📌 ১৮ জন মেরিনার নিরাপদে উদ্ধার হলেও, এই হামলায় ৩০ জন মেরিনার নিহত বা অদৃশ্য হয়েছে বলে জানা গেছে।
- 📌 ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভোলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এই হামলা রাশিয়ার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা যা ইউক্রেনের রপ্তানি বন্ধ করে দিতে চায়।
- 📌 ইউক্রেনের ১০% বিশ্ব গম রপ্তানি এবং ১৫% মাকার্ন রপ্তানি এই অঞ্চল দিয়ে হয়। গত ১২ মাসে গমের মূল্য ২০% বেড়েছে।
- 📌 রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন আগে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন যে, ইউক্রেনের রাশিয়া-বিরোধী জাহাজ আক্রমণে প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
- 📌 ইউরোপীয় ইউনিয়ন দাবি করেছে, রাশিয়া বিশ্বের খাদ্য সরবরাহে হস্তক্ষেপ করে এবং আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
📰 বিস্তারিত
২৮ অক্টোবর, বুলগেরিয়ার উপকূল থেকে কিছু দূরে কালো সমুদ্রে একটি জাহাজ আক্রান্ত হয়। এই জাহাজটি লিবেরিয়া-ফ্ল্যাগের Contship Jet Monrovia নামে পরিচিত, যা ইসরায়েলের হাইফা বন্দর থেকে রোমানিয়ায় গমের রপ্তানি করছিল। আক্রমণে ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ছিল রাশিয়া-সহায়ক এবং এগুলোকে প্লাস্টিকের মতো বড় খেলনা বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আক্রমণে জাহাজটি তলিয়ে যায়, কিন্তু ১৮ জন মেরিনারকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভোলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, “আমাদের কোনো কার্যক্রম এই অঞ্চলে নেই। এই নতুন দুর্ঘটনা সিভিল জাহাজের সাথে জড়িত এবং এটি রাশিয়ার প্রচেষ্টার আরেকটি অংশ যা পশ্চিম কালো সমুদ্রকে সম্পূর্ণভাবে নাব্য করে তুলতে চায়।”
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউই) আগস্টে একটি বিবৃতিতে বলেছিল, রাশিয়া বিশ্বের খাদ্য সরবরাহে হস্তক্ষেপ করছে। তারা বলেছে, রাশিয়া ইউক্রেনের বন্দর, জাহাজপথ এবং কৃষি অবকাঠামো আক্রমণ করে বিশ্বের খাদ্য সরবরাহে বিপদ সৃষ্টি করছে। ইউই বলেছে, রাশিয়া আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিকোলাই মিত্রোকিন বলেছেন, রাশিয়া আগে একটি অদৃশ্য চুক্তি ছিল যেখানে ইউক্রেন রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রমণ করবে না। কিন্তু ইউক্রেন জুলাই থেকে এই চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তিনি বলেন, পুতিন ইউক্রেনের রপ্তানি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন।
রাশিয়ার কৃষক ও গম রপ্তানিকারকরা সাধারণত তাদের ফসলের ২/৩ ভাগ কালো সমুদ্রের মাধ্যমে রপ্তানি করে। কিন্তু নিরাপত্তার অভাবের কারণে তারা আর্কটিকের মুরমানস্ক বন্দর দিয়ে রপ্তানি করার চেষ্টা করছে। তবে এই পথে দূরত্ব বাড়ার কারণে খরচও বেড়ে যাবে।
"আমাদের কোনো কার্যক্রম এই অংশে নেই, এবং এই নতুন দুর্ঘটনা সিভিল জাহাজের সাথে জড়িত — এটি রাশিয়ার প্রচেষ্টার আরেকটি অংশ যা পশ্চিম কালো সমুদ্রকে সম্পূর্ণভাবে নাব্য করে তুলতে চায়।"
"রাশিয়া বিশ্বের খাদ্য সরবরাহে হস্তক্ষেপ করছে এবং আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কালো সমুদ্র, বুলগেরিয়া উপকূল, রোমানিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভোলোদিমির জেলেনস্কি (ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি), ভ্লাদিমির পুতিন (রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি), নিকোলাই মিত্রোকিন (ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয় গবেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০০ টন গম, ১৮ জন মেরিনার নিরাপদে উদ্ধার, ৩০ জন মেরিনার নিহত/অদৃশ্য, ১০% বিশ্ব গম রপ্তানি, ১৫% মাকার্ন রপ্তানি, ২০% গম মূল্য বৃদ্ধি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!