📌 কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার ৫০তম সংস্করণে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত। ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশি প্রকাশকদের অংশগ্রহণ সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। ইসরায়েলকে থিম কান্ট্রি হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি
কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার ৫০তম সংস্করণে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনও অজ্ঞাত রেখে রয়েছে ভারতের সরকারি অনুমতি। কলকাতার ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টারে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। বইমেলার উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা বলেছেন, বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। এছাড়াও, কলকাতার কিছু প্রকাশকদের আপত্তি রয়েছে বাংলাদেশি বইয়ের অংশগ্রহণে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কলকাতা বইমেলা ২০২৭র ৫০তম সংস্করণে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত, কারণ ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি অপেক্ষায় রয়েছে।
- 📌 ২০২৭ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে বইমেলা, যা পঞ্চাশ বছরের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে।
- 📌 বিজেপি সরকার প্রথমবারের মতো পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডকে একক আয়োজক হিসেবে সরিয়ে দিয়েছে এবং নতুন কমিটি গঠন করেছে, যেখানে রয়েছে ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট ও ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টার।
- 📌 বইমেলার মূল থিম হবে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর, স্বাধীনতা আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উপর কেন্দ্রীভূত।
- 📌 ইসরায়েলের নাম প্রাথমিকভাবে থিম কান্ট্রি হিসেবে আলোচিত হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
- 📌 কলকাতার প্রকাশকরা বাংলাদেশি বইয়ে ভারতবিরোধী বিষয় থাকার অভিযোগ তুলেছেন এবং অনুমতি ছাড়া বই ছাপানোর অভিযোগও রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার ৫০তম সংস্করণে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনও অজ্ঞাত। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত উপদেষ্টা কমিটির সদস্য দেবজিৎ সরকার জানান, বইমেলায় বাংলাদেশের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু বইমেলা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা কী সিদ্ধান্ত নেয়, কী নির্দেশ দেয়, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে বাংলাদেশের প্রকাশকরা এবার কলকাতা বইমেলায় আসতে পারবেন কি না।”
২০২৭ সালের বইমেলা পঞ্চাশ বছরের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে। বইমেলার মূল থিম হিসেবে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছরকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতা আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উপর জোর দেওয়া হবে। এছাড়াও, উত্তম কুমারের ১০০ বছর, রাজনারায়ণ বসুর ২০০ বছর, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১৫০তম বর্ষ, রক্তকরবীর ১০০ বর্ষ এবং আকাশবাণীর ১০০ বর্ষকে থিম হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বইমেলার আয়োজক কমিটি নতুনভাবে গঠিত হয়েছে। এতে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের পাশাপাশি ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট ও ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টারকে যুক্ত করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে ২৪ জন সদস্য রয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা, রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ ও সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধি। তবে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
কলকাতার প্রকাশকদের মধ্যে বাংলাদেশি বইয়ে ভারতবিরোধী বিষয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও, অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশি বই ছাপানোর অভিযোগও উঠেছে। তবে এই ধরনের অভিযোগের তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা।
"বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু বইমেলা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা কী সিদ্ধান্ত নেয়, কী নির্দেশ দেয়, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে বাংলাদেশের প্রকাশকরা এবার কলকাতা বইমেলায় আসতে পারবেন কি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দেবজিৎ সরকার (বিজেপি নেতা ও আইনজীবী), প্রসেনজিৎ বক্সি (আহ্বায়ক), অনির্বাণ দে (গ্রন্থ বিকাশ পরিষদের সদস্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০তম বইমেলা, ২৪ জন উপদেষ্টা কমিটি সদস্য, ২২ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বইমেলা, ১৫০ বছর ‘বন্দে মাতরম’, ১০০ বছর উত্তম কুমার, ২০০ বছর রাজনারায়ণ বসু
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!