📌 স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ঘোষণা করেছেন, উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ছড়িয়ে দিতে 'কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ' প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। টেলি-কাউন্সেলিং ও রেফারেল ব্যবস্থা চালু করা হবে। এছাড়াও ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ঘোষণা করেছেন, দেশের প্রান্তিক ও উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার 'কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ' প্রকল্পের মাধ্যমে টেলি-কাউন্সেলিং ও রেফারেল ব্যবস্থা চালু করবে। তিনি বলেছেন, উপজেলা পর্যায়ে মানসিক চাপ বা বিষণ্নতা ভোগকারী মানুষের জন্য কোনো সহায়তা ব্যবস্থা না থাকা একটি বড় ঘাটতি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রকল্প চালু: উপজেলা-জেলা পর্যায়ে টেলি-কাউন্সেলিং ও রেফারেল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে
- 📌 পাবনা মানসিক হাসপাতাল ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করা হচ্ছে
- 📌 ৩০০ চিকিৎসককে ডেঙ্গু চিকিৎসা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, জেলা-উপজেলা সিভিল সার্জনদের প্রস্তুতি অব্যাহত
- 📌 আত্মহত্যা আইনি সীমাবদ্ধতা নিয়ে সংসদে উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
- 📌 ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী সচেতনতা ক্যাম্পেইন শুরু, হাসপাতালে স্যালাইন ও বেডের সংকট নিশ্চিত করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার সেগুনবাগিচায় রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে 'ফ্রম সাইলেন্স টু অ্যাকশন: চেঞ্জিং দ্য ন্যারেটিভ অন সুইসাইড অ্যামং ইয়ুথ' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি) যৌথভাবে এই আলোচনা আয়োজন করে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দেশে ইনস্টিটিউট ও বিশেষায়িত হাসপাতালের বাইরে প্রান্তিক মানুষের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা পর্যায়ে একজন মানুষ যদি বিষণ্নতা বা আত্মহত্যার চিন্তায় ভুগে, তাহলে কোথায় যাবেন বা কীভাবে সহায়তা পাবেন—এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। এই শূন্যতা পূরণে সরকার সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় জেলা-উপজেলা পর্যায়ে টেলি-কাউন্সেলিং চালু করা হবে এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সহায়তা দেওয়া হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানসিক স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে পাবনা মানসিক হাসপাতালের আধুনিকায়ন, নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ও সাইকিয়াট্রিস্ট ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে একটি সমন্বিত রেফারেল চেইন গঠন করা হচ্ছে।
আত্মহত্যার প্রবণতা নিয়ে সতর্কতা জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৭ লাখ মানুষ আত্মহত্যায় মারা যায়, কিন্তু আত্মহত্যার চিন্তায় ভোগা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। কিন্তু আমাদের সমাজে এ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয় এবং দোষারোপের সংস্কৃতি তৈরি হয়। তিনি 'ইটস গুড টু টক' শীর্ষক সচেতনতামূলক প্রচারণার ধারণা তুলে ধরেন এবং মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় সবার সঙ্গে কথা বলার গুরুত্ব জোরালোভাবে বলেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের সতর্কতা জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ ও অক্টোবরের শুরুতে ডেঙ্গু সংক্রমণের 'পিক সময়' আসার পূর্বাভাস রয়েছে। সরকার এ নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে। তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ৩০০ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সিভিল সার্জনদের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতালে স্যালাইন, বেড ও টেস্টিং কিটের সংকট নিশ্চিত করার জন্য দুই মাস আগেই পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বেসরকারি হাসপাতালগুলোর নির্দেশ দেন, ডেঙ্গু ডেডিকেটেড বেড চালু রাখতে এবং অতিরিক্ত ফি আদায় না করা উচিত।
"দেশে ইনস্টিটিউট এবং বিশেষায়িত হাসপাতালের বাইরে প্রান্তিক মানুষের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা পর্যায়ে একজন মানুষ বিষণ্নতা, মানসিক চাপ বা সুইসাইডাল আইডিয়াশনে ভুগলে কোথায় যাবেন, কীভাবে সহায়তা পাবেন—সে বিষয়ে জানার কোনো ব্যবস্থাই ছিল না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (সেগুনবাগিচা, রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটি), পাবনা (মানসিক হাসপাতাল), ঢাকা (জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ লাখ (আত্মহত্যায় মারা যাওয়া), ৩০০ (ডেঙ্গু প্রশিক্ষিত চিকিৎসক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!