📌 কলকাতায় ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহের অভিযানে ৪০টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। পচা খাবার, নিষিদ্ধ রং ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ৯১৯টি গেস্ট হাউস বন্ধের সুপারিশ করা হয়। সরকার খাদ্য নিরাপত্তায় কোনো কমতি করবে না বলে জানায়
কলকাতায় ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহের অভিযানে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান শেষ হয় গত মঙ্গলবার। অভিযানে পচা ও বাসি খাবার, নিষিদ্ধ কৃত্রিম রং ব্যবহারের মতো অস্বাস্থ্যকর অনুশীলন ধরা পড়ে। খাদ্যবিধি লঙ্ঘনের কারণে ৪০টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স স্থগিত করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪০টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স স্থগিত: খাদ্যবিধি লঙ্ঘনের জন্য কলকাতা পৌর করপোরেশন নির্দেশ দিয়েছে।
- 📌 ৯১৯টি গেস্ট হাউস বন্ধের সুপারিশ: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে করপোরেশন সুপারিশ করেছে।
- 📌 ৪১টি গেস্ট হাউস মানদণ্ডে উত্তীর্ণ: অভিযানে ৪১টি গেস্ট হাউস নির্ধারিত মান মেনে চলেছে।
- 📌 নিষিদ্ধ রং ও ভেজাল খাবার পাওয়া যায়: পচা মাছ, ছত্রাক ধরা ছানা-পনিরসহ বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে।
- 📌 সাউথ সিটি, স্টার মল ও মেট্রোপলিস মলের ফুড কোর্টেও অভিযান চালানো হয়।
📰 বিস্তারিত
ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহের অভিযানে কলকাতার বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান, মিষ্টির দোকান ও বেকারিতে পচা ও বাসি খাবার, পচা মাছ, মাংস, ছত্রাক ধরা ছানা-পনিরসহ অস্বাস্থ্যকর খাবার পাওয়া যায়। বিশেষত, কিছু খাবারে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর কৃত্রিম রং ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া যায়।
খাদ্যবিধি না মানার অভিযোগে কলকাতার ৪০টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। এসব রেস্তোরাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ডন জিওভানিস, করিমস, মিস্টিমুখ, আল সালান, সিমলা ফুড, জেপটো লিমিটেড, ব্রজরাজ, ডেন জং কিচেন, সোফিয়া হোটেল, গঙ্গা, বিরিয়ানি কর্নার, শম্ভু অয়েল মিল, রয়েল বেঙ্গল টাইগার হসপিটালিটি, এশিয়া হাউস, দাদা বৌদি হোটেল, টৌরাশিয়া চাট, মেরাকি বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি, গিরিশচন্দ্র দে অ্যান্ড বেকারি, শ্রীকৃষ্ণ সুইটস, বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক সুইটস, মাতৃ মিষ্টান্ন ভান্ডার, শীতলা মিষ্টান্ন ভান্ডার, মিঠাই ভান্ডার ও শক্তি মিষ্টান্ন ভান্ডার।
অভিযানে কলকাতা পৌর করপোরেশন ৯১৯টি গেস্ট হাউস বন্ধের সুপারিশ করেছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও গেস্ট হাউস পরিচালনার নিয়ম না মানার কারণে এই সুপারিশ করা হয়েছে। তবে ৪১টি গেস্ট হাউস নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েছে।
"এ কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এবার খাবার পানির মানও খতিয়ে দেখা হবে।"
— কলকাতা পৌর করপোরেশনের প্রশাসক স্মিতা পান্ডে
অভিযানের উদ্বোধন হয়েছিল ১ সেপ্টেম্বর কলকাতার নিউমার্কেট (হগ মার্কেট) এলাকায়। কলকাতার খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বলেছেন, আগের সরকার খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি। বর্তমান সরকার খাদ্যের মান ও নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস করবে না।
রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেছেন, রাজ্যবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি খাবারের মান নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। খাদ্যসামগ্রীতে ভেজাল, নিষিদ্ধ ও কৃত্রিম রং ব্যবহার করা যাবে না। ভুয়া লেবেল লাগিয়ে ফ্রিজে খাদ্য সংরক্ষণের বিষয়টিও বরদাশত করা হবে না।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা (সাউথ সিটি মল, স্টার মল, মেট্রোপলিস মল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্মিতা পান্ডে (প্রশাসক), অশোক কীর্তনিয়া (খাদ্যমন্ত্রী), শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (স্বাস্থ্যমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০টি রেস্তোরাঁ, ৯১৯টি গেস্ট হাউস, ৪১টি উত্তীর্ণ গেস্ট হাউস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!