📌 বৈশ্বিক উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) সক্ষম রাষ্ট্রের পরিবর্তনশীল ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গবেষক এম নিয়াজ আসাদুল্লাহের মতে, বৈশ্বিক লক্ষ্য উন্নয়নে সহায়ক হলেও সক্ষম রাষ্ট্র, সচেতন নাগরিক ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠানই প্রকৃত পরিবর্তন ঘটায়
বৈশ্বিক উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) কি প্রকৃত উন্নয়ন ঘটায়? অথবা সক্ষম রাষ্ট্রের ভূমিকাই তা সম্ভব করে তোলে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে গবেষক এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ ‘বৈশ্বিক লক্ষ্য’কে একদিকে সাফল্যের প্রতীক এবং অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখেছেন। ১৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে শুরু হওয়া জাতিসংঘের ‘এসডিজি মোমেন্ট ২০২৬’-এ বিশ্বনেতারা ‘টুগেদার, উই ক্যান ডু ইট’ আহ্বানে জোর দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্নটি এখনো অব্যাহত: বৈশ্বিক লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই কি কোনো দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়?
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বৈশ্বিক লক্ষ্য (এসডিজি) উন্নয়নে সহায়ক হলেও সক্ষম রাষ্ট্র, সচেতন নাগরিক ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠানই প্রকৃত পরিবর্তন ঘটায়
- 📌 চীন ও ভিয়েতনাম বৈশ্বিক লক্ষ্য নির্ধারণের আগেই দারিদ্র্য হ্রাসে সফল হয়েছিল — ১৯৯০-এর দশকে ভিয়েতনামের দারিদ্র্য হার ৬০% থেকে ৩৭% নেমে আসে
- 📌 ৮৯টি উন্নয়নশীল দেশের গবেষণায় দেখা গেছে, সক্ষম রাষ্ট্রের দারিদ্র্য হ্রাসের গতি বেশি — এমডিজি গ্রহণের পর দারিদ্র্য হ্রাসের গতি বেড়েছে, কিন্তু সক্ষম রাষ্ট্রের ভূমিকাই তা সম্ভব করেছে
- 📌 নাইজেরিয়ায় এমডিজি অভিযানের দ্বিতীয়ার্ধে দারিদ্র্য বেড়েছে — বৈশ্বিক লক্ষ্য না থাকলেও কি অগ্রগতি ঘটত?
- 📌 ‘দোই মোই’ সংস্কার (১৯৯০-এর দশক) ভিয়েতনামকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছে, যা বৈশ্বিক লক্ষ্য নির্ধারণের আগেই ঘটেছিল
📰 বিস্তারিত
বৈশ্বিক লক্ষ্য (এসডিজি) উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে পারে, কিন্তু প্রকৃত পরিবর্তন ঘটে যখন সক্ষম রাষ্ট্র, সচেতন নাগরিক, স্বাধীন গবেষক এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান সেই লক্ষ্যকে নিজেদের বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দেয়। গবেষক এম নিয়াজ আসাদুল্লাহের মতে, ‘বৈশ্বিক লক্ষ্য’ নিজে উন্নয়ন ঘটায় না। পরিবর্তন ঘটে যখন সক্ষম রাষ্ট্র, সচেতন নাগরিক, স্বাধীন গবেষক এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান সেই লক্ষ্যকে নিজেদের বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দেয়।
জাতিসংঘের বার্ষিক ‘এসডিজি মোমেন্ট ২০২৬’-এ বিশ্বনেতারা ‘টুগেদার, উই ক্যান ডু ইট’ আহ্বানে জোর দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্নটি এখনো অব্যাহত: বৈশ্বিক লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই কি কোনো দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়? ধরুন, একটি দেশ দারিদ্র্য কমাল, শিশুমৃত্যু হ্রাস করল বা বিদ্যালয়ে ভর্তি বাড়াল। কীভাবে জানব, এই অগ্রগতি জাতিসংঘের বৈশ্বিক লক্ষ্যের কারণে ঘটেছে? একই সময়ে দেশটির অর্থনীতি বেড়েছে, সরকারের সক্ষমতা উন্নত হয়েছে, নতুন সামাজিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে কিংবা নাগরিকেরা অধিক জবাবদিহি দাবি করেছেন। বৈশ্বিক লক্ষ্য না থাকলেও কি অগ্রগতিটি ঘটত?
গবেষণায় দেখা গেছে, এমডিজি গ্রহণের পর দারিদ্র্য হ্রাসের গতি বেড়েছে। অর্থাৎ বৈশ্বিক লক্ষ্য একেবারেই অকার্যকর ছিল—এ কথা বলা যাবে না। কিন্তু যেসব রাষ্ট্র ১৯৯০ সালেই নিজেদের ভূখণ্ড পরিচালনা, নীতি সমন্বয় এবং নাগরিকদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে সক্ষম ছিল, তারাই দ্রুত দারিদ্র্য কমিয়েছে এবং এমডিজির দারিদ্র্য-লক্ষ্য অর্জনে বেশি সফল হয়েছে।
"বৈশ্বিক লক্ষ্য নিজে উন্নয়ন ঘটায় না। পরিবর্তন ঘটে যখন সক্ষম রাষ্ট্র, সচেতন নাগরিক, স্বাধীন গবেষক এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান সেই লক্ষ্যকে নিজেদের বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দেয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (জাতিসংঘ), ভিয়েতনাম, নাইজেরিয়া, চীন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ, আন্তোনিও সাভোইয়া (ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৯টি দেশের গবেষণা, ভিয়েতনামে ১৯৯০-এর দশকে দারিদ্র্য হার ৬০% থেকে ৩৭% নেমে আসে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!