📌 যুক্তরাজ্য ও ১১টি পশ্চিমা দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন কোনো প্রতিবাদ জানায়নি। ইসরায়েলের নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের জবাবে তারা ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দিয়েছে
যুক্তরাজ্য ও ১১টি পশ্চিমা দেশের নেতৃত্বে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কোনো আপত্তি জানায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এবং পশ্চিমা কূটনীতিকদের তথ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ না জানানোর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের নেতানিয়াহু সরকারের নীতির প্রতি তাদের হতাশার ইঙ্গিত দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাজ্য ও ১১টি পশ্চিমা দেশ (কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন) পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
- 📌 নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের জবাবে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমের ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দিয়েছে এবং ব্রিটিশ কূটনীতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করেছে।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তের নিন্দা করেননি এবং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
- 📌 ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পশ্চিম তীর নীতির বিষয়ে তাদের উদ্বেগের সঙ্গে একমত, তবে এই নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞাগুলোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের মত এক নয়।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলে রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞাকে ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে বৈষম্য বলে সমালোচনা করেছেন, কিন্তু হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বলেছেন, তার মন্তব্য হোয়াইট হাউসের সমন্বয়ে দেওয়া হয়নি।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাজ্য গত মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছিল, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তারা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে নেতানিয়াহু সরকারের অধিকৃত পশ্চিম তীরের সংবেদনশীল এলাকা ‘ই১’-এ নতুন বসতি নির্মাণের সিদ্ধান্ত। ই১ এলাকায় বসতি নির্মাণ হলে পশ্চিম তীরের ভূখণ্ডের মধ্যে ভৌগোলিক সংযোগ বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরপর দুই দলীয় সরকারই ই১ এলাকায় ইসরায়েলি বসতি নির্মাণের বিরোধিতা করে এসেছে। তবে যুক্তরাজ্যের এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিবাদ না জানানোর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের নীতির প্রতি তাদের হতাশার ইঙ্গিত দিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। ট্রাম্প বার্নহামকে এই উদ্যোগ থেকে সরে আসতে বলেননি এবং সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্যও কোনো অনুরোধ করেননি।
ইসরায়েলের নেতানিয়াহু সরকার ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দিয়েছে এবং ব্রিটিশ কূটনীতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করেছে। এছাড়া পশ্চিম তীরে পরিচালিত ব্রিটিশ সামরিক প্রশিক্ষণ মিশনও বন্ধ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তের নিন্দা করেননি এবং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
"যুক্তরাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে বৈষম্যের শামিল। যুক্তরাজ্য যদি সত্যিই তাদের কাছে ভুল মনে হওয়া বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী হয়, তাহলে উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কোথায়?"
— মাইক হাকাবি, মার্কিন রাষ্ট্রদূত, ইসরায়েল
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পশ্চিম তীর, ইসরায়েল, পূর্ব জেরুজালেম, ওয়াশিংটন, যুক্তরাজ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, অ্যান্ডি বার্নহাম, মার্কো রুবিও, মাইক হাকাবি, নেতানিয়াহু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১টি দেশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!