📌 সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীরা মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত করেছেন। সৌদি সরকার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকে প্রেরণ করেছে এবং হুমকির সতর্কতা জারি করেছে। ইয়েমেনে সংঘাত পুনরায় তীব্র হচ্ছে
সৌদি আরবে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি খাতের কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত করেছেন। আল জাজিরা ও সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং কিছু স্থানে আগুন লেগেছে। সৌদি সরকার দমকলকে প্রেরণ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করছে, তবে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় আরও আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৭৩ জন আহত: সৌদি আরবে হুথির হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন।
- 📌 জ্বালানি কেন্দ্রে আগুন: সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার ভোরে দক্ষিণাঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলো আক্রান্ত হয় এবং ‘বেশ কয়েকটি স্থানে আগুন’ লেগে যায়।
- 📌 হুথির দায় স্বীকার: আনসারুল্লাহ গণমাধ্যম হামলার দায় স্বীকার করে এবং সৌদি আরবের ইয়েমেনে আগ্রাসনকে ‘বিনা শাস্তিতে পার পাবেনা’ বলে অভিযুক্ত করে।
- 📌 সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতিক্রিয়া: জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি হামলাগুলোকে ‘সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করে এবং জোট ‘সমস্ত প্রয়োজনীয় অভিযানিক পদক্ষেপ’ নেবার সতর্কতা জারি করে।
- 📌 ইয়েমেনে সংঘাত পুনরায় তীব্র: ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সংঘাত আবার শুরু হয়েছে।
- 📌 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য: ২৪শে আগস্ট থেকে ১,০৭৮ জন নিহত বা আহত হয়েছেন এবং বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২১,০০০ জনেরও বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা জ্বালানি খাতের কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। আল জাজিরা ও সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার ভোরে দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনা আক্রান্ত হয় এবং ‘বেশ কয়েকজন নাগরিক ও বাসিন্দা’ আহত হন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বেশ কয়েকটি স্থানে আগুন’ লেগে যায়, যার ফলে ‘কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত’ করতে হয়েছে। দমকল ও অন্যান্য জরুরি দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায়, তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয় এবং আরও আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
হুথির গণমাধ্যম আনসারুল্লাহ হামলার দায় স্বীকার করে এবং সৌদি আরবকে ইয়েমেনে চলমান আগ্রাসনের জন্য দায়ী করে। তারা বলেছে, ‘ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের চলমান আগ্রাসন বিনা শাস্তিতে পার পাবে না’। এর আগে, হুথিরা সৌদি আরবকে অভিযুক্ত করেছিল যে, তারা ইয়েমেনের আল-হাজমের একটি কারাগারে বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত সাতজনকে হত্যা করেছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন জোটের মুখপাত্র জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, হুথিরা আভা, খামিস মুশাইত, জিজান এবং নাজরান প্রদেশের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে। তিনি এই হামলাগুলোকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ এবং সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের ‘প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, এগুলো সৌদি আরবের নাগরিক ও বাসিন্দাদের জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করেছে। জোট এই হামলা মোকাবেলা করতে এবং হুমকির উৎসগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ‘সমস্ত প্রয়োজনীয় অভিযানিক পদক্ষেপ’ গ্রহণ করবে।
ইয়েমেনে ২০১৪ সাল থেকে চলমান সংঘাতের ফলে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু হয়। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি হয়, কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সংঘাত আবার শুরু হয়। জুলাই মাসে সানা বিমানবন্দরে হামলার পর হুথিরা সৌদি আরবের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। সেই মাসের শেষের দিকে, হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা দেয় এবং লোহিত সাগরে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর হামলা শুরু করে।
"ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের চলমান আগ্রাসন বিনা শাস্তিতে পার পাবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সৌদি আরব (দক্ষিণাঞ্চল), ইয়েমেন (আল-জাওফ, আল-হাজম, সানা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি (সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র), হুথি বিদ্রোহীরা (আনসারুল্লাহ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৩ জন আহত, ১,০৭৮ জন নিহত/আহত (২৪শে আগস্ট থেকে), ২১,০০০ জন বাস্তুচ্যুত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!