📌 ইসরাইলের চারটি ইহুদি বিরোধী দল নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য জোট গঠনের আলোচনা শুরু করেছে। তারা নতুন নেসেটের শপথের আগে সরকার গঠনের কৌশল নির্ধারণ করেছে, কিন্তু আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে বাধা রয়েছে
ইসরাইলের বিরোধী দলসমূহ নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হার্জলিয়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে চারটি ইহুদি বিরোধী দলের নেতারা নতুন নেসেটের শপথের আগে সরকার গঠনের কৌশল সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন সম্ভব নয়, যা এখনো অনিশ্চিত রেখে দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসরাইলের চারটি ইহুদি বিরোধী দল (গাদি আইজেনকট, নাফতালি বেনেট, ইয়ার গোলান ও আভিগদর লিবারম্যান) নেতানিয়াহু সরকারকে সরানোর জন্য জোট গঠনের আলোচনা শুরু করেছে।
- 📌 নতুন নেসেটের শপথের আগে সরকার গঠনের কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু নেতানিয়াহুর জোটের ৫৩টি আসন এবং বিরোধীদের ৪৮টি আসনের মধ্যে আরব দলগুলোর ১৯টি আসন ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব নয়।
- 📌 নতুন সরকারের নীতিগুলো হলো: ইসরাইলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার, সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গাজায় তাদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা।
- 📌 বিরোধী দলগুলোর নেতারা ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার পর গঠিত সরকারকে সরিয়ে জাতীয় জরুরি সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে।
- 📌 লিকুদ দলের আইনপ্রণেতা আমির ওহানাকে নেসেটের স্পিকারের পদ থেকে সরিয়ে লাপিদকে স্পিকার করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
- 📌 বিরোধী দলগুলোর নেতারা প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ গাদি আইজেনকটকে দেওয়ার সুপারিশ করেছেন।
- 📌 নির্বাচনের ফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগে নেতানিয়াহু ও লিকুদ পার্টির প্রচারণা ‘বিপজ্জনক ও উন্মত্ত’ বলে সমালোচনা করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ইসরাইলের চারটি ইহুদি বিরোধী দলের নেতারা মঙ্গলবার হার্জলিয়ায় বৈঠকে একমত হয়েছেন যে, নেতানিয়াহু সরকারকে দ্রুত ক্ষমতা থেকে সরানো হবে। তারা দাবি করেছেন, নতুন নেসেটের শপথের আগে সরকার গঠনের কৌশল সমন্বয় করা হবে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন সম্ভব নয়। গত সপ্তাহের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তার জোটের ৫৩টি আসন রয়েছে, অন্যদিকে বিরোধীদের ৪৮টি আসন। আরব দলগুলোর ১৯টি আসন ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সম্ভব নয়।
বৈঠকে গাদি আইজেনকট, নাফতালি বেনেট, ইয়ার গোলান এবং আভিগদর লিবারম্যান দ্রুত নেতানিয়াহু সরকারকে সরানোর অঙ্গীকার করেন। তারা চারটি নীতির ভিত্তিতে নতুন সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। নীতিগুলো হলো: ইসরাইলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার, সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গাজায় তাদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস ও শাসনের অবসান ঘটানো।
বিরোধী দলগুলোর নেতারা ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার পর গঠিত সরকারকে সরিয়ে জাতীয় জরুরি সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, নতুন নেসেটে থাকা স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করেছেন। বৈঠকে বি’ইয়াচাদের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়ার লাপিদও উপস্থিত ছিলেন। নতুন নেসেটের অধিবেশন শুরু হলে বিরোধীদের প্রথম দিকের পদক্ষেপগুলোর মধ্যে লিকুদ দলের আইনপ্রণেতা আমির ওহানাকে স্পিকারের পদ থেকে সরানো উল্লেখযোগ্য। এতে নেতানিয়াহুর বাধার মুখে থাকা কয়েকটি আইন প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
"দ্রুত নেতানিয়াহু সরকারকে সরানোর অঙ্গীকার করেছেন বিরোধী দলের নেতারা। সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই, দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।"
বৈঠকে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ গাদি আইজেনকটকে দেওয়ার সুপারিশের বিষয়েও একমত হন তারা। পাশাপাশি জোট গঠনের আলোচনা এবং নীতিগত নির্দেশিকা তৈরির কাজ অবিলম্বে শুরু করতে নিজেদের আলোচক দলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের ফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নেতানিয়াহু ও লিকুদ পার্টির প্রচারণার সমালোচনা করেছেন বিরোধী নেতারা। তারা বলেছেন, এটি একটি ‘বিপজ্জনক ও উন্মত্ত প্রচারণা’। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় তারা কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
লিকুদ পার্টির অভিযোগ, কাতার বা অন্য কোনো বিদেশি শক্তি গোপনে অর্থ দিয়ে আরব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করেছে এবং নির্বাচনের ফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানালেও তা নাকচ করেছেন নির্বাচন তদারকির দায়িত্বে থাকা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোআম সোলবার্গ।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হার্জলিয়া, ইসরাইল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গাদি আইজেনকট, নাফতালি বেনেট, ইয়ার গোলান, আভিগদর লিবারম্যান, ইয়ার লাপিদ, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৩টি আসন (নেতানিয়াহুর জোট), ৪৮টি আসন (বিরোধী দল), ১৯টি আসন (আরব দল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!