📌 ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি হার নেমে এসেছে। ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি। পড়াশোনা শেষ না করেই ফিরে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ৫০ শতাংশেরও বেশি। টিউশন ফি বৃদ্ধি, সেশনজট, বাংলায় পাঠদান ও অব্যবস্থাপনার কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ হারাচ্ছে। টিউশন ফি বৃদ্ধি, সেশনজট, ভাষাগত অসুবিধা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি। পড়াশোনা শেষ না করেই ফিরে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশেরও বেশি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত মোট ৭২ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও কোর্স সম্পন্ন করেছেন মাত্র ৩৬ জন (৫০ শতাংশ)।
- 📌 ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি।
- 📌 বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ২০ জন বিদেশি শিক্ষার্থী — নেপাল, নাইজেরিয়া, ভারত ও গাম্বিয়া থেকে আসা।
- 📌 স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া ৩১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫ জনের পড়াশোনা অসমাপ্ত রয়েছে (৪৮.৩৯ শতাংশ)।
- 📌 টিউশন ফি বৃদ্ধি, হল ফি প্রায় ছয় গুণ, বাংলায় ক্লাস এবং ইন্টারনেট সমস্যার কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে।
📰 বিস্তারিত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেন সেলের কর্মকর্তা শাহদৎ হোসেন জানান, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নেই। ফরেন সেলের স্থায়ী অফিস না থাকা, লোকবলের সংকট এবং পরিকল্পনার অভাবের কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে। তিনি বলেন, দেশীয় শিক্ষার্থীদের তুলনায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বেশি এবং হল ফি প্রায় ছয় গুণ। হলের মান, আলাদা ডাইনিং ও টিউটরের ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে।
গাম্বিয়া থেকে আসা সালিমা জাল্লে বলেন, ‘আর্থিক চাপ ও জীবনযাত্রার খরচে বিদেশি শিক্ষার্থী কমছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নেই। সংকট কাটাতে মাসিক বৃত্তি, আন্তসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কার্যকর ফরেন অ্যাফেয়ার্স সেলের প্রয়োজন।’
ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মেদ আসাদুজ্জামান জানান, বিদেশি শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির জন্য এখনো কোনো রোডম্যাপ নেই। তিনি বলেন, ভর্তি জটিলতা, বাংলায় পাঠদান ও ইন্টারনেট সমস্যার বিষয়ে আলোচনা হবে শিগগিরই। তবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার সমাধানে নবনির্মিত ভবনে আলাদাভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হবে।
‘আর্থিক চাপ ও জীবনযাত্রার বাড়তি খরচে বিদেশি শিক্ষার্থী কমছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের জন্য যথেষ্ট অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ ও সামাজিকভাবে মিশে যাওয়ার সুযোগও নেই।’ — সালিমা জাল্লে, গাম্বিয়া থেকে আসা শিক্ষার্থী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: শাহদৎ হোসেন (ফরেন সেল কর্মকর্তা), অধ্যাপক ড. মোহাম্মেদ আসাদুজ্জামান (ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের পরিচালক), সালিমা জাল্লে (গাম্বিয়া থেকে আসা শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭২ জন (মোট ভর্তি), ৩৬ জন (কোর্স সম্পন্ন), ৫০ শতাংশ (পড়াশোনা শেষ না করেই ফিরে যাওয়া), ২০ জন (বর্তমান অধ্যয়নরত), ১৫ জন (অসমাপ্ত পড়াশোনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!